Saturday, June 2, 2018

কাঁচামরিচে রয়েছে নানা গুণ


রান্নাঘরের অন্যতম প্রয়োজনীয় একটি উপাদান হলো কাঁচামরিচ। রান্নায় বা সালাদে তো বটেই, কেউ কেউ ভাতের সঙ্গে আস্ত কাঁচামরিচ খেতেও পছন্দ করেন।

কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে এই কাঁচামরিচে রয়েছে নানা গুণ। কাঁচামরিচে থাকা রাসায়নিক উপাদানগুলি ডায়াবেটিসতো নিয়ন্ত্রণে রাখেই পাশাপাশি কাটাছেড়ার ক্ষেত্রে রক্তপাতও বন্ধ করে। তবে এখানেই শেষ নয়। রয়েছে কাঁচামরিচের আরও উপকারিতা-

১। কাঁচামরিচে থাকা ‘ক্যাপসিসিন’ নাকে রক্তপ্রবাহ সুগম করে। যা সর্দি-কাশি এবং সাইনাসের জটিলতা সারাতে উপকারী।

২। কাঁচামরিচ খেলে যে গরম অনুভূত হয় তা ব্যথা উপশম করতে অত্যন্ত কার্যকর।

৩।

কাঁচামরিচে থাকে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি। তাই কাঁচামরিচ ঠাণ্ডা জায়গায় রাখা উচিত। কারণ তাপ, আলো এবং বাতাসের সংস্পর্শে আসলে এই ভিটামিন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

৪। ‘এন্ডোরফিনস’ নামক রাসায়নিক উপাদান নিঃসৃত হয় কাঁচামরিচ থেকে। যা মন ভাল রাখার জন্য এনজাইম বৃদ্ধি করে।

৫। ডায়বেটিস রোগীদের জন্য কাঁচামরিচ অত্যন্ত উপকারী। কারণ তা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।

৬। আয়রণের প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে অন্যতম কাঁচামরিচ। তাই যাদের শরীরে আয়রণের অভাব রয়েছে এবং ঝাল সহ্য করতে পারেন তাদের কাঁচামরিচের উপর জোর দেওয়া উচিত। দৃষ্টিশক্তির জন্যেও কাঁচামরিচ উপকারী।  

৭। কাঁচামরিচে প্রচুর ব্যাকটেরিয়া রোধকারী উপাদান থাকে। ত্বকের বিভিন্ন সংক্রমণ রোধ করতে এই উপাদানগুলি উপকারী।

৮। কাঁচামরিচে উচ্চমাত্রায় ‘বেটা–ক্যারোটিন’ নামক অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট উপস্থিত থাকে। এটা হৃদযন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

৯। কাঁচামরিচে উচ্চমাত্রায় থাকা ভিটামিন–এ হাড়, দাঁত ও মিউকাস ঝিল্লিকে শক্ত করে।

Thursday, May 31, 2018

পর্নো আসক্তি গিলে খাচ্ছে কিশোরদের

পর্নো আসক্তি গিলে খাচ্ছে কিশোরদের। নিরিবিলি সময় কাটানো, রাতে একা বিছানায় শুয়ে বাটন চাপছে অনর্গল। সবই পর্নো মুভি। রিডিং রুমে থাবা মেলেছে পর্নো মুভি। জীবনের শুরুতেই এমন আসক্তি পাল্টে দিচ্ছে কারো কারো জীবন। কেউ কেউ কিশোর বয়স থেকেই হয়ে উঠছে বেপরোয়া। নারীসঙ্গ খুঁজতে হয়ে উঠে পাগলপ্রায়। এই কিশোরদের দিয়েই ঘটছে অঘটন। রাজধানীর একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র সুফি আয়ান। বাবা ইতালি প্রবাসী। মা বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। দুই ভাই বোনের মধ্যে আয়ান ছোট। বড় বোন  একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে এলএলবিতে পড়ছেন। মা অফিসে, বড় আপু বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকায় স্কুলের সময় বাদ দিয়ে বাকি সময়টা তাকে একাই বাসায় থাকতে হয়। আর এ সময়টা সে স্মার্ট ট্যাব নিয়ে পড়ে থাকে। এতো কম বয়সেই তাকে চোখে বইতে হচ্ছে ভারি পাওয়ার ওয়ালা মোটা কাচের চশমা। স্কুল থেকে ফিরে কোনোভাবে ড্রেসটা চেঞ্জ করে নিজের রুমে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। প্রায় সময়ই একা ঘরে চুপচাপ বসে থাকে। একা রুমে সারাদিন কি করে তার খবর জানে না মা বা বড় বোন। 
একদিন অনার্স পড়ুয়া বোন বাসায় এসে দেখে ট্যাব হাতে নিয়েই কখন জানি ঘুমিয়ে পড়েছে তার আদরের ছোট ভাই। ট্যাব বন্ধ করতে গিয়ে হঠাৎ তার বোনের চক্ষু চড়কগাছ। যে ভাইকে খুব ছোট বলে এতদিন জেনে এসেছে তার ট্যাবে কিনা পর্নো সাইটের ভিডিও চলছে। অফিস থেকে মা ফেরার পর তাকে পুরো বিষয়টা জানায়। এরপর সুফির মা ছেলের সঙ্গে ফ্রি হওয়ার ভান ধরে কিছু অ্যাডাল্ট গল্পের ছলে জানতে পারে ছেলে অনেক আগে থেকেই পর্নো মুভির প্রতি আসক্ত। আর সে এসব কোথা থেকে জেনেছে জানতে চাইলে সুফি জানায়, ক্লাস সেভেনে পড়াকালীন সর্বপ্রথম তার এক বন্ধুর ট্যাবে ৮-১০ বন্ধু মিলে বিদেশি বিভিন্ন পর্নো ভিডিও দেখে। এছাড়া তাদের বন্ধুদের সবচাইতে পছন্দের পর্ণ ভিডিও হচ্ছে স্পাইডার ম্যান পর্নো ভিডিও। 

একইভাবে রাজধানীতে সরকারি চাকরিজীবী এক বাবা একদিন তার ইন্টারমিডিয়েটে পড়ুয়া কিশোর ছেলে রায়হানকে দেখে রুমের দরজা আটকে ওয়াইফাই কানেকশন দেয়া কম্পিউটারে বসে অ্যাডাল্ট মুভি দেখছে। ছোট সময় বাচ্চাদের মা মারা যাওয়ার পর আর বিয়ে করেননি বাবা সায়েম ফরায়েজী। দুই ছেলেকে নিয়েই চলছে সংসার। ছেলের এই বিপথে যাওয়া কিছুতেই মেনে নিতে পারেনি সায়েম। তাই একদিন ছেলেকে প্রচণ্ড মার দেয়ার কারণে সে বাসা থেকে বেরিয়ে যায়। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর এক বন্ধুর বাসায় গিয়ে পায় ছেলেকে। এ সময় তার বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারে স্কুল শেষ করে সারাদিন একা একা বাসায় থাকতে খুব বিরক্ত লাগার কথা সে তার আরেক বন্ধুকে জানালে সে তাকে এই অ্যাডাল্ট মুভি দেখতে পরামর্শ দেয়। তাই যখনই সুযোগ পায় তখনই পর্নো মুভি দেখে রায়হান। মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ‘প্রযুক্তি’ শিরোনামে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে পর্নোগ্রাফি দেখার কারণে শিশুরা পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে না। যৌন সহিংসতার প্রতি আকৃষ্ট হয়, অশ্লীলতার চর্চা বেড়ে যায়। মা-বাবাকে অসম্মান করতে শেখে, সামাজিক মূল্যবোধ নষ্ট হয়ে যায়, মনে ধর্ষণের ইচ্ছা জাগিয়ে তোলে।

রাজধানীর স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে পর্নোছবির আসক্তি। ইন্টারনেটে পর্নোসাইটের অনিয়ন্ত্রণ খুব সহজেই শিশুদের ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকার জগতের দিকে। ফলে দীর্ঘ মেয়াদে এই শিশু-কিশোররাই জড়িয়ে পড়ছে বড় বড় অপরাধের সঙ্গে। 
একটি বেসরকারি গবেষণায় উঠে এসেছে, রাজধানীতে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের প্রায় ৭৭ ভাগ কোনো না কোনো ভাবে পর্নোগ্রাফি দেখছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিকৃত যৌন শিক্ষার মধ্যে দিয়ে বেড়ে ওঠা এসব শিশু পরিবার ও রাষ্ট্রের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতনতার পাশাপাশি সরকারকে কঠোর হবার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের। বিভিন্ন সংস্থার গবেষণায় দেখা গেছে, ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সী প্রতি একশ’ ছেলেমেয়ের মধ্যে ৬৬ জনই যৌন অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। মনোচিকিৎসকরা মনে করেন, এভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে পর্নো আসক্তি বাড়তে থাকলে আগামী দুই দশকের মধ্যে সামাজিক মূল্যবোধ আর ধর্মীয় অনুশাসন বলে কিছু থাকবে না।
যখন থেকে মোশন পিকচারের উদ্ভব তখন থেকেই পর্নোগ্রাফি মুভি বানানোও শুরু হয়েছে। উনিশ শতকের শুরুর দিকে ব্রোথেলে দেখানো হতো এগুলো বাইরে বিক্রি করা ছিল আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে নতুন নতুন প্রযুক্তির উদ্ভাবনের প্রভাব পড়ে মুভি তৈরিতেও। এভাবে কয়েক দশকের মাঝে পর্নোগ্রাফিক মুভি তৈরির আইনগত বাধাগুলোও ফিকে হতে থাকে। আর নব্বইয়ের দশকে ডিভিডি ও ইন্টারনেটের কল্যাণে এ ধরনের অ্যাডাল্ট কন্টেন্ট পৃথিবীজুড়েই সহজলভ্য হয়ে যায়। পর্নোগ্রাফি মুভি মূলত নির্দিষ্ট শ্রেণির প্রাপ্তবয়স্ক দর্শকদের জন্য বানানো হয়। সববয়সী দর্শকের জন্য না। কিন্তু উপরের দুটো কেস স্টাডিতেই উঠে এসেছে শিশু কিশোররা এ ধরনের মুভি দেখছে নিয়মিত। 

বর্তমান যুগে যোগাযোগের সহজ মাধ্যম ইন্টারনেট। আর এ ইন্টারনেটেই যখন সহজ প্রবেশাধিকার দিয়ে ইনডেক্স করা ৪৫০ মিলিয়ন পর্নোগ্রাফিক সাইট তখন প্রিয় সন্তানের জন্য অভিভাবকের উদ্বিগ্নতা প্রশমিত করার যেন উপায় থাকে না। যখন পরিসংখ্যান বলে, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৬ থেকে ১৯ বছর বয়সের ৩৮ ভাগই ইন্টারনেটে আসক্ত তখন অভিভাবকদের ভাবতে হয় অনেক কিছু। আর সার্চ ইঞ্জিন অপটিমাইজেশনের কারণে সম্পূর্ণ অপ্রতাশিতভাবে ৫ থেকে ৭ বছরের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী শিশুর ১২ শতাংশ এবং ৮ থেকে ১৭ বছরের ১৬ শতাংশ শিশুর সামনে ইনডেক্স করা এই ৪৫০ মিলিয়ন পেইজগুলোর সাজেশন্স চলে আসে। শিশু মন পরিচিত হয় পর্নোগ্রাফি নামক ভয়াল মানসিক বিকারের সঙ্গে। পরিসংখ্যানের এ তথ্যে, আধুনিক প্রযুক্তিকে আশীর্বাদের চেয়ে অভিশাপ হিসেবেই ধরা হয় অভিভাবকদের জন্য।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের সামপ্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে দেশের ৭৭ শতাংশ কিশোর-কিশোরী পর্নো দেখে। আর এগুলো দেখতে তারা ব্যবহার করছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ট্যাবের মতো সহজলভ্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি। এছাড়া ঘরে ঘরে ব্রডব্যান্ড আর ওয়াইফাই সহজলভ্য হওয়াতে এর বিস্তার বেড়েছে অনেক বেশি। বাংলাদেশে ১৮ বছরের পরে যে কেউ পর্নো দেখতে পারে। যদি না সে কোন পাবলিক প্লেসে বা প্রকাশ্য উৎপাত না করে। কিন্তু শিশু কিশোরদের জন্য পর্নো দেখা সামাজিকভাবে নানারকম সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। সুস্থ স্বাভাবিক যৌন শিক্ষা না থাকায় শিশু কিশোরদের মনোজগতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে। অল্প বয়স থেকেই পর্নো মুভি দেখার ফলে নানারকম সামাজিক অবক্ষয়ের ঘটনা ঘটছে। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মাঝে অ্যামেচার পর্নো বানানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে । 
মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের করা একটি কেস স্টাডিতে দেখা গেছে, মিসেস শায়লা একটি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষিকা। ওনাকে সবাই শ্রদ্ধার চোখে দেখেন। একদিন পরীক্ষার হলে ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রকে তিনি বকা দেন অসদুপায় অবলম্বন করার জন্য। এ ঘটনা তিনি ভুলেই যেতেন। কিন্তু দু’দিন পরে উক্ত শিক্ষিকার বাথরুমের বাইরের দেয়ালে খুবই আপত্তিকর এক ছবি আঁকা দেখতে পান ওই শিক্ষিকা। আর সেই ছবির নারী পুরুষের জায়গায় ওনার আর এক জুনিয়র শিক্ষকের নাম লেখা। এই ঘটনায় তিনি খুবই মর্মাহত হন আর ভেঙে পড়েন। তদন্তে বেরিয়ে পড়ে কাজটি সেই ছাত্রের করা আর এই দুজন শিক্ষক তাকে আরেকজনের খাতা দেখে লেখায় বকা দিয়েছিল। তাই সে প্রতিশোধ নিতে এমন কাজ করেছে। একটা শিশুর ভাবনার অস্বাভাবিকতা উঠে আসে এ ধরনের ঘটনায়।
শিশু কিশোর উন্নয়ন ও মনো-সামাজিক সংস্থা প্রেরণার সাধারণ সম্পাদক ও সাইকো থেরাপিস্ট এসজেড রেজিনা পারভীন বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে প্রত্যেক শিশুকেই সুস্থ আর স্বাভাবিক যৌনতা সম্পর্কে জানা উচিত। যদি না জানে তার ফলে দেখা যায় তারা পর্নোসহ বিভিন্ন অ্যাডাল্ট সাইটগুলো দেখে যৌন সম্পর্ককে অস্বাভাবিক ভাবতে শুরু করে। এর প্রভাব পড়ে তাদের সামাজিক আচরণে। এমনকি বড় হওয়ার পরে দাম্পত্য সম্পর্কে এর প্রভাব পড়ছে। অনেক সময়ই অনেক স্বামী পর্নো মুভি যেভাবে দেখে ঠিক একইভাবে যৌন সম্পর্ক করতে চায় আর স্ত্রী রাজি না হলে শুরু করে মানসিক ও শারীরিক অত্যাচার।

পর্নো মুভি ইন্ডাস্ট্রি বিশ্বজুড়ে বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করে। তাই ইন্টারনেটে এগুলো খুবই সহজলভ্য। স্বাভাবিক নানা বিষয়ে সার্চ করলেও পর্নো মুভির লিংক চলে আসে। আর ইদানীং সবচাইতে ভয়ানক যে ব্যাপারটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে তা হল অডিও পর্নোর প্রচলন। এটাই এখন সবচাইতে ভয়ানক। একজন কিশোর কানে হেডফোন গুঁজে কী শুনছে তা সহজে বোঝা যাবেনা। সামনে বই খুলে বসে অডিও পর্নো শুনে শুনে আপনার আদরের শিশু বা কিশোর সন্তানটির সুস্থ স্বাভাবিক সম্পর্ক নিয়ে অত্যন্ত কুৎসিত ধারণা পাচ্ছে। সে তখন নিজের পরিবারের নারী ছাড়া বাকি সব নারীদের নিয়ে বাজে চিন্তা করছে আর এটাকে সে মোটেই খারাপ ভাবছে না। শুনতে শুনতে তার কান ও চোখ এটাকে স্বাভাবিক বলে ভাবতে শুরু করছে।

মনোবিজ্ঞানীরা মনে করছেন পর্নোগ্রাফি অন্যান্য মাদকের মতোই একটা আসক্তি। মাদক যেমন মাদকাসক্তকে প্রভাবিত করে, নীল ছবিগুলোও মানুষের মস্তিষ্কে ঠিক সেভাবেই প্রভাব ফেলে। শিশু কিশোরদের বেলায়তো আরো একধাপ এগিয়ে। ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় পর্নোগ্রাফি আসক্তি মাদকের চেয়েও ভয়ানক হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এই গবেষণার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিষ্পাপতার দিন শেষ হয়ে গেছে। মানুষ এখন ইন্টারনেটের মাধ্যমে অনেক কিছুই জানতে পারে। এটা হচ্ছে ঘরে হেরোইন রেখে শিশুকে ছেড়ে দেয়ার মতো। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী জেফরি সেটিনোভারের মতে, আধুনিক বিজ্ঞান আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে, পর্নোগ্রাফির আসক্তি হেরোইনের মতোই। বিজ্ঞান গবেষকদের দাবি, যারা অধিক মাত্রায় অশ্লীল দৃশ্য উপভোগ করেন, তাদের মগজের ধূসর পদার্থ উল্লেখযোগ্য হারে কমতে থাকে। ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরীক্ষা থেকে গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে অবিরল যৌন দৃশ্য উপভোগ করলে মস্তিষ্কে তার বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হতে পারে। আমরা শঙ্কিত যে আগামী প্রজন্ম একটি মেধাহীন ও অসুস্থ সমাজ উপহার দিবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক সহকারী অধ্যাপক তৌহিদুল হক বলেন, কিশোরদের প্রেমঘটিত কারণসহ নানা কারণে পর্নোগ্রাফিসহ বিভিন্ন ধরনের অন্যায় কাজের প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়ছে। ফিলিপাইন, ভিয়েতনামসহ উন্নত বিশ্বের অনেক দেশে সরকারিভাবে কিশোরদের পর্নোসাইটে প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে। অনেক দেশের সরকার এই সাইটগুলো বন্ধ করলেও আমাদের দেশে ওভাবে বন্ধ হয়নি। শিশু কিশোরদের বয়সের ডিমান্ড কমাতে বয়স এবং বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে মিল রেখে তাদের চাহিদা পূরণ করতে হবে। যে বয়সে যতটুকু প্রাপ্য তাকে ততটুকু সুবিধা প্রদান করতে হবে। এক্ষেত্রে অভিভাবক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এক ধরনের প্রেসার থাকতে হবে। রাষ্ট্র এক্ষেত্রে নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। 

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নেহাল করিম বলেন, কিশোরদের পর্নো আসক্তি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হচ্ছে- রাষ্ট্রীয়, পারিবারিক, সামাজিক উদাসীনতা। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশেই ১৮ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পর্নো সাইট বন্ধ করে দিয়েছে। যেটা আমাদের দেশে এখনো ওভাবে হয়নি। দ্বিতীয়ত হচ্ছে বর্তমান সময়ে বাবা মা এতটাই ব্যস্ত সময় কাটায় যে তাদের সন্তানকে খুব একটা সময় দিতে পারে না। ফলে শিশুরা একাকী সময় কাটাতে এবং শরীর বৃত্তীয় কামনা নিবৃত্ত করতে পর্নো সাইটের আশ্রয় নেয়। এই সর্বনাশা পথ থেকে সন্তানদের ফেরাতে বাবা মা’ই পারেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে। 

সমাজবিজ্ঞানি অধ্যাপক রাশেদা ইরশাদ নাসির বলেন, আমাদের সমাজে ফ্যামিলি বন্ডিংসটা কমে যাচ্ছে। বাবা মায়েরা অনেক বেশি ব্যস্ত থাকায় ছেলেমেয়েকে প্রয়োজনীয় সময় দিতে পারে না। একই সঙ্গে প্রযুক্তির যেমন ভালো দিক আছে তেমনি খারাপ দিকও আছে। এক্ষেত্রে বাচ্চাদের কোনো বিষয়ে চাপ প্রয়োগ না করে তার মধ্যে এমন মনোবৃত্তি তৈরি করতে হবে যেন সে লুকিয়ে লুকিয়ে পর্নোগ্রাফি বা নিষিদ্ধ কোনো জিনিসের প্রতি আসক্ত না হয়। বাচ্চাদের এই পজেটিভ মনোবৃত্তি তৈরিতে পরিবার, বাবা-মা, শিক্ষক, গণমাধ্যম সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। 

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সস্টিটিউটের চেয়ারপারসন অধ্যাপক ড. নাসরীন ওয়াদুদ বলেন, চীনসহ বিভিন্ন দেশে পর্নো সাইটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যেটা আমাদের দেশে বহালতবিয়তে চলছে। আমাদের সমাজে অতি আধুনিক কিছু বাবা মা তাদের সন্তানদের কিশোর বয়সেই হাতে একটি স্মার্ট ফোন কিনে দিয়ে জাতে উঠতে চায়। ফলে বাচ্চারা তাদের ইচ্ছামতো বিভিন্ন সাইটগুলোতে প্রবেশ করে খেয়ালখুশিমতো পার পেয়ে যাচ্ছে। এভাবেই এক্সাইটমেন্টের জায়গা থেকে কিশোররা একটু একটু করে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অপরাধের দিকে পা বাড়ায়। কিশোরদের এই অতিমাত্রায় আধুনিকতা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য বিপদ বয়ে আনবে।

Wednesday, May 30, 2018

অর্থের বিনিময়ে ‘হিন্দুত্ববাদী’ খবর প্রচার করতে রাজি হয়েছিল ২৫টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম!

ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমকে কাঁপিয়ে দিয়েছে কোবরাপোস্ট নামের একটি ওয়েবসাইট। আরও নির্দিষ্ট করে বললে, পুষ্প শর্মা নামের একজন অনুসন্ধানী সাংবাদিক ভারতীয় বড় বড় সংবাদমাধ্যমের নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। কোবরাপোস্টের চালানো স্টিং অপারেশনে দেখা গেছে, অর্থের বিনিময়ে আগামী লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদী’ খবর প্রচার করতে রাজি হয়েছিল দেশটির প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যম। এই খবর ফাঁস হওয়ার পর তা নিয়ে সংবাদ প্রকাশেরও আগ্রহ দেখায়নি এসব মিডিয়া। এ নিয়ে এখন টালমাটাল ভারতীয় সংবাদমাধ্যম। প্রশ্ন উঠেছে, কীভাবে চলছে ভারতীয় মিডিয়া? আর বস্তুনিষ্ঠতা ও সত্য প্রকাশে সংবাদমাধ্যমের দায়িত্বই বা কোথায় গেল?


গত শুক্রবার ৪৯টি ভিডিওচিত্র প্রকাশ করে কোবরাপোস্ট দাবি করেছে, অর্থের বিনিময়ে বিজেপির ‘হিন্দুত্ববাদী’ খবর প্রচার করতে রাজি হয়েছিল দেশটির ২৫টি সংবাদমাধ্যম। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহ আগে প্রথম দফায় কিছু ভিডিওচিত্র প্রকাশ করে কোবরাপোস্ট। ১৭টি মিডিয়াগোষ্ঠীর ওপর ওই ভিডিওগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এরপর শুক্রবার ফের কিছু ভিডিওচিত্র প্রকাশ করা হয়। মূলত, ভারতের প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলার ভিডিওচিত্র এগুলো। এতে দেখা গেছে, সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ কর্তারা অর্থের বিনিময়ে ‘হিন্দুত্ববাদী’ রাজনীতির খবর প্রচারে রাজি হয়ে যান। একই সঙ্গে বিজেপির পক্ষ নিয়ে কংগ্রেস, বহুজন সমাজবাদী পার্টি (বিএসপি), সমাজবাদী পার্টি (এসপি) ও জনতা দলের (ধর্মনিরপেক্ষ) নেতাদের সমালোচনা করে সংবাদ প্রকাশের বিষয়েও রাজি হয়েছিলেন এসব সংবাদমাধ্যমের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা।


প্রকাশিত ভিডিওতে নেটওয়ার্কএইটিন, স্টার ইন্ডিয়া, জি নিউজ, টাইমস গ্রুপ (টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক পত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের মালিক), ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপ, দৈনিক জাগরণ, হিন্দুস্তান টাইমস, পেটিএমসহ বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের শীর্ষ কর্তাদের দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে মিডিয়াগোষ্ঠীর মালিক বা সম্পাদকদেরও ভিডিওতে দেখা গেছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের ভাইস চেয়ারপারসন কাল্লি পুরি, টাইমস গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বিনীত জৈন, পেটিএমের ভাইস প্রেসিডেন্ট অজয় শেখর শর্মা, ভারত সমাচারের প্রধান সম্পাদক ব্রিজেশ মিশ্র প্রমুখ। কোবরাপোস্ট মোট ২৭টি সংবাদমাধ্যমে স্টিং অপারেশন চালিয়েছিল। এর মধ্যে সাজানো প্রস্তাব পত্রপাঠ নাকচ করেছে দুটি বাংলা পত্রিকা। এগুলো হলো কলকাতার দৈনিক বর্তমান ও সংবাদ।


শুক্রবার ভিডিওগুলো প্রকাশের আগের দিনই দিল্লি হাইকোর্ট একটি ভিডিওর বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। দৈনিক ভাস্করের পক্ষ থেকে করা নিষেধাজ্ঞার আবেদনে সাড়া দিয়ে গত বৃহস্পতিবার আদালত বলেছিলেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান-সংশ্লিষ্ট ভিডিও প্রকাশ করা যাবে না। আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতে কোবরাপোস্ট তাদের পূর্বনির্ধারিত সংবাদ সম্মেলন বাতিল করে এবং বাকি সব ভিডিওচিত্র অনলাইনে প্রকাশ করে দেয়। এই ডকুমেন্টারির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অপারেশন ১৩৬: পার্ট ২’। এর শুরুতেই বিশ্বব্যাপী সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতাবিষয়ক ২০১৭ সালের সূচকে ভারতের অবস্থান দেখানো হয়।


পুষ্প শর্মাই মূলত স্টিং অপারেশনে অংশ নিয়েছেন। ছদ্মবেশে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে গিয়ে শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। সংবাদমাধ্যমগুলোর কাছে অর্থের বিনিময়ে হিন্দুত্ববাদী খবর প্রচারের প্রস্তাব দেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে দেওয়া প্রস্তাবে হিন্দুত্ববাদী খবর প্রচারের জন্য দেড় কোটি রুপি থেকে দরদাম শুরু করেন পুষ্প। অন্যদিকে, স্টার ইন্ডিয়া ও টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপের মতো জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোকে ৫০০ কোটি রুপি পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। তবে এসব ভিডিওচিত্রে নগদ বা চেকে অর্থ লেনদেন বা চুক্তি স্বাক্ষরের কোনো বিষয় চোখে পড়েনি।


স্টিং অপারেশন কী? 
সত্য উদ্‌ঘাটনের জন্য সাংবাদিকেরা ছদ্মবেশে যে অভিযান চালান, তাকেই বলা হয় স্টিং অপারেশন। এ ক্ষেত্রে অংশ নেওয়া সাংবাদিক নিজের পরিচয় গোপন করে একটি ফাঁদ পাতেন এবং তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে প্রকৃত সত্য বের করে আনার চেষ্টা করেন। তবে এসব স্টিং অপারেশনের নৈতিক ভিত্তি নিয়ে যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে। অনেকেই এ ধরনের অভিযানকে নৈতিকতাবিরোধী বলে অভিহিত করে থাকেন। অন্যদিকে, স্টিং অপারেশনের পক্ষের ব্যক্তিদের বক্তব্য, প্রকৃত সত্য বের করতেই এ ধরনের অভিযান প্রয়োজন।




ভিডিওচিত্রে কে কী বলেছেন
ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘শ্রীমদ্‌ভগবতগীতা প্রচার সমিতি’র আচার্য সেজে সংবাদমাধ্যমগুলোর কার্যালয়ে গিয়েছিলেন পুষ্প শর্মা। অর্থের বিনিময়ে মোট তিনটি পর্বে প্রচার চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি। প্রথম পর্বে বলা হয়, হিন্দুধর্মাবলম্বীদের কাছে অন্যতম অবতার কৃষ্ণর বিভিন্ন উক্তি এবং হিন্দুত্ববাদী বক্তব্য প্রচারের শীর্ষে রাখতে হবে। দ্বিতীয় পর্বে বিরোধী রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রচারের প্রস্তাব দিয়েছিলেন পুষ্প। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিরোধীদের ‘পাপ্পু’, ‘বুয়া’, ‘বাবুয়া’ প্রভৃতি নামে অভিহিত করে অপমান করার কথা বলেন আচার্যরূপী পুষ্প। এর বিপরীতে ‘হিন্দু নেতাদের’ পক্ষে ইতিবাচক সংবাদ প্রচারের প্রস্তাব দেন তিনি। তৃতীয় পর্বে আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে বিদ্বেষমূলক প্রচার চালানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। পুষ্প বলেছিলেন, নির্বাচনের মাঠকে ‘বিভক্ত’ ও ‘সাম্প্রদায়িক’ রূপ দেওয়ার জন্য উদ্দেশ্যমূলক সংবাদ প্রচার করতে হবে।


প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের কাল্লি পুরি বলছেন, ‘...যেকোনো ধরনের বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রে আমরা কোনো বিষয়বস্তু নির্ধারণ করে দিই না। আমাদের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ যেকোনো বিজ্ঞাপন এখানে চালানো যেতে পারে।’ তবে ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের সম্পাদকীয় নীতিমালায় কোনো হস্তক্ষেপ করা যাবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। তবে কথিত ওই বিজ্ঞাপন ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপের কার্যালয়ে তৈরির বিষয়ে রাজি হয়েছিলেন কাল্লি পুরি।


কোবরাপোস্টের ভিডিও অনলাইনে প্রকাশের পর এক বিবৃতিতে ইন্ডিয়া টুডে বলেছে, যেসব কথাবার্তা হয়েছিল, তা এই ভিডিওচিত্রে প্রকৃতভাবে দেখানো হয়নি এবং সত্যকে বিকৃত করা হয়েছে।


অন্যদিকে, প্রকাশিত ভিডিওতে টাইমস অব ইন্ডিয়া গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক বিনীত জৈনকে নগদে ৫০০ কোটি রুপি দেওয়ার প্রস্তাব করেন পুষ্প শর্মা। তাঁদের মধ্যে অর্থ লেনদেনের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হতে দেখা গেছে। ভিডিওতে দেখা গেছে, বিনীত জৈন ও তাঁর একজন সহযোগী অর্থ চেকে দেওয়ার অনুরোধ করছেন। তবে বিনীত বলেন, তারা এই কাজ করতে রাজি, তবে নিজেদের নিরপেক্ষ রূপ ধরে রাখতে হবে। ভিডিওতে বিনীতকে বলতে দেখা গেছে, ‘করপোরেট হিসেবে আমাদের নিজেদের নিরপেক্ষ প্রতীয়মান করতে হবে। যতটুকু নিরপেক্ষ থাকা যায় আরকি...।’


তবে ভিডিওচিত্র প্রকাশের পর এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি বিনীত জৈন। সানডে এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে তাঁকে ই-মেইল করা হলেও তিনি তার কোনো উত্তর দেননি।


কোবরাপোস্টের প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, পুষ্প শর্মার প্রস্তাবে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা অনিল দুয়া বলছেন, ‘প্রথম দুটি ধাপ সম্ভব। দেখুন, আপনি যেভাবে চাইছেন, সেভাবে কাজ করতে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।’ এরপরই সংবাদমাধ্যমের সিইওর সঙ্গে কথা বলার শর্ত দেন অনিল। তিনি বলেন, সিইওর সঙ্গে কথা বলা ছাড়া কিছু করা যাবে না।


কোবরাপোস্টের ভিডিও প্রকাশের পর অনিল দুয়া দ্য সানডে এক্সপ্রেসের কাছে দাবি করেন যে তাঁর বক্তব্য পুরোপুরি প্রচারিত হয়নি এবং সম্পাদনা করা হয়েছে।


অন্যদিকে, পেটিএমের কাছেও আচার্য হয়ে গিয়েছিলেন পুষ্প শর্মা। প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটি শীর্ষ কর্মকর্তা অজয় শেখর শর্মা বলছেন, এরই মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) হয়ে অনেক কাজ করেছেন তারা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী অফিসের কাছে গ্রাহকদের তথ্য দেওয়ার কথাও স্বীকার করেন অজয়। ভিডিও প্রকাশের পর এক টুইট বার্তায় অবশ্য পেটিএম দাবি করেছে, ভিডিওতে যা দেখানো হয়েছে, তা সর্বৈব মিথ্যা। গ্রাহকদের সব তথ্য নিরাপদেই আছে।


নিখাদ ‘ফাঁদ’ 
কোবরাপোস্টের অনিরুদ্ধ বহাল দ্য সানডে এক্সপ্রেসকে বলেছেন, পুষ্প শর্মা নিজেই এই অনুসন্ধান চালিয়েছেন। কোবরাপোস্ট শুধু পুষ্পর কাছ থেকে প্রতিবেদনগুলো কিনেছে। অনিরুদ্ধ বলেন, ‘প্রতিবেদক একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে গিয়েছিলেন এবং তাঁরা এটিকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন...তাঁদের কেউ (মিডিয়া নির্বাহী) একবারও চিন্তা করেননি যে আমাদের কাছে অর্থ না-ও থাকতে পারে।’


অনিরুদ্ধ জানান, কোনো অর্থই ছিল না প্রতিবেদকের কাছে। তিনি বলেন, ‘আমরা কীভাবে অর্থ দেব? আমাদের কোনো অর্থই নেই।’ অর্থাৎ পুষ্প শর্মা শুধু অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছিলেন। আর তাতেই ধরা ভারতীয় মিডিয়ার শীর্ষ ব্যক্তিরা।


কে এই পুষ্প শর্মা?
টাইম মিডিয়া গ্রুপের মালিকানাধীন অন্যতম সংবাদমাধ্যম হলো টাইমস অব ইন্ডিয়া। কোবরাপোস্টের ভিডিওগুলো প্রকাশের পর এই সংবাদমাধ্যম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে দিল্লি পুলিশ পুষ্প শর্মাকে গ্রেপ্তার করেছিল।


ভারত সরকারের আয়ুশ মন্ত্রণালয়ে যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মুসলিমদের প্রতি রাষ্ট্রীয়ভাবে বৈষম্য করা হচ্ছে—এমন একটি প্রতিবেদন ২০১৬ সালে প্রকাশ করেছিলেন পুষ্প। তাতে বলা হয়েছিল, যোগব্যায়ামের প্রশিক্ষক পদে মুসলিমদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে না। তবে সরকার পক্ষের অভিযোগ ছিল, তথ্য অধিকার আইনে পাওয়া একটি সরকারি জবাব নকল করেছিলেন পুষ্প। তবে পরে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। কারণ, পুষ্পর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সপক্ষে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


টাইমস অব ইন্ডিয়া আরও দাবি করেছে, ২০০৯ সালেও নাকি গ্রেপ্তার করা হয়েছিল পুষ্প শর্মাকে। তখন তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ঘটনা সাজিয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে স্টিং অপারেশন চালানোর অভিযোগ আনা হয়েছিল।


স্টিং অপারেশনের লক্ষ্য যাঁরা
কোবরাপোস্টের ভিডিওচিত্রে জি নিউজ, স্টার ইন্ডিয়া, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস, ইন্ডিয়া টুডে গ্রুপ, নেটওয়ার্ক ১৮, এবিপি গ্রুপ, পেটিএম, রেডিও ওয়ান, সুবর্ণা নিউজ, ইন্ডিগো ৯১.৯ এফএম, দৈনিক জাগরণ, ভারত সমাচার, স্বরাজ এক্সপ্রেস নিউজ, সান গ্রুপ, লোকমাত, এবিএন অন্ধ্রজ্যোতি, টিভিফাইভ নিউজ, দিনামালার, বিগ এফএম, কে নিউজ, ইন্ডিয়া ভয়েস, দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস, এমটিভি নিউজ, ওপেন মিডিয়া নেটওয়ার্ক, বর্তমান ও দৈনিক সংবাদের কর্মকর্তাদের দেখা গেছে।


কেন চুপ প্রধান প্রধান ভারতীয় সংবাদমাধ্যম? 
ভারতে স্টিং অপারেশন এই প্রথম নয়। তবে দেশটির প্রধান প্রধান সংবাদমাধ্যম এই প্রথম স্টিং অপারেশনের বৈধতা ও নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। এই আচরণকে একটি বাংলা প্রবাদের সঙ্গে তুলনা করা যায়—ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে! কারণ, যেসব সংবাদমাধ্যম আজ স্টিং অপারেশনের বিরুদ্ধে বলছে, তারাই কিছুদিন আগেও এ কাজের সমর্থনে সংবাদ প্রকাশ করেছে। স্টিং অপারেশনের ভিডিও সরাসরি নিজেদের টিভি চ্যানেলে প্রচার করেছে।


ভারতে স্টিং অপারেশন সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় ২০০১ সালে, তেহেলকা ম্যাগাজিনের সৌজন্যে। ওই স্টিং অপারেশনে দেখা গিয়েছিল, ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাঘা বাঘা কর্মকর্তাই ঘুষের বিনিময়ে সরকারিভাবে অস্ত্র কেনার বিষয়ে সহায়তা করতে রাজি। এই বিষয় ব্যাপকভাবে প্রচার করে জি নিউজ। ২০০২ সালে গুজরাটে হওয়া কিছু দাঙ্গা নিয়ে পরে আবার স্টিং অপারেশন চালিয়েছিল তেহেলকা। ওই অভিযানে পাওয়া তথ্য আবার আদালতে প্রমাণ হিসেবেও দাখিল করা হয়েছিল। কাস্টিং কাউচ নিয়ে স্টিং অপারেশন চালিয়ে শক্তি কাপুরকে ফাঁদে ফেলেছিল ইন্ডিয়া টিভি চ্যানেল।


২০০৬ সালে জেসিকা লাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্টার টিভি স্টিং অপারেশন চালিয়েছিল। তাতে অপরাধী ধরাও পড়েছিল। সিএনএন-আইবিএন চালিয়েছে বেশ কটি স্টিং অপারেশন। ১৯৯৯ সালে এনডিটিভির চালানো এক স্টিং অপারেশনে সঞ্জীব নন্দর কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যায়। তিনি ভারতের সাবেক নৌবাহিনীপ্রধানের ছেলে। মাতাল হয়ে গাড়ি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করেছিলেন সঞ্জীব। পরে তাঁর আইনজীবী সাক্ষ্য পরিবর্তনের বেআইনি চেষ্টা করেছিলেন। সেটিই ধরা পড়েছিলেন এনডিটিভির স্টিং অপারেশনে। 

অথচ এবার বড় বড় সংবাদমাধ্যমই চুপ! সাম্প্রতিক এই ঘটনায় অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রতাপ ভানু মেহতা একটি কলাম লিখেছেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসে প্রকাশিত সেই কলামে তিনি লিখেছেন, ভারতের সংবাদমাধ্যমগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে অনাস্থা অনেক দিন ধরেই আছে। বর্তমানে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো দেশের গণতন্ত্রের রক্ষাকর্তা হওয়ার বদলে এর জন্য মৌলিক হুমকি হয়ে উঠেছে। 


‘দ্য ওয়্যার’ নামের অনলাইন সংবাদমাধ্যমের কর্ণধার সিদ্ধার্থ বরদারাজন বলেন, এই স্টিং অপারেশনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে যে ভারতের বড় মিডিয়াগুলো সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার চূড়ান্ত অপব্যবহার করছে। যে এজেন্ডা দেশকে বিভক্ত করে দেয়, নির্বাচনের আগে বিভক্তির রাজনীতিকে সমর্থন করে, সেটিও বাস্তবায়ন করতে তারা দ্বিধা করে না। সিদ্ধার্থ আগে ভারতের বিখ্যাত ইংরেজি দৈনিক দ্য হিন্দুর সম্পাদক ছিলেন।


কোবরাপোস্টের স্টিং অপারেশনে ভারতীয় মিডিয়ার পচে যাওয়া চেহারা প্রকাশিত হয়েছে মন্তব্য করে প্রতাপ ভানু মেহতা বলেন, স্টিং অপারেশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অযৌক্তিক নয়। তবে তাই বলে এই অভিযানের কারণে প্রধান সংবাদমাধ্যমগুলোর যে ‘দুর্গন্ধ’ প্রকাশ্যে এসেছে, তা-ও অগ্রাহ্য করা যায় না।

Prothomalo

'৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তামাক খায়'

প্রফেসর ড. অরূপরতন চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশের  ৪ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তামাক সেবন করে। এখানে সিগারেটের মূল্য কম।

বিড়ি আরো সস্তা। সিগারেট ক্রয়ে ব্যয় হয় জিডিপির এক শতাংশ। এতে স্বল্প আয়ের মানুষ স্বাস্থ্যক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শুধু তামাক ব্যবহারে কারণে প্রতিবছর মারা যায় প্রায় ১ লক্ষ মানুষ। পঙ্গু হয় ৩ লক্ষ ৮২ হাজার। এই অবস্থা থেকে দেশের জনগণকে রক্ষা করতে সবোর্চ ৭০ শতাংশ ট্যাক্স বৃদ্ধি করে বিড়ি-সিগারেট ও তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেন তিনি। কারণ তামাকের মূল্য ১০ শতাংশ বাড়লে নাকি ব্যবহার ৫ শতাংশ কমে বলে দেখেছেন গবেষকেরা। 
বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০১৮ উপলক্ষে সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত  সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থা -মানস এর আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে ড. অরূপ রতন জানান, গত বছর তামাকজাত পণ্য থেকে ১৭ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে এনবিআর। বিড়-সিগারেট ও অন্যান্য তামাকজাত পণ্যের দাম বাড়িয়ে আরো রাজস্ব আয় করতে পারে সরকার। এ জন্য তিনি নিম্নস্তরে এক প্যাকেট সিগারেটের দাম বর্তমানে ২৩ টাকার স্থলে ৪০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেন। এছাড়া দশ শলাকার সিগারেট প্যাকেটে নিম্নস্তরে ২৫.৯৫টাকা, উচ্চস্তরে ৪৯.৬০টাকা এবং প্রিমিয়াম স্তরে ৮২ টাকা করারোপের প্রস্তাব করেন। এতে ৫ হাজার ২শ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব পাবে সরকার। একইভাবে বিড়িতে রাজস্ব বৃদ্ধি করা হলে রাজস্ব বাড়বে আরো ১ হাজার ৩০ কোটি টাকা। 
অরূপরতন চৌধুরী বলেন, পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি তামাক ব্যবহারকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এদেশে ৪ কোটি ৬০ লক্ষ (৪৩%) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এবং সাত শতাংশ শিশু-কিশোর সিগারেট, বিড়ি এবং ধোঁয়াবিহীন তামাক সেবন করেন। 
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন মানসের সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান তালুকদার, কোষাধ্যক্ষ হোসনে আরা রীনা এবং ক্লিনিক্যাল সাইক্লোজিষ্ট সাদিয়া শারমিন উর্মি।

বিডি-প্রতিদিন/ সালাহ উদ্দীন

ঢাকায় এবার আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো হচ্ছে

মেট্রোরেলের পর রাজধানীতে আন্ডারগ্রাউন্ড সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণ করতে যাচ্ছে সরকার। সাবওয়েতে রেল ছাড়াও বাস সংযোগ থাকছে। সহসাই ঢাকা শহরে সাবওয়ে নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু হতে যাচ্ছে। সমীক্ষা পরিচালনার জন্য পরামর্শক নিয়োগের একটি প্রস্তাব আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠেয় সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উঠবে। গত ২৪শে মে এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সেতু বিভাগ। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, যানজট নিরসনে রাজধানীতে প্রথমবারের মতো মাটির নিচে তৈরি হবে দেশের সবচেয়ে ব্যয়বহুল এই প্রকল্প। তবে প্রকল্প ব্যয় কত হবে তা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। মূলত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগ্রহেই সাবওয়ে নিয়ে সংশ্লিষ্টরা চিন্তা-ভাবনা করছেন। ২০২০ সালের এপ্রিলের মধ্যে সম্ভাব্যতা যাচাই করা হবে। এজন্য ব্যয় ধরা হয়েছে ২২৪ কোটি ৫৯ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। প্রকল্প অনুমোদনের আগেই সমীক্ষা চালানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়। নির্ধারিত এক্সপ্রেশন অব ইন্টারেস্ট দাখিলের সময়সীমার মধ্যে পাঁচটি বিদেশি কোম্পানি অংশ নেয়। এরপর প্রস্তাব আহ্বান করা হলে তিনটি কোম্পানি অংশ নেয়। এর মধ্যে স্পেন ও জাপানের জয়েন্ট ভেঞ্চারের একটি কোম্পানি সর্বনিম্ন দরদাতা নির্বাচিত হয়েছে। তাদের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য আজ মন্ত্রিসভা কমিটিতে প্রস্তাব উঠবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে চারটি রুটে সাবওয়ে নির্মাণ করা হবে। উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেন ও বাসে ঘণ্টায় প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার যাত্রী রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে চলাচল করতে পারবে। বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে সেতু বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম মানবজমিনকে বলেন, সাবওয়ে নির্মাণ হবে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। কেননা, পৃথিবীর সব বড় শহরেই সাবওয়ে রয়েছে। এটি নির্মাণ হলে একটি অংশ ওপরে থাকবে আর অন্য অংশটি মাটির নিচে থাকবে। ফলে যানজট কমে যাবে। সেতু বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলীর তত্ত্বাবধানে এ প্রকল্পের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা করা হবে। সমীক্ষা চলাকালীন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রাথমিক প্রতিবেদন, অগ্রগতি প্রতিবেদন, মধ্যবর্তী প্রতিবেদন, খসড়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন এবং সর্বশেষ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেবে। এরই মধ্যে সাবওয়ে নির্মাণের জন্য প্রাথমিকভাবে চারটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। রুট-১: টঙ্গী-বিমানবন্দর-কাকলী-মহাখালী-মগবাজার-পল্টন-শাপলা চত্বর-সায়েদাবাদ-নারায়ণগঞ্জের সাইনবোর্ড পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার। রুট-২: আমিনবাজার-গাবতলী-আসাদগেট-নিউমার্কেট-টিএসসি-ইত্তেফাক ও সায়েদাবাদ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার। রুট-৩: গাবতলী-মিরপুর-১-মিরপুর-১০-কাকলী-গুলশান-২-নতুনবাজার-রামপুরা টিভি ভবন-খিলক্ষেত-শাপলা চত্বর-জগন্নাথ হল ও কেরানীগঞ্জ পর্যন্ত এবং রুট-৪: রামপুরা টিভি ভবন-নিকেতন- তেজগাঁও- সোনারগাঁও-পান্থপথ-ধানমন্ডি-২৭, রায়েরবাজার-জিগাতলা-আজিমপুর-লালবাগ ও সদরঘাট পর্যন্ত এটি নির্মাণের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। এদিকে সাবওয়ে নির্মাণের যুক্তি দেখিয়ে সেতু বিভাগ বলছে, ঢাকা শহরে বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ। এখানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ৭৯৫০ জন। মোট সড়কের দৈর্ঘ্য রয়েছে ১২৮৬ কিলোমিটার। সড়কের ঘনত্ব ৯ দশমিক ০১ শতাংশ। অথচ আদর্শমান হচ্ছে ২০-২৫ শতাংশ সড়কের ঘনত্ব। ফাঁকা জায়গা রয়েছে ৩ দশমিক ০৯ শতাংশ, কিন্তু থাকার প্রয়োজন ১৫-২০ শতাংশ। সড়কের বর্তমান সক্ষমতা ৩ লাখ হলেও বিআরটিএ’র নিবন্ধিত গাড়ি প্রায় ৯ লাখ। ঢাকা শহরে যানজটের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৫৫ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণের জন্য সেতু বিভাগ ঢাকা শহরে সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, সড়কপথে যেখানে ১০০ বাসে ঘণ্টায় ১০ হাজার যাত্রী চলাচল করতে পারে, সেখানে একই পরিমাণ বাসে সাবওয়েতে ঘণ্টায় ৬০ হাজার যাত্রী চলাচল সম্ভব। মাটির নিচে সাবওয়ে নির্মাণ হলে জনসংখ্যার একটি বড় অংশ মাটির নিচ দিয়ে চলাচল করতে পারবে। ফলে ভূমির ওপর জনসংখ্যার চাপ কমবে এবং যানজট কমে যাবে।