Thursday, June 21, 2018

চল্লিশের পর সুস্থ থাকতে যা করবেন

চল্লিশের পরই নাকি জীবন শুরু হয়। সে তো কথার কথা। আসলে চল্লিশে পা দেওয়ার পর নিজের স্বাস্থ্যের খেয়াল রাখাটাই আসল কথা। না হলে সুস্থ থাকবেন কী করে? আর জীবনটাই বা উপভোগ করবেন কী ভাবে?


আসুন জেনে নেই চল্লিশের পর সুস্থ থাকতে যা করবেন।


৪৫ মিনিট হাঁটুন


সব সময়েই ব্যস্ত! হাঁটার সময় একেবারেই পান না। চল্লিশের পর থেকে এই অভ্যাস বদলে ফেলুন। প্রতি দিন অন্তত ৪৫ মিনিট হাঁটুন। এতে মেটাবলিজম বাড়বে। ফলে শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমার হাত থেকে বাঁচবেন।


ডায়াবিটিস বা হার্ট


নিয়মিত শরীরচর্চা ছাড়াও পরিবারের মেডিক্যাল হিস্ট্রির দিকেও এক বার চোখ বুলিয়ে নিন। কম পক্ষে তিন প্রজন্মের মানুষজনের অসুখবিসুখ সম্পর্কে একটা স্পষ্ট ধারণা থাকাটা জরুরি। এ বার তা শেয়ার করুন আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে। তা হলে অন্তত চিকিৎসকের পরামর্শে ডায়াবিটিস বা হার্টের অসুখের মতো বংশগত রোগ সম্পর্কে আগাম ব্যবস্থা নিতে পারবেন।


নিয়মিত হেল্থ চেকআপ


চল্লিশের পর নিয়মিত হেল্থ চেকআপ করানোটা রুটিন করে নিন। মেডিক্যাল চেকআপ-এর পর চিকিৎসকের সুপারিশ মেনে নিজের জীবনশৈলীও বদলে ফেলতে পারেন। এতে বড়সড় অসুখের ঝুঁকি এড়াতে পারবেন।


পার্টি-লেটনাইট-ইটিং


বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে নিয়মিত পার্টি-লেটনাইট-ইটিং আউট করেন? চল্লিশের কোঠা পেরোলে তাতে রাশ টানুন। বরং প্রতি দিনের ডায়েটে পালং শাক, ব্রকোলি, ফুলকপি, টোম্যাটো, অঙ্কুরিত ছোলার মতো ফাইবারযুক্ত খাবার রাখুন।


এতে কোলেস্টরল, ব্লাড সুগার, প্রেসার এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।শেষ কবে নিজের কোমরের মাপ নিয়েছেন মনে পড়ে? বা ওজনের দিকে আদৌ খেয়াল রেখেছেন কি? এ বার থেকে সে দিকে খেয়াল রাখা শুরু করে দিন। ক্যানসার, ডায়াবিটিস, হার্টের অসুখের বিরুদ্ধে তা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কাজে আসবে।


বাংলাদেশ মাদক পাচারের কেন্দ্রভূমিতে পরিণত হয়েছে

পৃথিবীতে যত মারাত্মক সমস্যা রয়েছে, তার শীর্ষে রয়েছে মাদকাসক্তি। একটি পরিবারে বা সমাজে অশান্তি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একজন মাদকাসক্ত ব্যক্তিই যথেষ্ট। বাংলাদেশ পৃথিবীর দুটি বৃহৎ মাদক পাচার রুটের মধ্যে পড়েছে—গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গল (লাওস, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড) এবং গোল্ডেন ক্রিসেন্ট (আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরান)। এ কারণে বাংলাদেশ মাদক পাচারের কেন্দ্রভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, পৃথিবীতে প্রায় ৫০ কোটি মাদকাসক্ত ব্যক্তি রয়েছে। আইসিডিডিআরবির ‘জার্নাল অব হেলথ পপুলেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন (জেএইচপিএন)’–এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা প্রায় ৫০ লাখ। তবে অনেকের দাবি, এটি ৭০ লাখ। আবার অনেকের মতে, দেশে মাদকাসক্তের সংখ্যা কোটির কোঠা ছাড়িয়ে গেছে। জেএইচপিএনের তথ্যমতে আসক্তদের ৭৯.৪ শতাংশ পুরুষ, ২০.৬ শতাংশ নারী; বন্ধুদের প্ররোচনায় মাদক নেয় ৮৫.৭ শতাংশ; মাদক গ্রহণকারীদের ৫৬.১ শতাংশ বেকার বা ছাত্র এবং ৯৫.৪ শতাংশ ধূমপায়ী।


যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ড্রাগ ইনটেলিজেন্স সেন্টারের (এনডিআইসি) জরিপে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের জন্য উৎপাদন ঘাটতি বছরে ১২ হাজার কোটি ডলার; অপরাধসংক্রান্ত ব্যয় ৬১০ কোটি ডলার; ফৌজদারি বিচার খাতে ব্যয় ৫৬০ কোটি ডলার। সার্বিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের জন্য ক্ষতি হয় প্রতিবছর ৮২ হাজার কোটি ডলার। অ্যারেস্টি ড্রাগ এবিউজ মনিটরিং প্রোগ্রামের (এডিএম-২) মতে, গ্রেপ্তারকৃত অপরাধীদের ৬৩-৮৫ শতাংশ মাদকসেবী। ব্রিটিশ পুলিশের তথ্যেও জানা যায়, সে দেশে প্রায় ৫০ শতাংশ অপরাধী মাদকসেবী।


Wednesday, June 20, 2018

হৃদরোগের চিকিৎসায় নতুন দিগন্তের সূচনা করলো জাপান

বিশ্বে প্রতি বছর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে যে পরিমাণ মানুষ মারা যায় তা কমাতে যুগান্তকারী পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। এখন থেকে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের দেহে কৃত্রিমভাবে তৈরি করা কোষ মৃত্যুহার কমিয়ে দিতে সক্ষম হবে।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা স্টেম সেল থেকে তৈরি হৃদকোষ প্রতিস্থাপনে জাপান সরকারের অনুমতির মধ্যে দিয়ে হৃদযন্ত্রের চিকিৎসায় নতুন যুগরে সূচনা করলেন। আগামী ২০১৯ সালের মধ্যে বাজারে আসার সম্ভাবনা রয়েছে এই থেরাপির।

২০০৬ সালে জাপানের অধ্যাপক শিনিয়া ইয়ামানাকা প্লুরিপোটেন্ট স্টেম সেল বা আইপিএস কোষ আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। এরপর প্রায় এক যুগ গবেষণা করে জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক এ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে বিশ্বে ঝড় তুলেছেন।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত মাসে স্টেম সেলের বৈপ্লবিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ ইসচেমিয়া চিকিৎসার জন্য এক প্রজ্ঞাপনে বৈধতা দেয়। পরীক্ষামূলকভাবে গবেষক দল ইতোমধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত তিন জাপানি হৃদরোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন।

ইসচেমিয়া কী?
সাধারণত হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীদের বা ইসচেমিয়ায় আক্রান্ত হলে হৃদপিণ্ডের রক্তনালীগুলো অনেক সরু হয়ে যায়। মূলত কোষে প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম আয়ন মিলে তৈরি হয় প্লাক (কোষের দলাকার বস্তু)। সেটি রক্তনালী বা আর্টারিতে ব্লক বা বাধা প্রদান করে। হৃদপিণ্ড দেহে রক্ত প্রবাহ ঠিক রাখার জন্য চাপ প্রয়োগ করলে এই প্লাকগুলো ভেঙে গিয়ে লোহিত রক্ত কণিকায় মিশে যায়। এই প্লাকগুলো ফের নতুন করে প্লাক তৈরি করে। ফলে রক্তে থাকা অক্সিজেন হৃদপিণ্ড সঞ্চালন করতে ব্যর্থ হওয়ায় কোষগুলো মরে যায়। ফলে হৃদরোগে আক্রান্তে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি ত্বরান্বিত হয়। চিকিৎসার ভাষায় এটাকেই ইসচেমিয়া বলে।

যেভাবে কাজ করবে এই পদ্ধতি:
জাপানে সর্ব প্রথম ওপেন হার্ট সার্জারি (ওএইচএস) চালু হয়েছিল ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলোজি বিভাগে। চিকিৎসাবিদ্যায় জাপানের দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ইয়োশিকি সাওয়া নেতৃত্বে এ গবেষণা শুরু হয়। যদিও প্রাথমিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত কোন রোগীর পা থেকে কিছু কোষ সংগ্রহ করে গবেষণাগারে কোষ উৎপাদন করা হলে বর্তমানে এ কোষটি স্টেম সেল থেকে সংগ্রহ করে কিছু প্রোটিন ইঞ্জিনিয়ারিং করা হয়।

ফলে এই কোষটি হৃদকোষে রূপান্তরিত হয়। আইপিএস কোষ থেকে কিছুদিন পর হৃদকোষের শিট তৈরি হলে আক্রান্ত রোগীর হৃদপিন্ডে তা প্রতিস্থাপন করা হয়। আর সেখান থেকে নতুন কোষ তৈরি করে হৃদরোগে আক্রান্তে ক্ষতিগ্রস্ত কোষগুলোর ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া হয়।

গবেষকদের বক্তব্য:
হৃদপিণ্ডের কোষ প্রতিস্থাপনের অনুমতির পর সম্প্রতি অধ্যাপক ইয়োশিকি সাওয়া সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমরা খুবই আনন্দিত যে, বিশ্বে জাপান সর্ব প্রথম আইপিএস কোষের হৃদরোগ চিকিৎসায় সম্পূর্ণভাবে অনুমোদন পেয়েছে। যদিও ক্লিনিকালি সারা বিশ্বে এ চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করতে আরো এক বছরের মতো সময় লাগবে।

তিনি বলেন, যাদের হৃদরোগে কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা সহজেই এ পদ্ধতি গ্রহণ করে পরিপূর্ণভাবে সুস্থ্ হয়ে উঠতে পারবেন। এই মাসল কোষটি ০.০৫ মিলিমিটার পুরুত্বের, যা থেকে সাইটোকাইন হৃদযন্ত্রে নতুন নতুন রক্তনালী তৈরি করে। তিনি আরো বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে এ পদ্ধতির পর্যবেক্ষণ করেছি। বিভিন্ন ধরণের প্রাণীতে সফলতার পর আমরা ইতোমধ্যে তিনজন মানুষের হৃদপিণ্ডে এই আইপিএস কোষের শিটটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে প্রায় ১০ কোটি কোষ তৈরি হবে।  

প্যারিসের জর্জ পাম্পডিও ইউরোপীয় হাসপাতালের হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ ফিলিপ মেনচে বলেন, হৃদপিণ্ডে কোষ থেরাপির জন্য সত্যি এটি খুব যুগান্তরকারী ভাল কৌশল। 

কিয়েতো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ইয়োশিকি ইও বলেন, বাজারে এই থেরাপি চালু হওয়ার আগে গবেষকদলের অবশ্যই উচিত হবে আরো বেশি বেশি পরীক্ষা করা। আরো বেশি সংখ্যক রোগীর ওপর এর ক্লিনিকাল ট্রায়ালও করা যেতে পারে।

চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে রোগীদের নিজস্ব কোষ:
২০১৫ সালে আমরা প্রাথমিকভাবে রোগীদের পা থেকে কোষ সংগ্রহ করে গবেষণাগারে হৃদকোষ তৈরি করে সফলতা পেলেও কিছু জটিলতায় আমরা তা এগিয়ে যেতে পারিনি। স্টেম সেলে সফলতার পর আমরা অনেকটা নিশ্চিত হয়েছি, রোগীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা কোষ হৃদকোষে রূপান্তিত করা সম্ভব হবে যা চিকিৎসা ব্যয় অনেকাংশ কমিয়ে দেবে।

ক্যান্সার শনাক্তে যুগান্তকারী পরীক্ষা পদ্ধতি আবিষ্কার!

মেডিভয়েস ডেস্ক: অসুস্থ হওয়ার বছরখানেক আগেই রক্তের নতুন এক পরীক্ষায় ১০ ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত করা যাবে বলে দাবি করেছেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা।

যুগান্তকারী এ পরীক্ষা পদ্ধতিতে ক্যান্সারের কারণে সৃষ্ট টিউমার মানবদেহে বিস্তৃত হওয়ার অনেক আগেই এর উপস্থিতি নির্ণয় করা যাবে।

এর ফলে প্রাণঘাতি রোগটির চিকিৎসাপদ্ধতিতে নাটকীয় পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা। এ  খবর জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম ইন্ডিপেন্ডেন্ট।

খবরে বলা হয়, ক্লিভল্যান্ড সেন্টার ইন ওহাইও-র যে গবেষক দল যুগান্তকারী এ পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে কাজ করেছে তাদের দলনেতা ড. এরিক ক্লেইন একে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে ‘হলি গ্রেইল’ হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করেছেন।

এরই মধ্যে এক হাজার ছয়শরও বেশি রোগীর ওপর পরীক্ষা চালিয়ে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে পদ্ধতিটির সফলতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা।

তাদের পরীক্ষায় ৭৪৯ জনের ক্যান্সার নেই বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রোগ ধরা পড়েছে ৮৭৮ জনের।

‘লিকুইড বায়োপসি’ নামের এ পরীক্ষাটিতে অবশ্য ভিন্ন ভিন্ন ক্যান্সারের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মাত্রার সতর্কতা পাওয়া গেছে।

গবেষকরা বলছেন, অগ্নাশয়,ডিম্বাশয়, যকৃৎ ও পিত্তথলির ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রতি ৫ রোগীর ৪ জনেরই রোগ সঠিকভাবে চিহ্নিত করতে পেরেছে এ রোগ।

৭৭ ও ৭৩ শতাংশ ক্ষেত্রে এটি লিম্ফোমা ও মেলোমা ক্যান্সার শণাক্ত করতে পারে। প্রতি তিন রোগীর মধ্যে দুইজনের অন্ত্রের ক্যান্সারও সফলভাবে শণাক্ত করতে পারে এ পরীক্ষা।

৫৯ শতাংশ ক্ষেত্রে সঠিকভাবে নির্ণয় করতে পারে ফুসফুসের ক্যান্সার; মাথা ও ঘাড়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রে এই পরীক্ষার সফলতার হার ৫৬ শতাংশ, বলছেন গবেষকরা।

“বেশিরভাগ ক্যান্সারই একেবারে শেষ পর্যায়ে ধরা পড়ে। কিন্তু এই লিকুইড বায়োপসিতে কারো রোগ ধরা পড়া কিংবা বিস্তৃত হওয়ার কয়েক মাস কি বছর আগেই ক্যান্সার শণাক্তের সুযোগ করে দিচ্ছে,” টেলিগ্রাফকে বলেন এরিক ক্লেইন।

ক্লেইনসহ অন্যন্য গবেষকরা তাদের এ ‘লিকুইড বায়োপসি’ পরীক্ষা পদ্ধতির খুঁটিনাটি আমেরিকান সোসাইটি অব ক্লিনিকাল অনকোলজির বার্ষিক সম্মেলনে উপস্থাপন করবেন। শুক্রবার থেকে শিকাগোতে শুরু হওয়া এ সম্মেলন আগামী ৫ জুন পর্যন্ত চলবে।

ব্যক্তির দেহ থেকে টিস্যু নমুনা নিয়ে করা নতুন এ রক্ত পরীক্ষার ফল দুই সপ্তাহের মধ্যে পাওয়া যাবে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।

Tuesday, June 19, 2018

বিশ্বে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ৬ কোটি ৮৫ লাখ: জাতিসংঘ

যুদ্ধ, অন্যান্য সহিংসতা এবং নির্যাতনের কারণে বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হওয়া মানুষের সংখ্যা ২০১৭ সালে নতুন করে বেড়ে ৬ কোটি ৮৫ লাখে দাঁড়িয়েছে। যা এর আগের বছরের তুলনায় ২৯ লাখ বেশি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) মঙ্গলবার এ তথ্য দিয়েছে। ২০১৭ সালে টানা পঞ্চমবারের মতো বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে বলে বিশ্ব শরণার্থী দিবসের প্রাক্কালে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সংস্থাটি।


প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৭ সালের শেষ দিকে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা তার আগের বছরের তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ বেড়ে যায়। যা এক দশক আগে বাস্তুচ্যুত হওয়া ৪ কোটি ২৭ লাখ মানুষের চেয়ে ৫০ শতাংশ বেশি।

বাস্তুচ্যুত মানুষের বর্তমান এ পরিসংখ্যান গোটা থাইল্যান্ডের জনসংখ্যার সমান।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাই কমিশনার ফিলিপো গ্র্যান্ডি বলেন, ‘আমরা এক সন্ধিক্ষণে আছি, যেখানে বিশ্বব্যাপী বাস্তুচ্যুত হতে বাধ্য হওয়া মানুষদের সফল ব্যবস্থাপনার জন্য দরকার নতুন এবং আরো ব্যাপক ভিত্তিক পদক্ষেপ যাতে দেশ এবং জনসমষ্টিকে এ সমস্যা একা সামাল দিতে না হয়।”

 বাস্তুচ্যুত এই মানুষদের প্রায় ৭০ শতাংশই ১০ টি দেশ থেকে এসেছে বলে জেনেভায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন তিনি।

Wednesday, June 13, 2018

ফের তথ্য শেয়ার করায় ফেসবুকের কাছে জবাব চেয়েছে ভারত

মোবাইল প্রস্তুতকারক কোম্পানীদের সঙ্গে ফের তথ্য শেয়ার করায় এবার ফেসবুকের কাছে জবাব চাইল ভারত। ভারতের ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আগামী ২০ জুনের মধ্যে এই সংক্রান্ত বিষয়ে জবাব চেয়ে পাঠিয়েছে ফেসবুকের কাছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী (সিউও)মার্ক জুকেরবার্গের কাছে লিখিত চিঠিতে তথ্য শেয়ার নিয়ে জবাব চেয়েছে ভারতের তথ্য মন্ত্রণালয়।

এর আগে মার্ক জুকেরবার্গ স্বীকার করেছিলেন ফেসবুক থেকে তথ্য শেয়ারের কথা। দেশটির ইলেকট্রনিক্স ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মতে প্রায় ৬০টি ভিন্ন মোবাইল কোম্পানিকে তথ্য শেয়ার করেছে ফেসবুক। এর মধ্যে আছে- অ্যাপল, স্যামসাং, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং ব্লাকবেরি।

এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১০ বছরে ফেসবুক বিভিন্ন মোবাইল কোম্পানির সঙ্গে তথ্য শেয়ারের ব্যবসা করেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, মানুষের মতামত ছাড়াই তাদের মোবাইলে থাকা তথ্য মোবাইল কোম্পানিগুলিকে শেয়ার করেছে ফেসবুক। এমনকি কোনো তথ্য অনুমতি ছাড়া নেওয়া হবে না এই অফিসিয়াল ঘোষণা করার পরেও ফেসবুক মোবাইল কোম্পানিগুলোকে তথ্য সরবরাহ করেছে।

এর আগেও ক্যামব্রিজ অ্যানালায়টিকা কেসে ফেসবুকের কাছে জবার চেয়েছিল ভারত সরকার। সে সময় ফেসবুক ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিল। তখনও ফেসবুক কথা দিয়েছিল, মানুষের ডেটা ও ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার সঙ্গে গোপন রাখবে ফেসবুক।

Monday, June 11, 2018

রিফাইন্ড’ চিনিতে যেসব ক্ষতি হচ্ছে আপনার


বাজার থেকে যে চিনি কিনে আমরা খাই, তা একেবারেই প্রাকৃতিক নয়। সারফার ডাইঅক্সাইড, ফসফরিক অ্যাসিড, রয়েছে এতে।

রিফাইন্ড সুগার খেলে, গুড কোলেস্টেরল কমে যায়, যা ‘ব্যাড’ কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

এছাড়া চিনি খলে ব্রেনের ‘ফিল গুড’ সেরোটোনিন-এর মাত্রা বেড়ে যায়। এবং শরীর থেকে চিনি বেরিয়ে গেলে অবসাদগ্রস্থ হয় শরীর। খবর এবেলা।

আসুন জেনে নেই ‘রিফাইন্ড’ চিনিতে যেসব ক্ষতি হচ্ছে আপনার।

চামড়া কুঁচকে যায়

রিফাইন্ড সুগার খেলে, ত্বকের ‘ইলাস্টিসিটি’র ক্ষতি হয়। যে কারণে বয়সের আগেই চামড়া কুঁচকে যায়।

ওজন বাড়ে

শরীরে বেশি চিনির পরিমাণ ইনসুলিন কোষের ক্ষতি করে। ফলে ওজন বেড়ে যায়।

লিভারের জন্য ক্ষতিকারক

রিফাইন্ড সুগারে ফ্রুকটোজ থাকে, যা হজম করাতে সাহায্য করে শুধু লিভার। কিন্তু, বেশি পরিমাণে ফ্রুকটোজ ফ্যাটে পরিণত হয়, যা লিভারের জন্য ক্ষতিকারক।

ব্রেস্ট ক্যানসার

রিফাইন্ড সুগার খেলে ব্রেস্ট, কোলোন, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

এছাড়া রিফাইন্ড সুগার রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হারায়।

হাড় ও দাঁতের ক্ষতি

রিফাইন্ড সুগার শরীরের সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম ও ক্যালসিয়াম বের করে দেয়। এর ফলে, হাড় ও দাঁতের ক্ষতি হয়।

Sunday, June 10, 2018

ফের বিতর্কের মুখে ফেসবুক

তথ্য কেলেঙ্কারির রেশ কাটতেই না কাটতে আবারও বিতর্কের মুখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক।  নতুন করে ধরা পড়ল সাইটের একটি ত্রুটি। আর ফেসবুক কর্তৃপক্ষ নিজেই সেকথা স্বীকার করে নিয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার ফেসবুক জানিয়েছে, সম্প্রতি মে মাসে ফেসবুকে একটি ‘বাগ’(প্রোগামিংয়ে ত্রুটি) দেখা দেয়, যা কিনা প্রায় ১৪ মিলিয়ন (‌১ কোটি ৪০ লক্ষ) ব্যবহারকারীকে তাদের সবধরনের পোস্টকে ‘পাবলিক’ করতে বলে। অনেকেই ভাবেন এটা হয়ত ফেসবুকের নির্দেশ। কিন্তু মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা জানিয়েছে,ফেসবুক কখনই এ ধরনের কোনও নির্দেশ দেয়নি। এটা আসলে একটি বাগ ছিলো।

এই প্রসঙ্গে ফেসবুকের এক আধিকারিক এরিন এগান জানান,‘আমরা সম্প্রতি একটি ‘বাগ’–এর খোঁজ পেয়েছি। যা নিজে থেকেই ফে‌‌সবুক পোস্টকে ‘পাবলিক’ করতে ব্যবহারকারীদের নির্দেশনা দিয়েছিল। মোট ১৪ মিলিয়ন ব্যবহারকারী এই নির্দেশ পেয়েছেন। গোটা ব্যাপারটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আমরা ওই ব্যবহারকারীদের এই বিষয়ে ইতিমধ্যে জানানো শুরু করেছি। তারা যদি ওই সময়ে কোনও পোস্ট করে থাকেন, সেটিও আরেকবার দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিতে শুরু করেছি।‌’

এরপরই টুইটারেও একটি পোস্ট করে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ জানায়,‘এই সময় কোনো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত পোস্টকে পাবলিক করা হয়নি। বাগটি কেবলমাত্র আগের পোস্টের অডিয়েন্স সেটিং পরিবর্তন করার কথা বলেছিল। কিন্তু পোস্ট করার পর কিছু হয়নি।’

পাশাপাশি আরও বলা হয়েছে,এই বাগটির জন্য ফেসবুক পোস্টে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা আরও জানায়,একটি নতুন ফিচার আনার সময় সামান্য কিছু ভুলের কারণেই এই বাগটি দেখা দিয়েছিল।‌‌

Friday, June 8, 2018

এবার স্কুলের প্রাঙ্গণে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করল ফ্রান্স

আগামী সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল প্রাঙ্গণে মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না ফরাসি শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশটির সংসদে পাস হওয়া এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন সংসদ সদস্যরা।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়,  দেশটির সংসদের এক ভোটে ‘ডেটোক্স’ নামে একটি আইন পাস হয়। যেখানে যুব সমাজকে স্ক্রিনের আসক্ত থেকে দূর করতেই ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রনের নির্বাচনী প্রচারণা অঙ্গীকার হিসেবে এই ভোটের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২০১০ সালে পাস করা আইনে শিশুদের কেবল শ্রেণিকক্ষে ফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে নতুন এই আইনে শিক্ষার্থীরা স্কুলের প্রাঙ্গণে, টিফিনের ফাঁকে কিংবা স্কুলে থাকাকালীন মোবাইল ফোন ব্যবহার করতে পারবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে নির্বাচনী প্রচারণার সময় ম্যাক্রন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ১৫ বছর বয়সের আগ পর্যন্ত নার্সারি,প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুলের শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করবেন।

সংসদে ভোটের সময় বিপক্ষ দলের কর্মীদের অনেকেই শিক্ষক ও কর্মচারীদেরকেও স্কুলে প্রাঙ্গণে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের আওতায় আনার প্রস্তাব করেন। এতে প্রতিদিন সকালে কর্তৃপক্ষের কাছে মোবাইল জমা দিয়ে এবং ক্লাস শেষে তা নিয়ে যাবেন বলে প্রস্তাব রাখেন তারা।

তবে সব বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দেশটির শিক্ষা মন্ত্রী জন মিশেল ব্লনক জানান, শিক্ষক ও কর্মচারীদের ক্ষেত্রে এ আইন প্রযোজ্য নয়। শিশুরা চাইলে স্কুলের লকারে তাদের ফোনগুলো রেখে শ্রেণিকক্ষে যেতে পারে বলে ভোটের আগে শিক্ষা মন্ত্রী ব্লনক প্রস্তাব রাখেন। তবে বেশিভাগ স্কুলগুলোতে ব্যয়বহুল লকারের ব্যবস্থা সম্ভব নয় বলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান।

দেশটির রাজনীতিবিদরা জানান, ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ৯০ শতাংশ শিশুর নিজস্ব মোবাইল ফোন রয়েছে।

জাম বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ

জাম গ্রীষ্মকালের একটি জনপ্রিয় ফল। জাম বিভিন্ন ধরণের পুষ্টি উপাদানে সমৃদ্ধ এবং স্বাস্থ্যের জন্যও অনেক উপকারী। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, আকারে ছোট হলেও জামের ভেতরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় পুষ্টিকর উপাদান। সেই সঙ্গে রয়েছে উপকারি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ব্রেন পাওয়ার বাড়ানোর পাশাপাশি ক্যান্সারের মতো রোগকে দূরে রাখতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। 


সুস্বাদু ফলটিকে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে আরও অনেক শারীরিক উপকার পাওয়া যায়। জীবনধারা বিষয়ক ওয়েবসাইট বোল্ডস্কাই জানিয়েছে সেই উপকারিতাগুলো।

১. ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়

এই ফলটিতে উপস্থিত অ্যান্থোসায়ানিন এবং ভিটামিন সি একদিকে যেমন ডি এন এ-এর যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখে। তেমনি ত্বকের ভেতরে কোলাজেনের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয়। ফলে ত্বকের বয়স কমতে শুরু করে। আর এমনটা যখন হয়, তখন বলিরেখা তো অদৃশ্য হয়ে যায়ই, সেই সঙ্গে ত্বকের সৌন্দর্যও বৃদ্ধি পায়।

২. রোগমুক্ত রাখে

শরীরের ভেতরে সৃষ্টি হওয়া ব্যথাজনিত রোগের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। একাধিক গবেষণায় প্রমাণিত, ক্রনিক ইনফ্লেমেশনের কারণে শরীরে একে একে নানা রোগ বাসা বাঁধতে শুরু করে। যেমন ধরুন, ক্যান্সার, হার্টের রোগ, ডিপ্রেশন প্রভৃতি। এক্ষেত্রে জাম নিয়মিত খেলে শরীরে অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি প্রপাটিজের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।

৩. অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ঘাটতি দূর হয়

সারা দিন ধরে বিভিন্নভাবে নানা ক্ষতিকর টক্সিন আমাদের শরীরে প্রবেশ করে থাকে। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে ঠিক সময়ে এসব টক্সিক উপাদানদের যদি শরীর থেকে বের করে দেওয়া না যায়, তাহলে একদিকে শরীরের ভেতরে ক্যান্সার সেলের জন্ম নেওয়ার আশঙ্কা যেমন বৃদ্ধি পায়, তেমনি শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি হয়। এই কারণেই তো নিয়মিত জাম খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। কারণ এই ফলটির অন্দরে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, টক্সিক উপাদানদের খুঁজে খুঁজে শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে জটিল কোনও রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

৪. হাড় মজবুত করে 

জামের ভেতরে রয়েছে প্রচুর মাত্রায় ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস এবং ভিটামিন কে। এই সবকটি উপাদানই হাড়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৫. ওজন কমায়

যারা ওজন কমাতে বদ্ধপরিকর, তারা আজ থেকেই এক বাটি করে জাম খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন অতিরিক্ত ওজন কমতে একেবারেই সময় লাগবে না। কারণ এই ফলে রয়েছে প্রায় তিন দশমিক ছয় গ্রাম ফাইবার, যা অনেকক্ষণ ধরে পেটকে ভরিয়ে রাখে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই বারবার খাওয়ার প্রবণতা কমে যায়। আর খাবার কম খেলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালরি প্রবেশের আশঙ্কাও হ্রাস পায়। ফলে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা একেবারে কমে যায়।

৬. হজম ক্ষমতার বাড়ায়

প্রতিদিন জাম খেলে শরীরের ভেতরে ফাইবারের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। যা হজম শক্তির বাড়ানোর পাশাপাশি কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো রোগের চিকিৎসাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।

৭. মস্তিষ্কের ধারণ ক্ষমতা বাড়ায়

জীবনে সফল হতে গেলে বুদ্ধির তেজ বাড়ানো ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। এই কারণেও কিন্তু প্রতিদিন জাম খাওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ২০১৬ সালে ইউরোপিয়ান জার্নাল অব নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত এক গবেষণা পত্র অনুসারে জামে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, টক্সিক উপাদান যা ব্রেনকে রক্ষা করে। ফলে বয়স বাড়লেও তার ছাপ পরে না মস্তিষ্কের উপর। সেই সঙ্গে কগনেটিভ পাওয়ার বেড়ে যাওয়ার কারণে বুদ্ধি এবং স্মৃতিশক্তিও বাড়তে শুরু করে। এই কারণেই জামকে চিকিৎসকেরা ‘ব্রেন ফুড’ বলেন।

৮. হার্ট ভালো রাখে

এই ফলটিতে উপস্থিত একাধিক উপকারি উপাদান একদিকে যেমন রক্ত চাপকে স্বাভাবিক রাখে, তেমনি রক্তে উপস্থিত খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রাও কমায়। ফলে হার্টের কোনো ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

Thursday, June 7, 2018

যেভাবে চিনবেন ফরমালিনযুক্ত আম 



বাজারে এখন হাত বাড়ালেই পাওয়া কাঁচা-পাকা আম। ইফতারিতে ফলের আইটেম ও ফলের জুস বানাতে অনেকেই রাখেন আম। তবে একটা বিপদ আছেই।

সেটা হলো বেশিদিন টিকিয়ে রাখার জন্য আমের মধ্যে ফরমালিনসহ অন্যান্য ক্ষতিকারক রাসায়নিক পদার্থ মেশানো।

ফরমালিন যুক্ত আম খেলে কিডনি, লিভার ও বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ নষ্ট, বিকলাঙ্গতা, এমনকি মরণব্যাধি ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে।

চলুন জেনে নেই বাজারের আমের কোন কোন লক্ষণ দেখে বুঝবেন এতে ফরমালিন আছে কিনা।

রঙ

রঙ দেখেও চেনা যায় ফরমালিনযুক্ত আম। প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমে হলুদ এবং সবুজের একটা মিশেল থাকবে। অনেক সময় কাঁচাপাকা রঙেও দেখা যায়।

আবার আমার গায়ে সাদাটে ভাব ও কালো কালো দাগ থাকবে। কিন্তু ফরমালিনসহ অন্যান্য কেমিকেল দিয়ে পাকানো আমগুলো দেখতে সম্পূর্ণ হলুদ হবে। দেখতে খুব সুন্দর ও চকচকে হবে। কোন দাগ থাকবে না।

ভেতরের শাস

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম কাটলে এর ভেতরের শাসটি হবে লালচে হলুদ রঙের কিন্তু ফরমালিন যুক্ত আমের ভেতরের অংশটি হবে হালকা অথবা গাঢ় হলুদ রঙের। এর মানে হলো বাইরে থেকে আমটি পাকা দেখালেও ভেতরটি পাকা নয়।

আমের রস

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আম বেশ মিষ্টি হয় এবং এতে অনেক বেশি রস থাকে। কিন্তু ফরমালিনযুক্ত আমে রস অনেক কম থাকে। ভেতরটা পাকা থাকে ঠিকই কিন্তু রস কম বের হয়।

আমের বোটায় সুঘ্রাণ

প্রাকৃতিকভাবে পাকা আমের বোটায় সুঘ্রাণ থাকবে কিন্তু ফরমালিনযুক্ত আমের বোটায় কোনও ঘ্রাণ থাকবে না। তাই কেনার আগে গন্ধ শুকে নিতে পারেন।

আমে মাছি বসবে

ফরমালিনমুক্ত আম মুখে দিলে টক মিষ্টি স্বাদ পাওয়া যাবে। এছাড়াও এসব আমে মাছি বসবে। কিন্তু ফরমালিনযুক্ত আমে তেমন কোনও স্বাদ পাওয়া যাবে না। এগুলোতে মাছিও বসে না। চিকিৎসকরা বলেন, ফরমালিনযুক্ত আম খেলে মুখের ভেতর হালকা জ্বালাপোড়া করতে পারে। কারো কারো পেটে ব্যথা, গলা জ্বলা ও ডাইরিয়াও হতে পারে।

Wednesday, June 6, 2018

সাইবার ক্রাইমের ফাঁদে তরুণীরা

মেয়েটির কাছে বিষয়টি ছিল অকল্পনীয়। যাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেছিলেন, ভালোবেসেছিলেন সে আসলে প্রতারক। দিদার মুন্সীর প্রতারণার ফাঁদে পড়ে জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে মেয়েটির। কৌশলে বন্ধুত্ব, প্রেম। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও চিত্র ধারণ। মেয়েটির তা বুঝতে অনেক সময় লেগে যায়। ভিডিও ভাইরালের হুমকি দেয় প্রতারক প্রেমিক। শেষ পর্যন্ত মেয়েটি আশ্রয় নেয় সাইবার ক্রাইম ইউনিটের। গ্রেপ্তার করা হয় দিদার মুন্সীকে। শুধু এই মেয়েটিই নয়, দিদার মুন্সীর প্রতারণার শিকার হয়েছেন এমন আরো অনেকে।
রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র বখতিয়ারের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয় ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ুয়া এক ছাত্রীর। বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান ওই ছাত্রীর সঙ্গে পরিচয়ের এক পর্যায়ে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে সে। ওই ছাত্রীকে দিয়েই তার নগ্ন ছবি তোলায় বখতিয়ার। পরে ওই ছবি ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ছাত্রীর কাছ থেকে হাতিয়ে নেয় ১২ ভরি স্বর্ণ। ছাত্রীর অভিভাবকের অভিযোগের ভিত্তিতে মোহাম্মদপুরের বাসা থেকে বখতিয়ারকে আটক করে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। পরে তার ল্যাপটপ থেকে এরকম একাধিক মেয়ের নগ্ন ছবি উদ্ধার করা হয়।
বেসরকারি একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করার পর গত ৩ মাস আগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে বিয়ে হয় মেয়েটির। আগে থেকেই ফেসবুকে একটি একাউন্ট ছিল। বিয়ের এক সপ্তাহ পর মেয়েটির নামে আরেকটি একাউন্ট খুলে নানা ধরনের অশ্লীল ছবি পোস্ট করা শুরু হয়। পরিচিতদের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরে মেয়েটি মুষড়ে পড়ে। ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয় সংসার। পরে এক বন্ধুর পরামর্শে স্বামীকে কোনোভাবে রাজি করিয়ে পুলিশের শরণাপন্ন হয়। দেড় মাসেরও বেশি সময় চেষ্টা করে পুলিশ ভুয়া আইডি বানানো ব্যক্তিকে শনাক্ত করে। তিনি ওই মেয়েটির বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘনিষ্ঠ এক বন্ধু। এসব করার কারণ হিসেবে তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থেকেই তাকে অনেক পছন্দ করে, কখনো বলতে পারেনি। কিন্তু বিয়ে হওয়ার খবর জানার পর সে মেনে নিতে পারছে না। তাই সে বিয়ে ভাঙার চেষ্টা করছিল।
প্রযুক্তির উৎকর্ষের এই সময়ে নারীরা শিকার হচ্ছেন এমন অসংখ্য সাইবার ক্রাইমের। যার একটি বড় অংশই প্রকাশ্যে আসছে না। ২০১৭ সালে রাজধানীতে সাইবার অপরাধের ঘটনায় মামলা হয়েছে ২৪৬টি। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ২২১; ২০১৫ সালে ১৬৯টি। ইন্টারনেট এবং স্মার্টফোনের ব্যবহার যত বাড়ছে তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সাইবার অপরাধ। সাধারণত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ অন্যান্য মাধ্যমগুলোয় এই অপরাধের প্রবণতা বেশি। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী নারীরা। সাইবার অপরাধের শিকার হওয়াদের ৪৪ শতাংশই মনে করেন-সাইবার অপরাধীদের তাৎক্ষণিকভাবে শাস্তি দেয়া গেলে দেশে সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব। বাকিদের মধ্যে ২৯ শতাংশের পরামর্শ হলো আইনের প্রয়োগ বড়ানো। ২৭ শতাংশ সচেতনতা গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। সাইবার অপরাধের শিকার প্রায় অর্ধেকের বেশি মানুষ আইনি সহায়তা নেন না। সাইবার ক্রাইম অ্যাওয়ারনেস ফাউন্ডেশনের এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ২ বছর ধরে ব্যক্তি পর্যায়ে ভুক্তভোগীদের প্রশ্নোত্তরের মাধ্যমে দক্ষ পর্যালোচনা এবং তাদের মতামতের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। এতে ১৩৩ জন ভুক্তভোগীকে ৯টি প্রশ্ন করা হয়। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৬০ দশমিক ৯০ শতাংশ ব্যবহার করে থাকেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক। যা দেশের মোট জনসংখ্যার ২ দশমিক ১৫ ভাগ। এই ব্যবহারকারীদের বিশাল অংশ তরুণ, যাদের বয়স ১৮-২৪ বছর। ৭৮ শতাংশ পুরুষ ও ২৪ শতাংশ নারী। তবে অসচেতনতার কারণে সাম্প্রতি এই মাধ্যমটি ব্যবহারকারীদের সাবচেয়ে বেশি অনিরাপদ হয়ে উঠছে। ফলে এদের একটি বড় অংশ সহজেই দেশের ভেতর ও বাইরে থেকে সাইবার হামলার শিকার হচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী মেয়েরা। 

ভুক্তভোগীদের মধ্যে ১৮ বছরের কম ১০ দশমিক ৫২ শতাংশ, ১৮ থেকে ৩০ বছরের কম ৭৩ দশমিক ৭১ শতাংশ, ৩০ থেকে ৪৫ বছর ১২ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং ৪৫ বছরের বেশি ৩ শতাংশ। অ্যাকাউন্ট জাল ও হ্যাক করে তথ্য চুরির মাধ্যমে অনলাইনে সবচেয়ে বেশি অনিরাপদ বাংলাদেশের নারীরা। অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্টে অপপ্রচারের শিকার হন ১৪ দশমিক ২৯ শতাংশ নারী। একই ধরনের অপরাধের শিকার হন ১২ দশমিক ৭৮ শতাংশ পুরুষ। গবেষণা জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ২১ শতাংশের মধ্যে ৭ শতাংশ ভুক্তভোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে নালিশ করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। আর ২৩ শতাংশ আইনি ব্যবস্থা নিয়ে উল্টো হয়রানির ভয়ে পুরো বিষয়টিই চেপে যান। অন্যদিকে সামাজিক ভাব মর্যাদা রক্ষায় পুরো বিষয়টি গোপন রাখেন ১৭ শতাংশ এবং প্রভাবশালীদের ভয়ে নিশ্চুপ থাকেন ৫ শতাংশ ভুক্তভোগী। তবে শঙ্কার কথা হচ্ছে অভিযোগ করেও আশানুরূপ ফল পাননি ৫৪ শতাংশ ভুক্তভোগী। অবশ্য ৭ শতাংশ ভুক্তভোগী ফল পেলেও ৩৯ শতাংশই এ বিষয়ে নীরবতা পালন করেছেন। আর ৩৭ দশমিক ৬১ শতাংশ ভুক্তভোগী প্রতিকারের জন্য প্রণীত তথ্যপ্রযুক্তি আইন সাম্পর্কে জানেনই না। গবেষণায় বলা হয়, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে এই ধরনের অপরাধ বেড়ে যাচ্ছে। সাইবার অপরাধের ব্যাপারে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার পাশাপাশি নারীর প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে পরিবারকেই এগিয়ে আসতে হবে। নারীদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে তাদের সামাজিক দক্ষতা বড়ানো গেলে এ ধরণের অপরাধ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক, গবেষক ফাহমিদুল হক বলেন, সাইবার ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত পুরুষদের সাধারণ টার্গেট হয় ২০ বা তার আগে থেকে শুরু করে ৩০ বছর বয়সী নারীরা। এই বয়সী অধিকাংশ নারীরা ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম ইত্যাদি ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে নারীরা যে ভুলটি করে থাকে সেটা হচ্ছে তারা ফেসবুকের যে কোন ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টের প্রোফাইল ভালোমতো চেকআউট না করে সঙ্গে সঙ্গে রিসিভ করে থাকে। আইডিটা রিয়েল নাকি ফেইক সেটা তারা যাচাই বাচাই করার প্রয়োজন মনে করে না। কারণ, তাদের টার্গেট ৫ হাজার ফেসবুক ফ্রেন্ড পূরণ করতে হবে। না হলে তাদের প্রেস্ট্রিজ থাকে না। এছাড়া ফেসবুক ব্যবহারকারী অধিকাংশ নারীই তাদের ফেসবুক বা ব্যক্তিগত ইমেলের প্রাইভেসি বা সিকিউরিটির বিষয়ে খুব একটা সচেতন না। ফলে ফেসবুক ব্যবহারকারী কোনো পুরুষ চাইলেই তার ছবি ডাউনলোড করে ওই ছবি দিয়ে নানান ধরনে অপরাধমূলক কাজ করতে পারে। এছাড়া ফেসবুক এখন অনেকটা ওপেন বুকের মতো। ফলে ওপেন বুক পেলে সবাই যেমন কাটাকুটি করতে চায়। একইভাবে ওপেন বা কম প্রাইভেসি সম্পন্ন ফেসবুক পেলে যে কেউ সেটাতে ঢুঁ মারতে চাইবে। কাজেই ভার্চুয়াল প্রেস্ট্রিজের কথা না ভেবে, অনলাইনে বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যাকে নির্ভরযোগ্য মনে হবে কেবল তাকেই বন্ধু হিসেবে রিসিভ করতে হবে। সাইবার ক্রাইম রোধে বিটিআরসি, সাইবার ক্রাইম ইউনিটসহ সরকারকে বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। 

মানবাধিকার আইনজীবী সালমা আলী বলেন, মেয়েরা ফেসবুকে কে আসল কে নকল সেটা যাচাই বাচাই না করে খুব বেশি খোলামেলা ভাবে ভার্চুয়ালি মিশে থাকে। এভাবেই একটু একটু করে তারা ফাদে পা দেয়। একজন টিনএজার গার্মেন্ট কর্মীও আজকাল স্মার্ট ফোন ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে। অথচ ফেসবুকের সিকিউরিটি বা প্রাইভেসির বিষয়ে সে কিন্তু মোটেও সচেতন নয়। একই সঙ্গে বর্তমান যুগের বাবা মা এত বেশি ব্যস্ত থাকে যে তাদের সন্তান কি করছে সে বিষয়ে খেয়াল রাখে না। কিছু কিছু ক্ষেত্রে অজ্ঞতা ও অতি আহলাদের জায়গা থেকে সন্তানদের হাতে এই বয়সেই একটি আইফোন ধরিয়ে দিয়ে দায় মুক্ত হয়। অথচ ১৮ বছর বয়সের নিচে সন্তানের হাতে যে ফোন দেয়া ঠিক না সেটা তারা একবারও ভেবে দেখে না। এক্ষেত্রে মা বাবাকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে। একইসঙ্গে সাইবার ক্রাইমের শিকার নারীরা কোথায় মামলা করতে বা অভিযোগ করতে হবে সেটাও জানে না। ফলে তারা থানা, পুলিশ সর্বত্রই হয়রানির শিকার হয়। এখান থেকে বেরিয়ে আসতে হলে মেয়েদের আরও বেশি সাবধান ও সচেতন হতে হবে। স্কুল কলেজ পর্যায়ে সচেতনা তৈরি করতে হবে। 

লিগ্যাল এইড সার্ভিস (ব্লাস্ট) এ কর্মরত আইনজীবী শারমিন আক্তার বলেন, এই বয়সের মেয়েদের পরিপক্বতা কম থাকায় তারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, টুইটারে ইমোশনালি ফেক আইডির ট্রাপে পড়ে যায়। তারা যুগের সঙ্গে তাল মিলাতে গিয়ে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিওসহ অনেক কিছুই না বুঝেই শেয়ার করে থাকে। এমনকি তারা ফেসবুক, টুইটার বা ই-মেইলের প্রপার সিকিউরিটি সম্পর্কে জানে না। এক্ষেত্রে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন, পারিবারিক সচেতনতা। বিশেষ করে বাবা মাকে বেশি সচেতন হতে হবে। প্রত্যেক বাবা মা কে তার নিজ সন্তানের প্রতি অনেক বেশি শেয়ারিং এবং কেয়ারিং হতে হবে। 

Tuesday, June 5, 2018

উইঘুরদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে চীন

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে উইঘুরদের নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে কঠোর অবস্থানে রয়েছে চীন। সেখানে প্রযুক্তি ব্যবহার করে যে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা গেছে, তা কিন্তু চীনের অন্যান্য প্রদেশে প্রয়োগ করা কঠিন। এর কারণ হচ্ছে এখানকার উইঘুর সম্প্রদায়কে পুরো জনগণের তুলনায় সহজে আলাদা করা যায়—এমন চাপ দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা সহজ। এর ফলেই সেখানে কঠোর পুলিশি রাষ্ট্র করতে পেরেছে চীন। কিন্তু আশঙ্কার বিষয় হচ্ছে চীনের এই ব্যাপক নজরদারির মডেলটিই এখন অনেক স্বৈরশাসকের পছন্দের বিষয় হয়ে উঠতে পারে। রাশিয়া থেকে রুয়ান্ডা কিংবা তুরস্কে এর প্রয়োগ দেখা দিতে পারে। তারা প্রয়োজনীয় হার্ডওয়্যার কিনে ব্যাপক নজরদারি শুরু করতে পারে। স্বৈরশাসকের পক্ষে ব্যাপক নজরদারি করা সম্ভব হলেও উদারতান্ত্রিক দেশগুলোতে এ মাত্রায় নজরদারি কঠিন হবে বলে ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


ডিজিটাল নজরদারির বিষয়টি মানুষকে প্রথম হতবাক করেছিল ১৯৮৯ সালে পূর্ব জার্মানি ভেঙে যাওয়ার সময়েই। ওই সময় জার্মানির নিরাপত্তার সংস্থা স্ট্যাসির জোগাড় করা তথ্যের পরিমাণ দেখে মানুষ থ বনে গিয়েছিল। এরপর থেকে ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের বিষয়টি নজরদারিতে রূপান্তরিত হয়েছে। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের বিষয়টি ব্যাপক আকারে বেড়ে গেছে। স্ট্যাসি যা করত, তার তুলনায় এখনকার স্বৈরশাসকেরা আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।


ডিজিটাল নজরদারির ক্ষেত্রে শুধু চীন নয়, পশ্চিমাদেরও অবস্থান স্বচ্ছ নয়। তাদের নিজের দিকটা দেখা উচিত। পশ্চিমা দেশগুলোর গোয়েন্দা সংস্থা বা পুলিশ বাহিনীর হাতে স্ট্যাসির চেয়েও বিশাল তথ্যভান্ডার আছে। এখনকার কর্মকর্তারা চাইলে মানুষের যোগাযোগসংক্রান্ত সব তথ্য হাতে পেয়ে যান। মানুষ কোথায় যায়, কী করে, সব তাদের নখদর্পণেই থাকে। প্রশ্ন উঠছে এত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি কৃত্রিম বুদ্ধিমান সফটওয়্যারগুলোর ব্যবহার নিয়ে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে ‘আইজেওপি’র মতোই অপরাধী শনাক্তকরণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ হচ্ছে। এতে সম্ভাব্য অপরাধী সম্পর্কে যেমন ধারণা করা যায়, তেমনই এটি অপব্যবহারের আশঙ্কাও আছে। কারণ, শত শত মার্কিন পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে অনৈতিক কাজের অভিযোগ রয়েছে।


চীনের দিকে দৃষ্টি ফেরালে দেখা যাবে, সবচেয়ে বেশি নজরদারি আর হয়রানির শিকার উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষ। ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড্যারেন বাইলার উইঘুর সম্প্রদায় নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি হাসান নামের এক উইঘুর যুবকের বক্তব্য রেকর্ড করেন। হাসান বলেন, ২০১৫ সালে তাঁর বয়স ছিল ২৩। চীনের সামাজিক মেসেজিং গ্রুপ উইচ্যাটে একটি ধর্মীয় বিষয় শেয়ার করেছিলেন তিনি। জিনজিয়াংয়ের ইয়ারকান্ড নামের একটি শহরে জন্ম তাঁর। পরে তিনি কাজের জন্য প্রাদেশিক রাজধানী উরুমচিতে চলে যান এবং ইসলাম নিয়ে আরও জানার চেষ্টা করেন। তিনি ধর্মভীরু যুবক। স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। তিনি নাচ ও অমানবিক আচরণ সমর্থন করতেন না।


উরুমচির পিপলস স্কয়ারে ঢোকার আগে নিরাপত্তা বাহিনীর অনুমোদন নিতে হচ্ছে নারীকে। ২০০৯ সালের সেপ্টেম্বরে তোলা। ছবি: রয়টার্স


২০১৫ সালের ডিসেম্বরে প্রাদেশিক সরকারের পক্ষ থেকে সবাইকে স্থায়ী ঠিকানা থেকে নতুন পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে বলা হয়। হাসান বলেন, তাঁকে জোর করেই ফেরত পাঠানো হয়। ইয়ারকান্ডের পুলিশ তাঁকে ডেকে নেয়। তার বাবা-মাকে ডেকে পাঠায়। পরে পরিবারসহ একটি বাসে রওনা দেন তাঁরা। পথে বাসের সঙ্গে ট্রাকের সংঘর্ষে স্ত্রী ও কন্যাকে হারান তিনি। নিজে মারাত্মক আহত হন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কখনো আর তাঁকে উরুমচিতে ফিরতে দেয়নি। স্ত্রী, কন্যার সঙ্গে স্বাধীনতাও হারান তিনি। দুর্ঘটনার কিছুদিন পরেই তাঁকে অনির্দিষ্ট কালের জন্য ‘পুনঃশিক্ষা ক্যাম্প’ বা বিশেষ শিবিরে রাখা হয়। তাঁর আত্মীয়রা জানেন, কোনো এক ক্যাম্পে তিনি আছেন।


লাখো ইউঘুর যুবকের কাহিনি হাসানের সঙ্গে মিলে যাবে। তুর্কি ভাষায় কথা বলা ইউঘুর সম্প্রদায়ের মানুষ জিনজিয়াং থেকে এভাবেই গায়েব হয়ে যান। তাঁদের পাঠানো হয় বহুদূরের কোনো এক ক্যাম্পে। এ ক্যাম্পগুলো মূলত ‘রি-এডুকেশন ক্যাম্প’ নামে পরিচিত। চীন সরকার এ রকম শত শত অজ্ঞাত রি-এডুকেশন ক্যাম্প তৈরি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ক্যাম্পে মানবাধিকারহীন জীবন যাপন করতে হয় উইঘুরদের। তাদের কেন সেখানে পাঠানো হয়, উইঘুররা তা জানতেও পারে না। ওই ক্যাম্প থেকে মুক্তি পাওয়া একজনের অভিযোগ, ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংকে ধন্যবাদ জানানো হয়, ততক্ষণ খাবার পান না কেউ।’


উইঘুরদের বড় শহর কাশঘারে এ রকম চারটি বড় ক্যাম্প রয়েছে। ২০১৭ সাল থেকে ওই শহরের ক্যাম্পগুলোতে ১ লাখ ২০ হাজার জনকে ধরে এনে রাখা হয়েছে। কোরলা শহরের ক্যাম্পগুলোও এতটাই ভরে গেছে যে নিরাপত্তা কর্মকর্তারা সেখানে আর কাউকে না পুলিশকে নিষেধ করছেন। ফলে আরও নতুন নতুন ক্যাম্প তৈরি করতে হচ্ছে দেশটিতে। তবে, এ ধরনের কোনো ক্যাম্পের কথা স্বীকার করে না চীনের কর্তৃপক্ষ।


চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের চেয়ে ইয়ারকান্ড বাগদাদের বেশি কাছে। কিন্তু জিনজিয়াংয়ের এ অঞ্চল চীনের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এ অঞ্চল চীনের বৃহত্তম তেল ও গ্যাস উৎপাদন অঞ্চল। এ ছাড়া এটি চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগের অংশ। কিন্তু তার চেয়েও বড় কথা, এটি উইঘুরদের আবাসস্থল, সেটির মর্যাদা দিতে নারাজ রাষ্ট্রযন্ত্র। 
চীনের এ প্রদেশটি প্রাকৃতিক গ্যাস ও তেলে পূর্ণ হওয়ায় চীনা সরকার কিছুতেই তা হাতছাড়া করতে নারাজ। কিন্তু এ অঞ্চলে হাজার বছর ধরে বসবাস করে আসা মুসলমানদের মৌলিক অধিকার পূরণ করতেও তারা রাজি নয়। এমনকি তেল-গ্যাসসমৃদ্ধ ভূমিটুকুর নিরঙ্কুশ মালিকানা মজবুত করে রাখতে হাজার বছর ধরে এ এলাকায় বসবাস করে আসা উইঘুর মুসলিমদের বিভিন্ন কৌশলে তাদের বাপ-দাদার ভিটা থেকে উচ্ছেদ করে সেখানে চীনা ‘হান’দের প্রতিষ্ঠিত করছে। যেখানে ১৯৪৯ সালেও জিংজিয়াংয়ের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ ছিল ‘হান’ আর ৯৫ শতাংশই ছিল উইঘুর মুসলিম, সেখানে চীন কর্তৃক উইঘুর দখলের পর অন্যান্য স্থান থেকে ‘হান’দের এখানে এনে থাকতে দেওয়ায় এবং উইঘুর মুসলিমদের বাপ-দাদার ভিটা ছেড়ে অন্যত্র যেতে বাধ্য করায় সেখানে বর্তমানে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে ‘হান’দের সংখ্যা।


জিনজিয়াংয়ে চাপে রয়েছে উইঘুর সম্প্রদায়ের মানুষ। সেখানে পুলিশের টহল। ছবি: এএফপি
উইঘুরদের সহিংসতার ইতিহাস শুরু ২০০৯ সালে। ৫ জুলাই উরুমচিতে মুসলিম উইঘুর ও হান চীনাদের মধ্যে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। এতে চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে বেশ কিছু উইঘুর মানুষ নিহত হন। কিছু সন্ত্রাসী ঘটনা শাসক যন্ত্রের দমনমূলক প্রবণতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। ২০১৬ সালে চেন কুয়ানগো নতুন দলের প্রধান হিসেবে উঠে আসেন। প্রাদেশিক সরকার অর্থ খরচ করে আরও নিয়ন্ত্রণ বাড়ায়। এটি এখন পুরোপুরি পুলিশি রাজ্য। তাই সবচেয়ে বেশি মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো ঘটেছে এখন।


চীন সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়, জিনজিয়াংয়ে সবার জন্য নিরাপত্তাব্যবস্থা সমান। তবে সেখানকার বাস্তবতা ভিন্ন। সেখানে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশিটির দক্ষিণ পশ্চিমে যেখানে উইঘুরদের বাস সেখানে নিরাপত্তার সরঞ্জাম বেশি স্থাপন করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে হানদের বসবাস করা শিহেজিতে পুলিশি নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এতটা কঠোর নয়।


চীনের কমিউনিস্ট শাসকেরা মনে করেন, তাঁদের নিয়ন্ত্রিত পুলিশি রাষ্ট্রব্যবস্থায় মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ দূর হয়েছে এবং সহিংসতা কমিয়েছে। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর বাস্তবচিত্র উল্টো। বাস্তবে তা হান ও উইঘুরদের মধ্যে মধ্যে বিভক্তি টেনে এবং একদিকে বেশি খরচ করে উত্তেজনা আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে দুই পক্ষ আরও বেশি সহিংসতায় জড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করছেন উইঘুর জনগণ।


প্রশ্ন হচ্ছে স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রাখা যাবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল দুনিয়াতে প্রাইভেসি থাকতে হবে। উদারপন্থী গণতন্ত্রের মতো উল্লেখযোগ্য কারণ ছাড়া নজরদারি করা যাবে না। স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও এনক্রিপশন থাকবে, যাতে কেউ ব্যক্তিগত তথ্যে উঁকি দিতে না পারে। জনগণের তথ্যে কেউ অনুমতি ছাড়া সংগ্রহ করলে তার জন্য শাস্তির বিধান রাখতে হবে। এ ছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহারের ওপরেও নজরদারি করতে হবে। সফটওয়্যারের মাধ্যমে অপরাধী সম্পর্কে আগাম পূর্বাভাসের যে পুলিশি পদ্ধতি আছে, তা নিখুঁত নয়। এর ওপর ভরসা না করে প্রকৃত অপরাধীকে খুঁজে বের করতে হবে। নজরদারির ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং স্বচ্ছতা অবশ্যই রাখতে হবে।


২০১৫ সালে উইচ্যাটে উইঘুর যুবক হাসান লিখেছিলেন, ‘উইঘুর হওয়াটা কঠিন। আমি কোনো অভিযোগে অভিযুক্ত তা জানি না। কিন্তু তাদের বিচার মানতে হবে। এ ছাড়া কোনো পথ খোলা নেই। যেখানে স্বাধীনতা নেই, সেখানে দুশ্চিন্তা। যেখানে দুশ্চিন্তা, সেখানেই কোনো ঘটনা। যেখানে ঘটনা সেখানেই পুলিশ। আর যেখানে পুলিশ, সেখানেই পরাধীনতা।’