Sunday, June 23, 2019

মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের (এনএফএসএল) পরীক্ষায় বাজারে থাকা দুধ ও দইয়ে ব্যাকটেরিয়া, এন্টিবায়োটিক, রাসায়নিক, সিসাসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেলেও বিএসটিআইর পরীক্ষায় কোনো ক্ষতিকর উপাদান ধরা পড়েনি। মাত্র দুটি নমুনা নিম্নমানের পেয়েছে তারা।

সরকারি সংস্থাটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গতকাল রবিবার হাইকোর্টে দাখিল করেছে।

এদিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন ছাড়া ঢাকায় যারা প্যাকেটজাত তরল দুধ ও দই বাজারজাত করছে তাদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। বিএসটিআইকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ তালিকা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা করছে তাদের তালিকাও দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন।

আদালতে বিএসটিআইর আইনজীবী বলেছেন, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সংস্থাটির নেই। এগুলো দেখার দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। তা ছাড়া এসব দেখার মতো পর্যাপ্ত বাজেটও নেই বিএসটিআইর। এমন বক্তব্যে আদালত অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লাইসেন্স দেওয়ার এখতিয়ার থাকলে বেআইনিভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার থাকবে না কেন? বিএসটিআইর অনুমোদন ছাড়া কিভাবে বাজারজাত হচ্ছে? আর বাজেট নেই বলে আপনাদের কি কোনো দায়িত্ব নেই? জনস্বার্থ উপেক্ষিত থাকবে? মানুষ কি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য খাবে?’ একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।

আগের তালিকা দাখিল করুন। এর যা করার আমরা করব। ’

এর আগে হাইকোর্ট গত ১৫ মে এক আদেশে ২৩ জুনের মধ্যে ভেজাল মেশানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা দাখিল করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গাভির দুধ ও বিভিন্ন প্যাকেটজাত দুধ, দই ও গো-খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান নিরূপণ করে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও আদালতকে জানাতে বলা হয়।

গতকাল বিএসটিআই এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করলেও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সময় চেয়েছে। আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

বিএসটিআইর আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান বলেন, দেশের আটটি বিভাগ থেকে ৩০৫টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এগুলোর মধ্যে ২৫২টি দইয়ের নমুনা, ৩৫টি গুঁড়া দুধের নমুনা এবং ১৮টি পাস্তুরিত ও ইউএসডি দুধের নমুনা। এর মধ্যে ঢাকা ও সিলেট থেকে সংগৃহীত দুটি নমুনা নিম্নমানের পাওয়া গেছে। তবে কোনো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়নি।

এই প্রতিবেদন দেখে আদালত বলেন, ‘এনএফএসএলের প্রধান অধ্যাপক ড. শাহনীলা ফেরদৌসীর পরীক্ষায় ধরা পড়ল। কিন্তু আপানারা কিছু পেলেন না। ’

বিএসটিআইর আইনজীবী বলেন, শাহনীলা যেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তা শিল্প এলাকার। সেখানে শৌখিনভাবে দুধ উৎপাদিত হয়। এর সঙ্গে সারা দেশের মিল নেই। তিনি বলেন, বিএসটিআই ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই নিম্নমানের নয়। তা ছাড়া শাহনীলা যেসব নমুনা নিয়েছেন তা ঢাকার কোনো অভিজাত দোকান বা শপিং মল থেকে নেননি। আদালত এই বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘শাহনীলা ৩১টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছেন। এই তালিকায় মিল্ক ভিটা, প্রাণ, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, আফতাব ডেইরি মিল্ক, ঈগলু ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের পণ্য সারা দেশেই পাওয়া যায়। রাজধানীর নামিদামি এলাকা ও শপিং মল থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। সুতরাং আপনি (বিএসটিআই) যা বলছেন তা সত্য নয়। ’

আদেশে গবেষণা প্রতিবেদনসংক্রান্ত বিষয়ে অধ্যাপক শাহনীলা ফেরদৌসীকে বিরক্ত না করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দুধ, দই ও গো-খাদ্যে মানবদেহের জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে এনএফএসএলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘গরুর দুধেও বিশেষ ভয়’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া আরো কয়েকটি জাতীয় দৈনিকেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আদালত এই প্রতিবেদন দেখে গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বপ্রণোদিত হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন ও রুল জারি করেন। আদেশে দুধ, দই ও গো-খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ঘটনা তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

Tuesday, June 4, 2019

নারীদের ধনী হওয়া এত সহজ!

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও তাদের স্ত্রীরা যখন বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তখন সংবাদ মাধ্যমে বড় বড় অঙ্কের অর্থের হিসেব উঠে আসে।


এ সপ্তাহেও সেটা আবার প্রমাণ হয়েছে। অনলাইনে পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি তাদের ডিভোর্সের কিছু শর্তের ব্যাপারে একমত হয়েছেন।


ম্যাকেঞ্জি বেজোস পাবেন আমাজনের ৪% সম্পদ। ফলে তার অর্থ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।


সেই হিসেবে তিনি হবেন বিশ্বের তৃতীয় ধনী নারী এবং নারী পুরুষ মিলিয়ে ২৪তম ধনী ব্যক্তি।


তাহলে বিশ্বের ধনী নারীদের তালিকায় কারা কারা আছেন এবং কীভাবে তারা এতো অর্থ বিত্তের মালিক হলেন?


১. ফ্রাঁসোয়াস বেটাকোর মেয়ার


তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসেব অনুসারে তিনি বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকার ১৫ নম্বরে।


ফরাসি কসমেটিক কোম্পানি ল'রিয়েলের উত্তরাধিকারী তিনি। তিনি এবং তার পরিবার এই কোম্পানির ৩৩ শতাংশের মালিক।


তার বয়স এখন ৬৫। সব সম্পদ তিনি পেয়েছেন তার মায়ের কাছ থেকে। তার মা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। এনিয়ে তারা দীর্ঘ বিরোধেও জড়িয়েছিলেন।


বেটাকোর-মেয়ার একটি আইনি মামলা করেছিলেন যেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন তার মাকে আশেপাশের কিছু ব্যক্তি ব্যবহার করছে। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল।


তিনি একজন শিক্ষাবিদও। গ্রিক দেবতা এবং ইহুদি-খৃস্টান সম্পর্কের ওপরে তার কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে।


২. এলিস ওয়ালটন


তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার। বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তার অবস্থান ১৭ নম্বরে। তার বয়স এখন ৬৯। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সুপারমার্কেট ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের একমাত্র কন্যা তিনি।


তিনি তার দুই ভাই থেকে একেবারেই আলাদা ধরনের মানুষ ছিলেন। পরিবারের ব্যবসা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। তিনি চিত্রকলার ওপর জোর দেন এবং ক্রিস্টাল ব্রিজেস মিউজিয়াম অফ আমেরিকান আর্টের চেয়ারম্যান হন।


৩. ম্যাকেঞ্জি বেজোস


তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার। এটা শুধু আমাজনের যতটুকু মালিকানা তিনি পাবেন তার আর্থিক মূল্য। মোট সম্পদের পরিমাণ এর চেয়েও আরো বেশি হবে। কতো বেশি সেটা জানতে আগামী ফোর্বস ম্যাগাজিনের দিকে চোখ রাখতে হবে।


তার বয়স ৪৮। আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে তিনি বিয়ে করেন ১৯৯৩ সালে। একটি হেজ ফান্ড কোম্পানিতে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। তাদের চারটি সন্তান রয়েছে।


আমাজনে যারা প্রথম চাকরি শুরু করেন তাদের একজন ছিলেন ম্যাকেঞ্জি। তিনি যোগ দিয়েছিলেন একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে।


তিনি দুটি বহুল আলোচিত ফিকশন বই লিখেছেন। লেখক টনি মরিসনের কাছে লেখালেখির বিষয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি। টনি মরিসন বলেছেন, তিনি তার সেরা শিক্ষার্থীদের একজন।
বেজোস একটি এন্টি-বুলিং সংস্থাও গড়ে তুলেছেন। নাম বাইস্ট্যান্ডার রেভ্যুলুশন। এই সংস্থা থেকে


৪. জ্যাকুলিন মার্স


তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার চার শ' কোটি ডলার। বিশ্বের ধনী মানুষের তালিকায় তিনি আছেন ৩৩ নম্বরে।


তার বয়স ৭৯। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কনফেকশনার মার্সের এক তৃতীয়াংশের মালিক তিনি। তার দাদা/নানা ফ্র্যাঙ্ক ১৯১১ সালে এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরিবারের এই ব্যবসায় তিনি কাজ করেছেন প্রায় ২০ বছর। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন।


বর্তমানে তিনি পরিচিত অত্যন্ত দানশীল এক ব্যক্তি হিসেবে। ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা, ন্যাশনাল আর্কাইভসহ আরো কিছু সংস্থার বোর্ড সদস্য তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পোষা প্রাণীর জন্যে যারা খাবার তৈরি করে তাদের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ এই মার্স কোম্পানি।


৫. ইয়ান হুইয়ান
তার মোট সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার দুশো কোটি ডলারেরও বেশি। চীনের সবচেয়ে ধনী মহিলা তিনি। আর বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তিনি ৪২ নম্বরে।


তার বয়স এখন ৩৭। চীনে বাড়ি ঘরের ব্যবসা করে এরকম একটি প্রতিষ্ঠান কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিংসের বেশিরভাগ অংশেরই মালিক তিনি।


চীনে প্রপার্টি নির্মাণের যে ধুম লেগেছে তার পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে এই কোম্পানির।


এই কোম্পানির ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, সারা বিশ্বে যতোগুলো ডেভেলপার কোম্পানি আছে তার মধ্যে ২০১৬ সালের কান্ট্রি গার্ডেন ছিল তিন নম্বরে।


ইয়ান হুইয়ান ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। কোম্পানিতে তার ৫৭% শেয়ারের বেশিরভাগই তিনি তার পিতার কাছ থেকে পেয়েছেন।


৬. সুজান ক্লাটেন


তার সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার এক শ' কোটি ডলার। আর সারা বিশ্বে ধনীদের তালিকায় তিনি ৪৬ নম্বরে। তার বয়স ৫৬। জার্মান এই নারীর রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস ও গাড়ির ব্যবসা।


রাসায়নিক কোম্পানি আলটানা এ জি-র ৫০% তিনি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে, তার পিতামাতা মারা যাওয়ার পর। বিএমডাব্লিউ গাড়ির ৫০ শতাংশেরও মালিকানা তার ও তার এক ভাই এর।


পরে আটলান্টার একক মালিক হন তিনি। আরো কিছু কোম্পানিরও শেয়ার কিনে নেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে বায়ু শক্তি থেকে শুরু করে গ্রাফাইট উৎপাদনকারী কোম্পানিও রয়েছে।


৭. লরা পাওয়েল জবস


তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক হাজার নয় শ' কোটি ডলার। এবং সারা বিশ্বের ধনীদের মধ্যে তিনি ৫৪তম।


তিনি সফটওয়্যার কোম্পানি অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর অ্যাপল ও ডিজনির দুই হাজার কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হন তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে।


তার বয়স ৫৫। পরে তিনি তার কিছু অর্থ সাংবাদিকতার পেছনে বিনিয়োগ করেন। আটলান্টিক ম্যাগাজিনের একটি বড় অংশ কিনে নেন তিনি। এছাড়াও তিনি অলাভজনক প্রকাশনা মাদার জোন্স এবং প্রোপাবলিকাতেও অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।


অভিবাসন ও শিক্ষা সংস্কারের মতো কিছু বিষয়েও বিনিয়োগ করেছেন তিনি। গড়ে তুলেছেন কিছু প্রতিষ্ঠান।