Friday, January 11, 2019

চোখের যত্নে যা করবেন

চোখ মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর যত্ন না নিলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
ফলে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে চোখের সমস্যা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।

যারা নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহার করেন তাদের এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এজন্য চোখের প্রতি যত্নবান হতে হবে। চলুন দেখে নিই চোখের যত্নে কী করণীয়:-

 

• প্রতিদিন কাজের ফাঁকে খানিকটা সময় চোখ বন্ধ করে রাখুন। এতে আপনার চোখ স্বস্তি পাবে

• একটানা মনিটরে তাকিয়ে না থেকে ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন

• দিনে বেশ কয়েকবার চোখে পানির ঝাপটা দিন

• হাতে হাত ঘষে হাতের তালু কিছুটা গরম করে বন্ধ চোখের ওপর ২ মিনিট রাখুন

• সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করে এমন সানগ্লাস ব্যবহার করুন

• ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখের মেকআপ তুলে নিন

• নিয়মিত অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমান

• নির্দিষ্ট সময় পর পর অভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চোখ পরীক্ষা করান

Tuesday, January 1, 2019

ফেসবুকে বিশ্বাস রাখিব কেমনে?

ফেসবুকে বিশ্বাস রাখিব কেমনে?

অর্ণব সান্যাল
 
আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:০৩

ফেসবুকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেকোনো বিরোধিতা সামাল দেওয়ার উপায় জানা আছে মার্ক জাকারবার্গের। শেরিল স্যান্ডবার্গের অবস্থাও তেমনই। সুতরাং জাকারবার্গের সরে যাওয়া অনেকটাই অসম্ভব। ছবি: এএফপিফেসবুকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেকোনো বিরোধিতা সামাল দেওয়ার উপায় জানা আছে মার্ক জাকারবার্গের। শেরিল স্যান্ডবার্গের অবস্থাও তেমনই। সুতরাং জাকারবার্গের সরে যাওয়া অনেকটাই অসম্ভব। ছবি: এএফপিশুধু ক্ষমা চাইতে চাইতেই গত বছরটা কাটিয়ে দিলেন মার্ক জাকারবার্গ। সঙ্গে ছিল সমস্যা কাটিয়ে ওঠার আশ্বাসও। কিন্তু সেই আশ্বাসবাণী বারংবার শুনতে শুনতে বড্ড পানসে হয়ে গেছে। এখন আর ফেসবুকের ব্যবহারকারীরা তাতে আস্থা রাখেন কিনা সন্দেহ! একের পর এক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত ফেসবুকে বিশ্বাস ধরে রাখাটাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত মাসে ফেসবুকের নতুন ‘স্ক্যান্ডাল’ প্রকাশিত হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের অজান্তেই তাঁদের তথ্য অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করেছে ফেসবুক। অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আছে—আমাজন, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, নেটফ্লিক্স, স্পটিফাই ও ইয়ানডেক্সের মতো প্রতিষ্ঠান। এগুলোকে নিজেদের গ্রাহকদের তথ্যে প্রবেশাধিকার দেয় ফেসবুক।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ফেসবুকের ২০১৭ সালের কিছু অভ্যন্তরীণ নথি থেকে এ খবর জানা গেছে। নথিতে দেখা গেছে, বছরের পর বছর ধরে গ্রাহকদের তথ্যে অন্য প্রতিষ্ঠানকে প্রবেশাধিকার দিয়ে আসছিল ফেসবুক। এতে করে সব পক্ষই লাভবান হচ্ছিল। তবে এ নিয়ে ফেসবুক কখনোই গ্রাহকদের সামনে টুঁ শব্দটি করেনি!

২০১৮ সালের শুরুটাও ছিল এমনি। গত মার্চ মাসের ১৭ তারিখে ফাঁস হয় কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কাণ্ড। জানা যায়, লাখ লাখ ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পাওয়া তথ্য দিয়ে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছিল কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের প্রতিষ্ঠানটি। ওই ঘটনায় মাত্র কয়েক ঘণ্টায় কমে গিয়েছিল ফেসবুকের স্টক শেয়ারের দাম। এরপর থেকে পুরো বছরজুড়েই নানা ঘটনায় নেতিবাচক আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান। গত মার্চের শেষ ভাগেই গড়ে ওঠে ‘ডিলিট ফেসবুক’ আন্দোলন, যা জারি ছিল বছরের শেষ অবধি। এপ্রিলে জানা যায়, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার হাতে ছিল ৮ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য। এই গ্রাহকেরা জানতেনই না যে, তাদের তথ্য অন্যের হাতে চলে গেছে।

সিএনএন বলছে, অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও স্যামসাংসহ বেশ কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফেসবুকের তথ্য আদান-প্রদানের সম্ভাবনার কথা যায়। এটি গত ৩ জুনের খবর। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন সিনেট কমিটিকে ফেসবুকের সিওও শেরিল স্যান্ডবার্গ জানান, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রুশ তৎপরতার বিষয়টি সার্বিকভাবে বোঝা তাঁর প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব ছিল না। অর্থাৎ ফেসবুক ব্যবহার করে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি ঠেকাতে পুরোপুরি সফল হয়নি ফেসবুক। ওই মাসেই জানা যায়, নজিরবিহীন সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি এবং ৩ কোটি ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এরপর ফেসবুকের ব্যর্থতার তালিকা আরও লম্বা করে দেয় ডিসেম্বর মাসটি। নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, মাইক্রোসফটের বিং সার্চ ইঞ্জিন নাকি সব ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নাম দেখতে পেত। এই অনুমতি দিয়েছিল ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা দেখার অনুমতি ছিল নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাই-এর। অন্যদিকে আমাজনকে ব্যবহারকারীদের নাম ও যোগাযোগের ঠিকানা দেখার অনুমতি দিয়েছিল ফেসবুক।

মার্ক জাকারবার্গ অবশ্য প্রতিবাদ করে বলতেই পারেন, ‘চেষ্টা তো কম করিনি।’ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সেই চেষ্টা আদতে কতটুকু আন্তরিক? এই প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে উঠে গেছে জাকারবার্গের পদত্যাগের দাবিও। অবশ্য সংবাদমাধ্যম ওয়্যারড জানাচ্ছে, ফেসবুকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেকোনো বিরোধিতা সামাল দেওয়ার উপায় জানা আছে জাকারবার্গের। শেরিল স্যান্ডবার্গের অবস্থাও তেমনই। সুতরাং জাকারবার্গের সরে যাওয়া অনেকটাই অসম্ভব।

দ্য টাইমসের দাবি, ১৫০ টিরও বেশি কোম্পানির সঙ্গে ফেসবুকের তথ্য আদানপ্রদানের চুক্তি আছে। বলা হচ্ছে, ফেসবুক এর ব্যবহারকারীদের তথ্যে জেনেশুনেই প্রবেশাধিকার দিয়েছিল এবং তার পরিধি ছিল ব্যাপক।

২০১৮ সালে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ নিজে হারিয়েছেন প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার। গত বছর ফেসবুকের স্টক শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ছবি: রয়টার্স২০১৮ সালে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ নিজে হারিয়েছেন প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার। গত বছর ফেসবুকের স্টক শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ছবি: রয়টার্সফেসবুক অবশ্য বছরজুড়েই ভাঙা রেকর্ডের মতো একই কথা শুনিয়ে গেছে। তা হলো—‘ব্যবহারকারীদের কোনো তথ্যের অপব্যবহার হয়নি’, ‘ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রি করা হয়নি’। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, আদতে অন্য কোম্পানির কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রিই করেছে ফেসবুক। হয়তো তথ্যের বদলে ট্যাঁকে ডলার আসেনি, কিন্তু এসেছে অন্যান্য মূল্যবান সুবিধা। এভাবেই চলেছে বিনিময় প্রক্রিয়া। সেটি বিক্রি নয়তো কি?

এত বিতর্ক ও সমালোচনার চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে ফেসবুককে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলছে, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ নিজে হারিয়েছেন প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার। সিএনবিসি বলছে, ২০১৮ সালে ফেসবুকের স্টক শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

এ তো গেল আর্থিক ক্ষতির হিসাব। অন্যদিকে ফেসবুককে ছেড়ে গেছেন হোয়াটসঅ্যাপের সহপ্রতিষ্ঠাতা জান কোউম। বিদায় বলে দিয়েছেন ইনস্টাগ্রামের সহপ্রতিষ্ঠাতা কেভিন সিসট্রম ও মাইক ক্রিগারও। এ ছাড়া ফেসবুকের নেতৃস্থানীয় কর্মীদের অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন সাধের প্রতিষ্ঠান। শুধু চলে গিয়েই ক্ষান্ত হননি তাঁরা, গলা চড়িয়েছেন সমালোচনাতেও।

নিন্দুকেরা বলছেন, জাকারবার্গের ফেসবুক এখন ‘অত্যন্ত ধনী’ ও ‘ক্ষমতাবান’ একটি প্রতিষ্ঠান। হাবভাবে মনে হচ্ছে, কাউকেই পরোয়া করছে না এটি। প্রশ্ন হলো—ফেসবুক কি পৃথিবীকে আরও নিরাপদ করবে? নাকি ক্ষমতাবান করপোরেশনের মতো রোজগারের জন্য যা খুশি তাই করবে?

২০১৮ সাল নিয়ে মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, গত বছরের সমস্যাগুলো ঠিক করতে এক বছর সময় লেগে যেতে পারে। না পারলে হয়তো এবারও ক্ষমা চেয়ে নেবেন। দিন শেষে ব্যবহারকারীদের বলে দেবেন, ‘উই আর সরি’!



থার্টিফার্স্ট ২০১৯

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১২টা ১ মিনিট। বিটের তালে তালে কেঁপে উঠছে চার দেয়াল। বিশাল পার্টি রুমের চারদিকে লেজার লাইটের ঝলকানি। বাজছে ইংরেজি, হিন্দি গান। মঞ্চের সামনে তরুণদের সঙ্গে বেসামাল হয়ে নাচছেন স্বল্প বসনা তরুণীরা। আর মঞ্চ থেকে তাদের উৎসাহ দিচ্ছেন ডিজে তরুণীরা। এক হাতে হুইস্কির গ্লাস আর অন্য হাতে সিগারেট। ডিজে তরুণীদের জড়িয়ে কম যাননি সেখানে উপস্থিত তরুণরা।

কেউ কেউ মিউজিকের তালে তালে নেচে আবার কেউবা ভালোবাসার মানুষটিকে জড়িয়ে বরণ করে নেন নতুন বছরকে। 

সোমবার রাতে ইংরেজি নববর্ষ-২০১৯ কে বরণ করে নিতে এমনটাই ছিল রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলের চিত্র। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই এবারের ইংরেজি নববর্ষ অনেকটা সীমিত পরিসরে বরণ করে নিতে হয়েছে। চার দেয়ালের বাইরে থার্টিফার্স্টের কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে আগেই জানিয়েছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তাই ঢাকা শহরের কোথাও উন্মুক্ত স্থানে, ছাদে, রাস্তার মোড়ে কোথাও থার্টিফার্স্টের আয়োজন করতে দেখা যায়নি। তবে ঢাকা শহরের সবক’টি অভিজাত হোটেল, ক্লাবে থার্টিফার্স্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এ ছাড়া অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ছাড়াও আরো বেশ কিছু বাসায় নতুন বছরকে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করা হয়েছে। 

খিলক্ষেত এলাকার তারকা হোটেল ঢাকা রিজেন্সি। সন্ধ্যার পর থেকে এই হোটেলে আনাগোনা বেড়ে যায় অভিজাত ঘরের তরুণ-তরুণীদের। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে হোটেলটির ১৪ তলায় আয়োজন করা হয় ডিজে পার্টির। সেখানে দেখা যায় উচ্চ শব্দে স্পিকারে বাজছিল গান। গানের তালে তালে চলতে থাকে ফ্যাশন শো, লাতিন, বেলে ড্যান্স। তরুণদের কারো হাতে হুইস্কি আবার কারো হাতে বিয়ারের ক্যান। স্বল্প বসনা তরুণীরা তখন চেপে আছেন তাদের বুকে। মদ খেতে খেতেই তারা নাচছিলেন। মাতাল হয়ে অনেক তরুণ-তরুণী  দিশহাারা হয়ে পড়েন। 

ঘনিষ্ঠজনরা তাদের অন্যত্র নিয়ে যান। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় রিজেন্সির দৃশ্য। বিভিন্ন বয়সের, নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। রাত ১টার দিকে ড্যান্স ফ্লোরে পুরুষদের নেচে নেচে আনন্দ দিচ্ছিলেন ডিজে তরুণীরা। থার্টিফার্স্টের এই রাতটি ছিল তাদের কাছে আনন্দঘন ও উন্মাদনায় হারিয়ে যাওয়ার এক রাত। রিজেন্সিতে কথা হয় ডিজে তরুণী জিসির সঙ্গে। জিসি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকে নাচের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। স্বপ্ন ছিল দেশের মধ্যে বড় একজন নৃত্য শিল্পি হবেন। কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খান তার মা জিনিয়া সুলতানা। 

তাই বাধ্য হয়ে পরিবারের হাত ধরেই তিনি বিভিন্ন হোটেলের পার্টিতে নাচেন। প্রথম দিকে খাপ খাইয়ে নেয়াটা ছিল কষ্টকর। কিছুদিন যাবার পর এধরনের পরিবেশের সঙ্গে তিনি মানিয়ে নেন। এখন ঢাকা শহরের অনেক পার্টিতেই তার অনেক চাহিদা আছে বলে জানান জিসি। জিসি বলেন, এই কাজে নানা প্রতিবন্ধকতা আছে। অনেক পুরুষই খারাপ প্রস্তাব দেয়। তারা আমাকে যা ভাবে আমিতো সেরকম না। ডিজে তরুণী সাইমা বলেন, আমার কয়েকজন বান্ধবী আগে থেকেই পার্টিতে নাচত। আমি নাচ না পারাতে আর যাওয়া হতো না। কিন্তু আমার বান্ধবীরা আমাকে গাইড লাইন দিয়ে শিখিয়ে নেয়। তারপর থেকে এ পথে চলে আসা। তিনি বলেন, পরিবারের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে আমি এই কাজ করি। থার্টিফার্স্ট ছাড়া যে কোনো ধরনের পার্টিতে অংশগ্রহণ করি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন কয়েক শতাধিক ডিজে তরুণ-তরুণী। থার্টিফার্স্টের পার্টিতে আসা অতিথিদের মনোরঞ্জন করার জন্য তারা গত এক মাস ধরে তৈরি করে নিয়েছেন নিজেকে। এদিকে রাজধানীর অনেক হোটেলে ও বাসায় অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশে থার্টিফার্স্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এমন ঢাকার আশেপাশের এলাকার অনেক হোটেল-রিসোর্টে দেখার মতো আয়োজন ছিল। চার দেয়ালের ভেতরে হলেও সেখানে আমোদ-ফুর্তির কমতি ছিল না। গাজীপুরের একটি রিসোর্টে  গিয়ে দেখা যায় সেখানে বেশ জাঁকজমক ভাবেই পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন শেণি-পেশার অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। গভীর রাতে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বিটের তালে তালে শরীর দুলিয়ে নাচছিলেন কয়েকজন তরুণী। উল্মাতাল নাচে গানে তারা বরণ করেন নতুন বছরকে।