Sunday, March 10, 2019

যেভাবে উচ্চ রক্তচাপ কমবে নিমিষেই, কমবে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও

গবেষণা বলছে, নিয়মিত ২০ মিনিটের ন্যাপ ভবিষ্যতে আপনার হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমিয়ে দিতে পারে।

গ্রিসের একটি হাসপাতালের গবেষণা অনুসারে হেড ডাউন করে অর্থাৎ মাথা ঠেকিয়ে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিতে পারলে ব্লাড প্রেশার বা রক্তচাপ কমে। 
 
বয়স্ক মানুষদের কথা মাথায় রেখে এই গবেষণা চালানো হয়েছে, কিন্তু দিনের কোনো একটি সময় চোখ বন্ধ করে ঝটিকা একটু ঘুমিয়ে নিতে পারলে উপকার পাবে যেকোনো বয়সী মানুষ।

এই গবেষণায় কার্যক্রমটি পরিচালনাকারী কার্ডিওলজিস্ট মানোলিস কালিস্ট্রাটোস বলেন, "দিনের বেলার অল্প সময়ের ঘুম সহজেই নিয়ে নেয়া যায় এবং সাধারণত সেজন্য কিছু খরচ করতে হয় না"।

"আমাদের গবেষণার ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে বলতে পারি, যদি কেউ দিনের বেলা ঘুমানোর বিলাসিতাটুকু নিয়মিতভাবে চালিয়ে যেতে পারে তবে এটি উচ্চ রক্তচাপের জন্য উপকার করবে। "

তার এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, দিনের বেলা ২০ মিনিটের ঘুম গড়ে যে পরিমাণ রক্তচাপ কমিয়ে দিতে পারে তা ঠিক যেভাবে স্বল্প মাত্রার ওষুধ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে থাকে।

সুতরাং আমোদের সবারই সম্ভবত দিনের বেলা কোনো একসময় ভালোমতো একটু ঘুমিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে হবে।

ভালো পেতে প্রচেষ্টা করা উচিত।

কিন্তু কখন ঘুমাতে হবে?

দুপুরের পরপর যে একটা ঝিমুনি ভাব হয়, সেটি শুধু মধ্যাহ্নভোজনে উদরপূর্তি খাবারের জন্য তা নয়, এই অবস্থার নাম 'আফটারনুন লুল' যা আমাদের ডিএনএতে প্রবাহিত।

দ্য স্লিপ স্কুলে ক্লিনিকাল ডিরেক্টর ডক্টর গাই মিডোস বলেন "এটি আসলে ঘটে কারণ, শরীরের যেখান থেকে সতর্ক সংকেত আসে সেখানে ছোট্ট একটা ডুব দিতে পারছেন, অভ্যন্তরীণ দেহ-ঘড়ি যা ঘুম নিয়ন্ত্রণ করে এবং জাগিয়ে তোলে সেখান থেকে আপনি 'সতর্কতা সংকেত' পান"।

তিনি বলেন, মানুষ হাজার হাজার বছর আগে মধ্য-দুপুরে বিশ্রাম নিত এবং সেই আচরণ আমাদের সারকাডিয়ান রিদম বা ছন্দে ফুটে ওঠে।

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিনিয়ত যেভাবে কাজ করে চলেছে মানুষের শরীর, শরীরের সেই নিয়মমাফিক চলাকেই সারকাডিয়ান রিদম বা স্পন্দন বলে যা মানবদেহের সুস্থতার চাবিকাঠি।

তিনি বলেন, "আপনার সারকাডিয়ান রিদম হচ্ছে আপনার ২৪ ঘণ্টার দেহ-ঘড়ি"।

"যখন আপনি কাজে থাকুন বা স্কুলে থাকুন সবসময়ই আপনার সুইচ চালু থাকে। কিন্তু যখনই আপনি ন্যাপ নিচ্ছেন তখন আপনি অন্যদিকে সুইচ চালু করলেন এবং সেটা বিশ্রাম ও পরিপাক মুডে চলে এলো।

মিটার মিডোস বলেন, "যদি আপনি বাড়ির ভেতর সারাদিন থাকেন তবে ঘুমিয়ে নেয়ার জন্য দারুণ ব্যাপার। কিন্তু যদি আপনি থাকেন সহকর্মীদের ভিড়ের মধ্যে তাহলে? নিশ্চিতভাবেই তখন বিষয়টি খুব সহজ নয়। কিন্তু এরই মাঝে একটু নিরিবিলি জায়গা খুঁজে বিশ্রাম নিতে পারলে সেটা যতটা শারীরিক সুফল এনে দেবে তা আপনার কল্পনার চেয়েও অনেক বেশি"।

"চোখ বন্ধ করে চুপচাপ বসে থাকা সত্যিই উপকারী হতে পারে" বলছেন ডঃ গাই ।

তার বক্তব্য যেকোনভাবেই হোক দিনের বেলার এই ঘুম জরুরি।

"হয়তো আপনি একটি ছোট কক্ষে গিয়ে সেখানে গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারেন কিংবা পরিস্থিতি খুব খারাপ হলে অর্থাৎ সেরকম কোনো কক্ষ না পাওয়া গেলে আপনি বাথরুমেই চলে যেতে পারেন এবং সেখানে গিয়ে বসে থাকতে পারেন ১০ মিনিটের জন্য"।

গ্রীষ্মের সময় কাছাকাছি কোনো পার্কে গিয়ে চোখ বন্ধ করে থাকা যেতে পারে।

তবে হ্যাঁ একেবারে ঘুমিয়ে গেলে চলবে না। অবশ্যই অ্যালার্ম সেট করে রাখতে হবে যাতে করে আবার যথাসময়ে নিশ্চিন্তে কাজ-কর্মে ফেরা যায়।

ড: গাই বলেন, আমরা যখন হালকা ঘুমে থাকি তখন আমরা বুঝতে পারি না যে ঘুমিয়ে আছি না নেই। এটাকে বিশ্রামের একটা সুযোগ হিসেবে দেখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি আপনি যদি না-ও ঘুমান তা-ও আপনি উপকৃত হবেন। কিন্তু ন্যাপ দীর্ঘ সময়ের জন্য নেয়া যাবে না। "

লম্বা সময়ের জন্য নয় ন্যাপ

"এই গবেষক বলেন, বিকেলের দিকে ১০ থেকে ২০ মিনিটের পরিপূর্ণ ঘুম পরিমাণে যথেষ্ট।

তিনি বলেন এটা নির্ভর করে কার জন্য কোনটি সঠিক সেটা খুঁজে দেখা এবং পরীক্ষা করা। তবে যতটুকু দরকার সেটুকু ঘুমাতে হবে যাতে মনমরা না হয়ে আরও তরতাজা প্রাণশক্তি নিয়ে আবারো কাজে মনোনিবেশ করা যায়।

তবে ২০ মিনিটের বেশি ঘুম হলে সেটাকে মনে করা হবে আপনি গভীর ঘুমে চলে গেছেন, যার ফলে হয়তো জেগে উঠতে কষ্ট হবে। আর এটা আরো খারাপ ধরনের অনুভূতি দিতে পারে- সতর্ক করেন এই গবেষক।

যারা নতুন নতুন ন্যাপ নিতে শুরু করেছেন তাদের মোবাইল ফোনে বা ঘড়িতে অ্যালার্ম সেট করে রাখতে হবে। কিন্তু কয়েক মাস পরে নিজেরাই নির্দিষ্ট এবং কাঙ্ক্ষিত সময়ে ঘুম থেকে জেগে উঠতে পারবেন ।

ডক্টর গাই বলেন, রাতে আট ঘণ্টা ঘুমানোর বহুল আলোচিত ধারণা অনুসারে 'স্লিপ ড্রাইভ' গড়ে তোলার জন্য আমাদের ১৬ ঘণ্টা জেগে থাকার প্রয়োজন হয়।

"যখন রাত ১০টা-১১টা বাজে আপনি ঘুমঘুম অনুভব করবেন। এটা অনেকটা সম্মোহনী অনুভূতি। এর কারণ আপনার স্লিপ ড্রাইভ"।

ঘুম ঘুম ভাব হলে অনেকেই তখন চা বা কফির দিকে হাত বাড়ান।

"ক্যাফেইন কাজ করে ভিন্ন উপায়ে। এটি আপনার মস্তিষ্কের কিছু অংশে যেখানে আপনার স্লিপ ড্রাইভের জন্য দায়ী রাসায়নিকগুলি থাকে সেখানে মস্তিষ্কের কিছু অংশের বন্ধন তৈরি করে। " বলেন গবেষক।

নিশ্চিতভাবে এটি সাময়িক ভাবে কার্যকর কিন্তু মধ্যবেলায় পান করা এক কাপ কফির ক্যাফেইনের উপস্থিতি আপনার শরীরে বহাল থাকবে ১২ ঘণ্টা পরও।

তো সারাটি দিন কাজের ফাঁকে সুস্থ থাকতে একটুখানি ঘুমিয়ে নিন। ঝটিকা ঘুম কেবল একজন মানুষের মুড বা মেজাজকে চাঙ্গা করে তা-ই নয়, বরং তার চেয়েও আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন এক গবেষণা বলছে, এটি হয়তো আপনাকে আরো বেশি দিন বাঁচতে সাহায্য করবে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা

বিডি প্রতিদিন/কালাম



Sunday, March 3, 2019

ভয়ঙ্কর যখন দাঁতের চিকিৎসা



নিয়ম-নীতির বালাই নেই স্পর্শকাতর দাঁতের চিকিৎসায়। এইডস, হেপাটাইটিসের মতো প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকলেও নেওয়া হচ্ছে না প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। জীবাণুমুক্ত না করে একই সরঞ্জাম দিয়ে চিকিৎসা চলছে অসংখ্য রোগীর। অনেক হাসপাতাল-চেম্বারে জীবাণুমুক্ত করার কোনো ব্যবস্থাই নেই।

যাদের আছে তারাও ঝামেলা এড়াতে বা খরচ কমাতে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ফলে রোগীর অজান্তেই তার শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রাণঘাতী নানা সংক্রামক রোগ। দিনের পর দিন সবার চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও এ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথাই নেই


শিরোনাম


ভয়ঙ্কর যখন দাঁতের চিকিৎসা

নিয়ম-নীতির বালাই নেই স্পর্শকাতর দাঁতের চিকিৎসায়। এইডস, হেপাটাইটিসের মতো প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকলেও নেওয়া হচ্ছে না প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা। জীবাণুমুক্ত না করে একই সরঞ্জাম দিয়ে চিকিৎসা চলছে অসংখ্য রোগীর। অনেক হাসপাতাল-চেম্বারে জীবাণুমুক্ত করার কোনো ব্যবস্থাই নেই।

যাদের আছে তারাও ঝামেলা এড়াতে বা খরচ কমাতে সেই ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না। ফলে রোগীর অজান্তেই তার শরীরে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে প্রাণঘাতী নানা সংক্রামক রোগ। দিনের পর দিন সবার চোখের সামনে এমন ঘটনা ঘটলেও এ নিয়ে কারও কোনো মাথাব্যথাই নেই।

জানা গেছে, সাধারণত অটোক্লেভ মেশিন বা সাইডেক্স জাতীয় রাসায়নিক দিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা হয়। তবে রাজধানীর বিভিন্ন ডেন্টাল কলেজ ও ডেন্টাল চেম্বার সরেজমিন ঘুরে তেমন কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি। কোথাও লোক দেখানো অটোক্লেভ মেশিন থাকলেও তা নষ্ট অথবা ব্যবহার করা হচ্ছে না। চিকিৎসা সরঞ্জাম ট্যাপের পানি বা সর্বোচ্চ স্যাভলন মেশানো পানিতে ধুয়ে অন্য রোগীর চিকিৎসা করা হচ্ছে। রোগী সেজে রাজধানীর মিরপুর, বাড্ডা ও রামপুরার বিভিন্ন ডেন্টাল চেম্বার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। মিরপুরে অবস্থিত ঢাকা ডেন্টাল কলেজের আশপাশেই গড়ে উঠেছে প্রায় অর্ধশত ডেন্টাল চেম্বার। অনেকগুলোয় ডাক্তারের সাইনবোর্ড থাকলেও বসেন না কোনো বিডিএস ডাক্তার। ডেন্টাল কলেজের টেকনিশিয়ানরাই সেখানে চিকিৎসা করেন। অভিযানের খবর পেলে ফোন করে ডাক্তার ডেকে আনা হয়। অধিকাংশ চেম্বারে সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করার কোনো ব্যবস্থা নেই। অনেক চেম্বারের মালিক বা চিকিৎসক পদধারী ব্যক্তি অটোক্লেভ মেশিনের নামও জানেন না। রোগী সন্তুষ্ট করতে কয়েকটি ক্লিনিকে রাখা হয়েছে বৈদ্যুতিক হিটার। সচেতন রোগী দেখলে তার সামনে খোলা স্টিলের পাত্রে গরম পানি দিয়ে সরঞ্জাম পরিষ্কার করা হয়। সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. সৈয়দ আহসান তৌহিদ বলেন, স্যাভলন দিয়ে ধুয়ে বা সাধারণ পাত্রে কয়েক মিনিট ফুটালে সব জীবাণু ধ্বংস হয় না। চিকিৎসা সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত না করে সার্জারি করলে রক্তবাহিত যে কোনো রোগ ছড়াতে পারে। অনিরাপদ দাঁতের চিকিৎসা থেকে এইচআইভি (এইডস), হেপাটাইটিস বি বা সি-এর মতো প্রাণঘাতী রোগও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। সাধারণত রাসায়নিক দিয়ে বা অটোক্লেভ মেশিনে ১২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ ও ১৫ পিএসআই চাপে ১৫-৩০ মিনিট (যন্ত্রাংশের পরিমাণের ভিত্তিতে) বা ১৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপে ৩-১০ মিনিট রেখে সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেবে বাংলাদেশে হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাসে প্রায় এক কোটি মানুষ আক্রান্ত। ফোরাম ফর দি স্টাডি অব দি লিভারের তথ্যানুযায়ীÑ বাংলাদেশে হেপাটাইটিসে আক্রান্ত হয়ে বছরে ২২ হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু ঘটছে। এদিকে সংক্রামক রোগীর সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ায় গত বছরের নভেম্বরে জেল-জরিমানার বিধান রেখে ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮’ প্রণয়ন করে সরকার। তাতে বলা হয়, যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা ঘটাতে সহায়তা করেন বা সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি গোপন করেন, তাহলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। আইনে এইচআইভি (এইডস), ভাইরাল হেপাটাইটিস, ইবোলা, যক্ষ্মা, ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়াসিস, টাইফয়েডসহ ২৩টি সংক্রামক রোগের নাম উল্লেখ করা হয়। অথচ তদারকির অভাবে ডেন্টাল হাসপাতাল ও চেম্বারগুলোই হয়ে উঠেছে সংক্রামক রোগ বিস্তারের অন্যতম একটি মাধ্যম। ডেন্টাল সার্জন ডা. মো. শামীমুল আলম বলেন, দাঁতের চিকিৎসায় অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। ভালো ক্লিনিক ও হাসপাতালগুলোয় অটোক্লেভ মেশিন, হট এয়ার ওভেন ব্যবহার করা হয়। প্লাস্টিকের সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে সাইডেক্স বা সমধর্মী কোনো রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়। সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করতে এলে খুব বেশি টাকা ব্যয় হয় না। কিছুটা সময় প্রয়োজন হয় আর চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত বেশ কয়েক সেট সরঞ্জাম থাকতে হয়। ব্যয়বহুল হওয়ায় অনেকে এক-দুই সেট দিয়েই দিনের পর দিন কাজ চালিয়ে যান। ফলে রোগীর চাপ থাকলে জীবাণুমুক্ত করার সময় পান না। আবার নিম্নমানের ও একই সুচ অনেকদিন ব্যবহার করলে তা রোগীর মাড়িতে ভেঙে রয়ে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। এসব ব্যাপারে সচেতন থাকা চিকিৎসকের নৈতিক দায়িত্ব। খরচ একটু বেশি হলেও প্রয়োজনে রোগীকে বুঝিয়ে বলা উচিত। স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (ডেন্টাল) ডা. উম্মে সালমা আবদুল্লাহ বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, যে কোনো সার্জারিতে সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করে কাজ করার বিধান আছে। এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন দফতর থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান চালানো হয়। এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের হাসপাতাল শাখায় প্রমাণসহ কেউ লিখিত অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কোন কোন গাছ লাগালে মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব-


শীতকাল শেষ। প্রতিদিন বাড়ছে তাপমাত্রা। গরম বাড়তেই ফের বেড়েছে মশার উপদ্রব। তবে বেশ কয়েকটি গাছ আছে, যেগুলির গন্ধ মশা মোটেই সহ্য করতে পারে না।

আসুন এবার জেনে নেওয়া যাক কোন কোন গাছ লাগালে মশার উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব-

১) গাঁদা ফুলের গন্ধে শুধু মশা নয়, যে কোনো পোকামাকড়ই এর ধারে কাছে ঘেঁষে না। তাই বাড়ির চারপাশে গাঁদা গাছ লাগান। দূরে থাকবে মশা, মাছি, পোকামাকড়।

একই সঙ্গে বাড়বে বাড়ির শোভাও।

২) তুলসির একাধিক স্বাস্থ্য ও আয়ুর্বেদিক গুণের আমরা অনেকেই জানি। তুলসি গাছ পরিবেশকে জীবাণুমুক্ত, বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে। তুলসির গন্ধ মশা, মাছি, পোকামাকড়কে দূরে রাখে। তাই বাড়িতে টবে হলেও তুলসি গাছ লাগান।

৩) লেবু পাতার গন্ধ মশা, মাছি একদমই সহ্য করতে পারে না। তাই মশা তাড়াতে বাড়িতে লেবু গাছ লাগাতে পারেন।

৪) রসুন শুধু রান্নায় স্বাদ বাড়ায় না, একই সঙ্গে দ্রুত ক্ষত সারাতেও সাহায্য করে। কিন্তু জানেন কি, বাড়িতে রসুন গাছ লাগালে মশার উপদ্রব থেকেও সহজে মুক্তি পাওয়া যায়। বিশ্বাস না হলে বাড়িতে রসুন গাছ লাগান আর ফল পান হাতেনাতে।

Bd protidin

Friday, March 1, 2019

সন্তান পড়াশোনায় অমনযোগী? জানুন সমস্যা সমাধানের কৌশল

পড়াশোনায় মোটেও মনযোগ নেই। স্কুলে পারফর্মেন্স তলানিতে ঠেকেছে। ক্লাস টিচারের অভিযোগ প্রতিদিন শুনতে শুনতে হয়রান -এমন অভিযোগ শোনা যায় অনেক বাবা-মায়ের মুখেই। আবার দেখা যায় অনেক চেষ্টা করেও পড়া মনে রাখতে পারছে না সন্তান। সে নিজেও বুঝতে পারছে না কেন ভুল হচ্ছে এত? অমনোযাগই কি এর জন্য শুধু দায়ী? না কি মনে রাখতে না পারাটাও একটা সমস্যা?

জেনে রাখুন, এমন সমস্যা আজকাল ঘরে ঘরে। আপনিও হয়তো সারা দিনের শেষে সন্তানের পড়াশোনার বিষয় নিয়ে ভাবতে বসলেই অমনযোগিতার কথাই হয়তো বার বার আপনার চিন্তা বাড়িয়ে দিচ্ছে। শাসন করে, ভয় দেখিয়েও অমনোযোগের অসুখকে কব্জা করা যায় না। এর জন্য দরকার কিছু জরুরি কৌশল। দেখে নিন কোন কোন উপায়ে সন্তানের অমনোযাগিতা দূর করবেন :

► সন্তান কিছুটা বড় না হওয়া পর্যন্ত পড়তে বসলে তার সামনে থাকুন।

এমন একটা সময় তার পড়ার জন্য বরাদ্দ করুন, যাতে অফিস সামলে সেই সময়টা আপনিও বাড়িতে থাকেন। সামনে থাকলে ওর ভুলে যাওয়ার কারণ, কোথায় ঘাটতি সে সব বোঝা অনেক সহজ হবে।

► শিশুর ক্ষেত্রে ছবি ও ব্লকের সাহায্য  নিন। পড়ার বিষয়টা ছবি এঁকে, প্রয়োজনে আলাদা আলাদা রং ব্যবহার করে বোঝান। পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল কোনো দৃশ্যও খুব কাজে আসে। তাই ইতিহাস বা নাটক বোঝাতে বসলে সেই ঘটনার উপর নির্মাণ কোনো নাটক বা সিনেমার দৃশ্যও দেখাতে পারেন। এতে মনে থাকবে বেশি। তবে সাহিত্য নির্ভর হলে তবেই তা দেখাবেন। বইয়ের গল্প পরিবর্তন করা নাটক-সিনেমায় সে সময় আস্থা রাখবেন না।

► সন্তান যা পড়ছে, সেটা আপনাকে পাল্টা বোঝাতে বলুন। এটা করতে সক্ষম হলে বুঝবেন, পড়া বুঝতে বা মনে রাখতে তার আর সমস্যা হবে না। ​

► পড়া বুঝে লিখে ফেলতে বলুন একবার। লিখে ফেললে সহজেই মনে রাখতে পারবে।  

► ইতিহাস বা সাহিত্য গল্পের ছলে বুঝিয়ে বলুন সন্তানকে। মনে রাখা যায় এমন কিছু কৌশল আছে। যেমন, কোনো কোনো সাল-তারিখ বা বানান, রসায়নের পর্যায় সারণী- এসব মনে রাখার সহজ কিছু কৌশলগত ফর্মুলা আছে। নেট থেকেও সে সব জানা যায়। নিজে তা এক জায়গায় করে সন্তানকে বুঝিয়ে দিলে তো ভালই, একান্ত তা না পারলে অন্য কারও সাহায্য নিন বা ওকেই বলুন নেট ঘেঁটে সে সব জোগাড় করে নিতে।

► শিশু একাগ্র না হলে তাকে একটানা পড়াবেন না। এতে সন্তানের মনঃসংযোগের ঘাটতি দেখা যায়। বরং পড়ার মাঝে মাঝে ওর পছন্দের কিছু করতে দিন। এতে আনন্দ পাবে, মন ভালো রেখে পড়লে মনে রাখতেও পারবে সহজে।

► পড়া পারলে এই কিনে দেব, ওই কিনে দেব এ সব লোভ দেখানো ছোট থেকেই বন্ধ করুন। এতে মনঃসংযোগ তো বাড়েই না, উল্টে ওর মধ্যে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্যের প্রতি দায়বদ্ধতা আসে না। যা করে, তা পুরস্কারের লোভে করে।

► অ্যাবাকাসের সাহায্য নেওয়া, পড়াশোনাকে খেলার ছলে সহজ করে তোলার পরেও ওর মনঃসংযোগ বাড়াতে না পারলে মনোবিদের সাহায্য নিন। কয়েকটা কলসাল্ট সিটিং ওর ভিতরের সমস্যাকে সামলে দিতে পারবে সহজেই।

ফেসবুক বিনোদন না মানসিক চাপ?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে ফেসবুক খুবই জনপ্রিয়। ফেসবুক শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই না। তা এখন নিউজ জানা ও বিনোদনের মাধ্যম। তবে সব সময় কি ফেসবুক বিনোদনের মাধ্যম? ফেসবুকের কারণে অনেক সময় আপনার মানসিক চাপও বাড়াতে পারে বলে মনে করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফেসবুক শুধু বিনোদনের মাধ্যম না; তা অনেক ক্ষেত্রে ভয়ের কারণও হতে পারে। কারণ ফেসবুকে আমরা অনেক সময় মৃত ব্যক্তির ছবি দেখি। যেমন পুরান ঢাকায় আগুনের ঘটনায় আমরা যেসব ছবি ফেসবুক ভেসে বেড়াতে দেখেছি তা অনেক মানুষের মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। কারণ ভয়ানক কোনো কিছু দেখলে অনেক সময় রাতে আপনি তা স্বপ্নে দেখতে পারেন অথবা ভয় পেতে পারেন। কারণ সব মানুষের ধারণক্ষমতা এক না। কারো মন বেশি নরম আবার অনেক মানুষ বেশি ভয় পায়। তাদের জন্য মৃত ব্যক্তির ছবি ভয়ানক। যা তার মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহিত কামাল যুগান্তরকে বলেন, ফেসবুক বিনোদনের মাধ্যম। তবে অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুক মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যা আপনার মন ও শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর অনেক ভয়াবহ ছবি আমরা ফেসবুকে দেখেছি। বিশেষ করে এ ব্যাপারগুলোতে শিশুদের চোখ এড়ালে ভালো। ফেসবুকে ক্রমাগত ভয়ানক ছবি বা ভিডিও দেখলে তা মন ও শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে আপনি ভয় পেতে পারেন।


অনেক সময় দেখা যাবে আপনার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে নানা দুঃস্বপ্নে। শরীর ও মনে একরকম অস্বস্তি দানা বেঁধে ওঠে।


তিনি বলেন, ফেসবুকে ছবি দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা এমন কোনো ছবি দেবে না যা দেখলে আমরা ভয় পাই। এসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।


তবে ফেসবুক বিনোদন বটে। কারণ আমি নিজের ফেসবুক আইডি আছে। রোগী দেখার পর যখন আমি ক্লান্তবোধ করি তখন বন্ধুরে সঙ্গে চ্যাট করি। একটা কথা মনে রাখতে ফেসবুক ব্যবহারে তখনই ক্ষতি যদি আমরা ফেসবুকের অপব্যবহার করি।


তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তিরা মানসিকভাবে নাজুক, অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন, যারা কোনো মানসিক চাপ নিতে পারেন না, কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এ ধনের মানুষের জন্য ভয়ানক কোনো ছবি বা ভিডিও না দেখাই উত্তম।


যেসব সমস্যা হতে পারে


ঘুম আসতে দেরি হওয়া, ভেঙে ভেঙে ঘুম হওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা, বুক ধড়ফড়, বুকে চাপ বা অস্বস্তি, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হাত–পা ঝিমঝিম করা, কানমাথা হঠাৎ গরম হয়ে যাওয়া, ঘাম ছেড়ে দেওয়া,মাথা ঘোরানো, হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্যহীনতা বোধ করা, বমি বমি ভাব, পেটে গ্যাস বা চাপ, হঠাৎ হাত–পা ঠাণ্ডা বা অবশ হয়ে আসা, মুখ শুকিয়ে আসা, অস্থিরতা বোধ করা, হাত-পা কাঁপা, মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা, শরীরের নানা জায়গায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ও মৃত্যুভীতি।


এসব সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Sunday, February 24, 2019

বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে এই ১০টি ভুল কখনোই করবেন না

১) গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে যে রাবার পাইপটি থাকে, সেটিতে ‘বিএসটিআই’ ছাপ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তার সঙ্গে আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখুন। গ্যাসের পাইপটি যেন দৈর্ঘ্যে এক থেকে দেড় ফুটের বেশি লম্বা না হয়। সে ক্ষেত্রে পাইপ পরীক্ষার সময়ে অসুবিধা হবে।

২) রেগুলেটরের নজলটি যাতে পাইপ দিয়ে ভালো করে কভার করা থাকে, তা লক্ষ্য রাখুন। গরম বার্নারের সঙ্গে যাতে গ্যাসের পাইপ কোনোভাবে লেগে না থাকে, তা খেয়াল রাখুন।

৩) পাইপটি নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। কিন্তু ভুলেও সাবান পানি ব্যবহার করবেন না। ২ বছর পরপর অবশ্যই পাইপটি বদলে ফেলুন।

৪) পরিষ্কার রাখার জন্য গ্যাসের পাইপটিকে কোনও রকমের কাপড় বা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস দিয়ে মুড়ে রাখবেন না। সে ক্ষেত্রে পাইপ ফেটে গেলে বা লিক হলে ধরা পড়বে না।

৫) গ্যাস লিক হচ্ছে বুঝতে পারলে বাড়ির কোনও ইলেক্ট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স অন করবেন না। ওভেন, রেগুলেটর বন্ধ করে দরজা-জানালা খুলে দিন।

 ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে এই ১০টি ভুল কখনোই করবেন না


বিডিমর্নিং ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:১০ PM আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:১০ PM

১) গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে যে রাবার পাইপটি থাকে, সেটিতে ‘বিএসটিআই’ ছাপ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তার সঙ্গে আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখুন। গ্যাসের পাইপটি যেন দৈর্ঘ্যে এক থেকে দেড় ফুটের বেশি লম্বা না হয়। সে ক্ষেত্রে পাইপ পরীক্ষার সময়ে অসুবিধা হবে।

২) রেগুলেটরের নজলটি যাতে পাইপ দিয়ে ভালো করে কভার করা থাকে, তা লক্ষ্য রাখুন। গরম বার্নারের সঙ্গে যাতে গ্যাসের পাইপ কোনোভাবে লেগে না থাকে, তা খেয়াল রাখুন।

৩) পাইপটি নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। কিন্তু ভুলেও সাবান পানি ব্যবহার করবেন না। ২ বছর পরপর অবশ্যই পাইপটি বদলে ফেলুন।

৪) পরিষ্কার রাখার জন্য গ্যাসের পাইপটিকে কোনও রকমের কাপড় বা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস দিয়ে মুড়ে রাখবেন না। সে ক্ষেত্রে পাইপ ফেটে গেলে বা লিক হলে ধরা পড়বে না।

৫) গ্যাস লিক হচ্ছে বুঝতে পারলে বাড়ির কোনও ইলেক্ট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স অন করবেন না। ওভেন, রেগুলেটর বন্ধ করে দরজা-জানালা খুলে দিন।

৬) গ্যাস লিক করার পরে যদি কিছুক্ষণের মধ্যে গন্ধ আসা বন্ধ না হয়, তাহলে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিস বা হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন। সিলিন্ডার থেকে রেগুলেটর আলাদা করে দিয়ে সিলিন্ডারের মুখে সেইফটি ক্যাপও পরিয়ে দিতে পারেন।

৭) খালি সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের রেগুলেটর খোলার সময় আশপাশে কোনও মোমবাতি বা প্রদীপ জাতীয় জিনিস যাতে না জ্বলে, তাও খেয়াল রাখুন।

৮) একটি ঘরে দু’টি সিলিন্ডার রাখার জন্য অন্তত ১০ বর্গফুট জায়গা থাকা জরুরি। এমন জায়গায় সিলিন্ডার রাখবেন না, যেখানে সহজেই তা অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে।

৯)সিলিন্ডারের ওপরে কখনোই কোনও কাপড়, বাসন ইত্যাদি রাখবেন না।

১০) গ্যাসের ওভেনটি সব সময়ে সিলিন্ডারের অন্তত ছয় ইঞ্চি ওপরে রাখুন। ওভেনের ওপর যাতে সরাসরি হাওয়া না লাগে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন। ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনে আনার পর ট্রাক থেকেই রাস্তায় জোরে জোরে ফেলা হয় গ্যাস সিলিন্ডার। অথচ এভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ফেলা বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম কারণ। বাসা-বাড়িতে সিলিন্ডার থাকলে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, তাও জানেন না অনেকে। আমাদের সামান্য অসতর্কতা কেড়ে নিতে পারে বহু মানুষের প্রাণ। রচিত হতে পারে অসংখ্য স্বপ্নের কবর।

Saturday, February 2, 2019

শহর গ্রামে ডিভোর্সের হিড়িক

কি শহর, কি গ্রাম, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের হার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ঢাকার বাইরে অন্যান্য সাত বিভাগেও এই হার উদ্বেগজনক। আশঙ্কার বিষয় সংসার ভাঙার এই হার বিভাগীয় শহরগুলোতে বছর বছর বাড়ছে। আর নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষই বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছেন।

এ ছাড়া একক পরিবারে থাকা দম্পতিদের যৌথ পরিবার থেকে আসা দম্পতিদের তুলনায় বিচ্ছেদে যাওয়ার হার বেশি। আর বিচ্ছেদের কারণের মধ্যে যে বিষয়গুলো জরিপে উঠে এসেছে সেগুলো হলো- পরকীয়া, ভুল বোঝাবুঝি, সাংসারিক দায়িত্ব পালনে অনীহা, সঙ্গীকে মূল্যায়ন না করা, মাদকাসক্তি, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, সন্দেহ প্রবণতা, শ্বশুরবাড়ির লোকদের দুর্ব্যবহার, সন্তান ধারণে অক্ষমতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি। এমনকি ‘এন ওভারভিউ অফ দ্য ইফেক্টস অব ডিভোর্স অন কালচার অ্যান্ড সোসাইটি উইদিন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রবন্ধেও উল্লেখ করা হয়, গ্রামাঞ্চলে কম বয়সে বিয়ে হয় অনেকের। এর ফলে বিচ্ছেদের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সমাজবিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করে শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিচ্ছেদের বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা গিয়েছে। এগুলো হলো- মাদকাসক্তি, স্বামী-স্ত্রীর জীবন যাপনে অমিল, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, নারীর পেশাগত উন্নয়ন এবং আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন। এ ছাড়াও যৌতুক ও বাল্যবিবাহ বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ। এক সময় পরিবারের কথা চিন্তা করে ও সামাজিক লোকলজ্জার জন্য আপস করে সংসার করলেও নারীরা এখন তারা আপসে রাজি নয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকাতে গড়ে প্রতিদিন ৫০টির ওপর বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়ছে। সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বিচ্ছেদের নোটিস পাঠানো হয়েছে ২৪ হাজার ৯১২টি। এর মধ্যে পুরুষরা পাঠিয়েছে আট হাজার ৯৬টি এবং নারীরা ১৬ হাজার ৮১৬টি। অর্থাৎ নারীরা পুরুষের থেকে দ্বিগুণ বিচ্ছেদের আবেদন করছেন। আর ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম মহানগরীতেও বিচ্ছেদের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) হিসাবে প্রতি দুই ঘণ্টায় সেখানে একটি করে সংসার ভাঙছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চসিকের তথ্যে, সেখানে এক হাজার ৫৭৯টি বিচ্ছেদের আবেদন করা হয়। আর প্রতি মাসে গড়ে ৩৮৪টি আর প্রতিদিন গড়ে ১৫টি বিচ্ছেদের আবেদন করা হচ্ছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আবেদনকারীর মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে, দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি রাজশাহীতে। প্রতি হাজারে সেখানে এক দশমিক ৯ জন বিচ্ছেদের আবেদন করেন। রাজশাহীর পরপরই সবচেয়ে বেশি বিচ্ছেদ হচ্ছে খুলনায়। সেখানে প্রতি হাজারে এক দশমিক ৩ জন বিচ্ছেদের আবেদন করছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্যে, বিচ্ছেদের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সালিশি বোর্ডের কর্মকর্তারাও হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের মতে, মাত্র ২ শতাংশ দম্পতি সালিশি বৈঠকে আসেন। তারা আরও জানান, বিচ্ছেদের আবেদন পাওয়ার পর দুই পক্ষকে প্রতি মাসে শুনানির জন্য ডাকা হলেও ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো পক্ষ সিটি করপোরেশন অফিসে আসেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য নারী নিজেই এখন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে অনেকে নিজের পেশাজীবনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে আগের চেয়ে বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।