Saturday, September 29, 2018

মেদ ঝরাবে আদা ও লেবু

ওজন কমানোর মিশনে বরাবরই বিভিন্ন মানুষের বিশাল তালিকা দেখা যায়। ওজন কমানো যেন নয়, ছোটখাটো এক যুদ্ধ।

বেশিরভাগ মানুষের কাছেই শোনা যায়, অনেক কম খেয়েও তাদের ওজন বৃদ্ধি পায়। অনেকে দিনের পর দিন না খেয়ে থাকে তারপরও কোন পার্থক্য দেখা যায় না।

তবে এবার পার্থক্য আপনি নিজে নিজে বুঝতে পারবেন। মাত্র এক কাপ পানি প্রতিদিন পান করার ফলে আপনার পেট এক ইঞ্চি করে কমে যাবে। এই যাদুকরী পানীয় তৈরি করতে মাত্র দুইটি উপকরণের প্রয়োজন হবে।

আদা ও লেবুর মিশ্রণ আপনার ওজন কমিয়ে আনবে যাদুকরী উপায়ে। প্রথমে আদার ছোট ছোট টুকরা করে আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর সেই পানির সঙ্গে আরও পানি মিশিয়ে একটি সম্পূর্ণ লেবু কয়েক টুকরো করে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। তারপর দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করুন।

এরপর সারাদিন এই পানি প্রতি ঘণ্টায় ঘণ্টায় পান করুন। এতে আপনার ওজন কমার পাশাপাশি শরীরও ডিটক্স থাকবে। ঝর ঝর করে ঝরতে থাকবে মেদ!
BD protidin

Saturday, September 22, 2018

মদ্যপানে মৃত্যু হচ্ছে বছরে ৩০ লাখ মানুষের

বিশ্বে মদ্যপানের কারণে বছরে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু) এ তথ্য প্রকাশ করেছে। হু জানিয়েছে, বিশ্বে প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হচ্ছে মদ্যপানে।

সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গ্লোবাল স্ট্যাটাস রিপোর্ট অন অ্যালকোহল অ্যান্ড হেলথ (২০১৮) প্রকাশ পেয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, বিশ্বে মানুষের যত অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় তার মধ্যে একটি বড় অংশ মদ্যপানের কারণে ঘটে। মদ্যপানের কারণে বছরে ৩০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বে মৃত্যুবরণকারী প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন মদ্যপায়ী। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মৃত্যুর শতকরা ৭৫ জনই পুরুষ।

শুধু মদ্যপানের কারণেই যে এত মানুষের মৃত্যু ঘটছে, তা নয়। অ্যালকোহলের প্রতিক্রিয়াতেও বহু মানুষের মৃত্যু হয়। পরিসংখ্যানে প্রকাশ, অ্যালকোহলে যত মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, তার ২৮ শতাংশের মৃত্যু হচ্ছে অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পান করার পর মারামারি, মারাত্মক ক্ষত, পথ দুর্ঘটনাসহ বিভিন্ন কারণে। এ ছাড়া ২১ শতাংশের মৃত্যুর কারণ নানা ধরনের পেটের অসুখে। অ্যালকোহলের কারণে আরও ১৯ শতাংশের মৃত্যু হয় হার্টের অসুখে। অ্যালকোহলযুক্ত পানীয় পানের কারণে বাদবাকি মৃত্যু হয় নানা ধরনের সংক্রামক অসুখ, ক্যানসার, মানসিক অবসাদ ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার জন্য।

মদ্যপানের অন্যতম ঝুঁকি অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বিশ্বের ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী ছেলেমেয়ে এবং সদ্য প্রাপ্তবয়স্কদের কমপক্ষে এক-চতুর্থাংশ মদ্যপানে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, যা সারা বিশ্বের জন্যই উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

Prothom alo

September.23.2018

Wednesday, September 19, 2018

উইঘুর মুসলিমদের ওপর চীনের এত নিপীড়ন কেন?


বিশ্বজমিন
পশ্চিম চীনে তুর্কি উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নিপীড়ন হলো দেশটির নয়া সাম্রাজ্যবাদী নীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গোপন বন্দিশালায় ১০ লাখ মানুষকে বন্দী করে রাখার বিষয়টিও এর অন্তর্ভূক্ত। চীনা সাম্রাজ্যের গতিবিধি বুঝতে পারলেই এই নির্মমতার হেতু উপলব্ধি করা সম্ভব।
শিনজিয়াং, চীনের যে প্রদেশে লাখ লাখ উইঘুরের বসবাস, সেটি অনুবাদ করলে দাঁড়ায় ‘নয়া রাজত্ব’। ঐতিহাসিক ও ভৌগোলিকভাবে এই অঞ্চল পূর্ব তুর্কিস্তান নামে পরিচিত। যদিও চীনা রাষ্ট্র টিকে আছে সাড়ে ৩ হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে। কিন্তু শিনজিয়াং প্রথম চীনের কিং রাজবংশের অন্তর্ভূক্ত হয় ১৮ শতাব্দীর মাঝামাঝি। তখন থেকেই এই অঞ্চলের পরিস্থিতি ছিল, বৃটিশ পরিব্রাজক ফিটজরয় ম্যাকলিনের ভাষায়, ‘স্থায়ীভাবে বিরোধপূর্ণ।’
আমি যখন ১৯৯৪ সালে প্রথম শিনজিয়াং সফর করি ও স্থানীয় উইঘুরদের সাক্ষাৎকার নিই, তাদের চোখে জাতিগত হান চীনা দখলদারদের (তাদের ভাষায়) প্রতি বিদ্বেষ ছিল স্পষ্ট। এক উইঘুর তরুণ আমাকে বলেন, ‘এটি তুর্কিস্তান, চীন নয়। চীনারা আমাদের ভাষা শেখে না। আমাদের অনেকেও তাদের ভাষা শেখে না। ব্যক্তিগত পর্যায়ে পর্যন্ত দু’ পক্ষের সম্পর্ক ভালো নয়।’
এরপর থেকে এই সম্পর্ক আরও খারাপ হয়েছে। চীন কেন রাষ্ট্র হিসেবে আরও উদার হয়নি এর একটি গভীর কিন্তু না-বলা কারণ হলো চীনের কর্তৃপরায়ণ নেতৃত্বের মধ্যে জাতিগত বিদ্রোহের আশঙ্কা কাজ করে। আশির দশকে সোভিয়েত ইউনিয়ন যখন একটু উদার হলো তখনই এ ধরণের বিদ্রোহ দেখা দিয়েছিল। তাই চীন নিজের রাজনৈতিক কাঠামো বদ্ধ রেখে, কূটনীতি ও অর্থনৈতিক প্রণোদনার মাধ্যমে মধ্য এশিয়ার গভীরে প্রবেশ করেছে। এই অঞ্চলের অনেক দেশ সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত ছিল। এখানকার বাসিন্দারাও মূলত উইঘুরদের মতো তুর্কি মুসলিম। তাদেরকে মিত্র বানাতে চীন বর্তমানে এই অঞ্চলে বিপুল অবকাঠামো নির্মাণ করছে। অথচ, দেশটি নিজের মুসলিম সম্প্রদায়কে অনুকূল পরিবেশ দিতে রাজি নয় পাছে ভবিষ্যতে কোনো বিদ্রোহ ঘটে যায়! কিন্তু চীন যে নিজের সীমান্ত ছাড়িয়ে এভাবে গভীরে প্রবেশ করতে চাইছে এর সঙ্গে নিজের ভেতরকার দানবটির এক ধরণের সংযোগ আছে, থাকতেই হবে।
ঐতিহাসিকভাবেই চীন কখনই স্থলভূমিতে সুরক্ষিত ছিল না। বিশেষ করে পশ্চিমাঞ্চলে। ফলে সমুদ্রপথে আগানোর বিলাসিতা করার সুযোগ দেশটির ছিল না। মিং রাজবংশের প্রথম দিকে অ্যাডমিরাল ঝেং হি ভারত মহাসাগরের কিছু এলাকা দখল করেন। সেগুলো ছাড়া নৌ পথে চীনের দুর্বলতা লক্ষণীয়। এখন স্থলভূমিতে চীন বেশ সুরক্ষিত। তাই বর্তমানে দেশটি চায় বিশ্বের সর্ববৃহৎ নৌ বাহিনীর অধিকারী হতে। এই প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পদক্ষেপ হলো উইঘুর মুসলিমদের নির্যাতন বৃদ্ধি করা। ইউরেশিয়া অঞ্চলজুড়ে ভূমি ও সাগরপথে পরিবহন করিডোর প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে চীন যেই বেল্ট অ্যান্ড রোড উদ্যোগ হাতে নিয়েছে সেটি বাস্তবায়নে উইঘুর জনসংখ্যার পূর্ণ অধীনতা আদায় করা প্রয়োজন।
একুশ শতাব্দীর এই সিল্ক রুটের কেন্দ্রবিন্দু হলো মধ্য এশিয়া। সাবেক সোভিয়েতভুক্ত তুর্কি দেশগুলোতে সড়ক, রেলপথ ও জ্বালানি পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে চীন সংযুক্ত হবে ইরানের সঙ্গে। রাশিয়াকে হটিয়ে ইউরেশিয়ায় আধিপত্য স্থাপনের যথেষ্ঠ সম্ভাবনা আছে চীন-ইরান অর্থনৈতিক ও অবকাঠামো মৈত্রীর। কিন্তু এই লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজন উইঘুর সম্প্রদায়ের বশ্যতা। কারণ উপকূলীয় চীন ও মধ্যপ্রাচ্যকে সংযোগকারী এই সকল সড়ক ও জ্বালানি পথকে অবশ্যই শিনজিয়াং-এর মধ্য দিয়েই যেতে হবে।
ঐতিহ্যবাহী উইঘুর সংস্কৃতিকে লঘু করে তুলতে চীনের পরিকল্পনা হলো তাদেরকে নিজেদের ঐতিহ্যবাহী গৃহের বদলে নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রিত অ্যাপার্টমেন্টে থাকতে বাধ্য করা। তাদের লোকজ বাজারকে আধুনিক করা। ২০১৫ সালে আমার পরবর্তী শিনজিয়াং সফরে আমি যেমনটা দেখেছি, চীন চায় শহরগুলোকে নতুন মহাসড়ক ও উচ্চগতির রেলপথের মাধ্যমে সংযুক্ত করতে। চিরাচরিত ‘গাজর-ও-লাঠি’ (পুরস্কৃত করা ও সাজা দেওয়া) নীতির মাধ্যমে চীন হাজার হাজার অবাধ্য উইঘুরকে যেমন বন্দিশালায় রাখছে, তেমনি বাধ্য উইঘুরদের জীবনমানে উন্নতি ঘটাচ্ছে। এই সব কিছুর উদ্দেশ্য হলো উইঘুর মুসলিম সংস্কৃতির অবসান ঘটানো। সবচেয়ে বিরোধপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় হান চীনা আধিপত্যের ষোলকলা পূরণ করা।
পশ্চিমা গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেয়েছে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার মতো দেশের চীনা ঋণের জালে জর্জরিত হওয়া এবং এর মাধ্যমে দেশগুলোর বন্দর ও মহাসড়কের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার বিষয়টি। কিন্তু যে বিষয়টি অগোচরে রয়ে গেছে তা হলো ইউরেশিয়াজুড়ে চীনের মহাপরিকল্পনার জাতিগত অধ্যায়টি। এ নিয়ে আরও মনোযোগ আসা দরকার। চীনের সিল্ক রুট পরিকল্পনায় উইঘুরদের মরু ঘর দেশটির সম্ভাব্য দুর্বলতা।
এই প্রক্রিয়ায় যে জাতীয় গৌরব ও জনক্ষোভের বিষয় জড়িত তাকে খাটো করে দেখবেন না। ইউরোপের উপনিবেশবাদীদের কাছ থেকে হং কং ও ম্যাকাও চীন ফেরত নিয়েছে। যার মাধ্যমে চীনের মজ্জায় বিদেশী অনুপ্রবেশের লজ্জাজনক যুগের আনুষ্ঠানিক অবসান হয়। ওদিকে মঙ্গোলিয়ার স্বার্বভৌমত্ব চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থের দ্বারা অনেকখানি ক্ষুণœ হয়েছে। তিব্বতকে পুরোদমে অধীনস্থ করে রাখা হয়েছে। শিনজিয়াং হলো ‘বৃহত্তর চীন’ প্রকৃত অর্থে রূপায়নের ক্ষেত্রে শেষ অজেয় স্থান, যেটিও ক্রমেই পড়তির দিকে। এরপরই চীন পুরোদমে পূর্ব ও দক্ষিণ চীন সাগরে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় মনোযোগ দিতে পারবে। ফলশ্রুতিতে উন্মুক্ত হয়ে পড়বে ভারত মহাসাগর, যেখানে মিয়ানমার ও জিবুতির মাঝামাঝি নতুন নতুন বন্দর নির্মাণ বা নির্মাণে সহায়তা করছে চীন। কে বলে যে সাম্রাজ্যবাদের যুগ শেষ হয়েছে?
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান প্রায় অর্ধ-পৃথিবী দূরত্বে। ফলে এই নয়া সাম্রাজ্যবাদী উত্থান ঠেকাতে এই দূরত্ব দেশটির জন্য অসুবিধার কারণ। পৃথিবীর পশ্চিম গোলার্ধে একসময় প্রভাব বিস্তার করতো যুক্তরাষ্ট্র। এখন পূর্ব গোলার্ধের ওপর কোনো একক রাষ্ট্র যাতে প্রভাব বলয় তৈরি করতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করার মধ্যে ওয়াশিংটনের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। কিন্তু ইরানের মধ্য দিয়ে যাওয়া চীনা সিল্ক রুট, পাশাপাশি ইউরেশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় নাব্য অঞ্চলে দেশটির নৌ উপস্থিতি থাকলে, পূর্ব গোলার্ধে আধিপত্য বিস্তার করবে চীন।
আমেরিকার বর্তমান দৃষ্টিভঙ্গি, তথা লাভক্ষতির অঙ্কে দ্বিপক্ষীয় ভিত্তিতে সম্পর্ক নির্ণয় করার যে নীতি, তা এই লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্রই স্বেচ্ছায় ত্যাগ করার শামিল। এই অস্ত্র হলো মুক্ত বাজার অর্থনীতি, সুশীল সমাজ ও মানবাধিকারের মতো আমেরিকান আদর্শে আবদ্ধ মৈত্রী। উইঘুরদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে চীনকে দায়বদ্ধ করাটা দক্ষিণ চীন সাগরে চীনা নৌবাহিনীকে ঠেকিয়ে দেওয়ার বাস্তববাদী প্রচেষ্টার সঙ্গেই সঙ্গতিপূর্ণ। উইঘুর নিপীড়ন যেমন চীনের মহাপরিকল্পনার অংশ, তেমনি চীনে মানবাধিকারের স্বপক্ষে আমেরিকার অঙ্গিকারও হওয়া উচিৎ আমেরিকার নিজস্ব প্রচেষ্টার অংশ।
(রবার্ট ডি. কাপলান হলেন ‘দ্য রিটার্ন অব মার্কো পোলো’জ ওয়ার্ল্ড: ওয়্যার, স্ট্রেটজি অ্যান্ড আমেরিকান ইন্টারেস্টস ইন দ্য টোয়েন্টি ফার্স্ট সেঞ্চুরি’ বইয়ের লেখক। তিনি সেন্টার ফর অ্যা নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো। পাশাপাশি, ইউরেশিয়া গ্রুপের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা। তার এই নিবন্ধ মার্কিন শীর্ষ পত্রিকা ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে।)

Friday, September 14, 2018

হার্ডওয়্যার প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র বাংলাদেশ

মো. মিন্টু হোসেন

আপনার ব্যবহার করা ল্যাপটপ, স্মার্টফোন এখন ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ হতে পারে। বাংলাদেশ থেকেই এখন হার্ডওয়্যার যন্ত্রাংশ উৎপাদন করা হচ্ছে। হার্ডওয়্যার উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন আকর্ষণীয় ও সম্ভাবনাময় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানকার স্থানীয় বাজারের চাহিদা, প্রতিযোগিতামূলক দামে শ্রমিক পাওয়া ও ব্যবসাবান্ধব নীতির কারণে হার্ডওয়্যার উৎপাদনে বাংলাদেশ সম্ভাবনাময় খাতে পরিণত হয়েছে বলে সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে।

বাংলাদেশের হার্ডওয়্যার খাত নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণা করেছে আন্তর্জাতিক বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ডেটা করপোরেশন (আইডিসি)। তাদের প্রতিবেদনে আইডিসি জানিয়েছে, স্থানীয় ও বৈশ্বিক হার্ডওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাফল্য দেখতে পেয়েছে তারা। ওয়ালটন ও স্যামসাংয়ের মতো প্রতিষ্ঠান এ দেশে হার্ডওয়্যার উৎপাদন করছে।

আইডিসির প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক মোবাইল ফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্যামসাং বাংলাদেশে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু করে। এখন স্থানীয় তিনটি প্রতিষ্ঠান, যেমন: ওয়ালটন, আমরা কোম্পানিজ ও সিম্ফনি দেশে উৎপাদন পর্যায়ে গেছে। এর বাইরে চীন-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে ট্রানশান হোল্ডিংস উৎপাদন শুরু করেছে।

দেশে হাইটেক শিল্প গড়তে সরকারি নানা সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে আইডিসির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ বলছে, প্রযুক্তিশিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে কর কমানো, ক্যাশ ইনসেনটিভসহ নানা সুবিধা দিচ্ছে সরকার।

আইডিসির প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, বাংলাদেশের তরুণেরা এখানকার বড় শক্তি। এখানকার আট কোটি মানুষের বয়স ২৫ বছরের কম।

আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাজেটস ও ল্যাপটপের বাজার প্রায় ১৫০ কোটি মার্কিন ডলার বা ১২ হাজার ৬০০ কোটি টাকা (৮৪ টাকা ধরে)। ২০১৭ সালে দেশে ৩ কোটি ৪০ লাখ মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি হয়েছিল, যার মূল্য ১১৮ কোটি মার্কিন ডলার আর ল্যাপটপ বিক্রি হয়েছিল ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের।

বোস্টন কনসালটিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জারিফ মুনীর বলেন, তরুণেরা এ খাতের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিবছর দেশে গ্যাজেট ও ল্যাপটপের বাজার ১২ থেকে ২০ শতাংশ বাড়ছে।

আইডিসি তথ্য অনুযায়ী, ভারত ও চীনের তুলনায় বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যায় তরুণের সংখ্যা বেশি। দেশে মোট ৮০ মিলিয়ন তরুণ রয়েছে, যাদের সময় ২৫ বছরের নিচে। এ ছাড়া দেশে সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে মোট ১২১টি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ তরুণ পড়াশোনা করছেন। ফলে অন্য দেশের তুলনায় কম খরচে কর্মী পাওয়া যায়।

বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও দ্রুত এগিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে দেশে ল্যাপটপ তৈরি করছে ওয়ালটন এবং তা নেপালে বিক্রি করছে, যা বাংলাদেশি কোম্পানির জন্য বড় অগ্রগতি।

ওয়ালটনের সূত্রে জানা গেছে, নেপালের বাইরে আফ্রিকার কয়েকটি দেশেও প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি করছে তারা।

চীনের অন্যতম প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা ও নেটওয়ার্ক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে বাংলাদেশে উন্নত অবকাঠামো ও নেটওয়ার্ক খাতে বিনিয়োগ করছে।

দেশে আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রযুক্তিপণ্য তৈরির কারখানা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে শাওমির।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, ‘আমাদের স্থানীয় বাজারে যেমন ব্যাপক চাহিদা আছে, তেমনি প্রতিবেশী দেশগুলোতেও প্রযুক্তিপণ্য রপ্তানি করতে পারি। সরকার ২৮টি হাইটেক পার্ক স্থাপন করছে, যা আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যাবে। কিছুদিনের মধ্যেই এসব পার্কে উৎপাদন শুরু হবে।’

দেশে এখন স্মার্টফোন পেনিট্রেশন ৩০ শতাংশ, যা আগামী কয়েক বছরে ৮০ শতাংশে পৌঁছে যাবে।


বাংলাদেশ কেন আকর্ষণীয়
কম্পিউটার যন্ত্রপাতি নির্মাণের লক্ষ্য বাংলাদেশ এখন আকর্ষণীয় বাজার। আইডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিনিয়োগকারীদের টেনে আনছে। দেশে জিডিপির আকার ২৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আর প্রবৃদ্ধির হার ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। দেশে ১২১ বিশ্ববিদ্যালয়, ৫১টি পলিটেকনিক, ২৮টি হাইটেক পার্ক ও ৭৯ অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে। এ ছাড়া আরেকটি বড় সুবিধা হচ্ছে, এ দেশের ২৫ বছরের কম বয়সী মানুষ আট কোটি। অর্থাৎ এখানে কর্মী বৃদ্ধির হার ভারত ও চীনের চেয়ে বেশি। কর্মীর গড় খরচ বাংলাদেশে মাসে ১২০ মার্কিন ডলার আর ভারতে ২০০ মার্কিন ডলার।

‘ড্রাইভিং এ ডিজিটাল বাংলাদেশ থ্রু হাইটেক ম্যানুফ্যাকচারিং’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রসঙ্গে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেছেন, আন্তর্জাতিক পরামর্শক ও গবেষণা সংস্থা আইডিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারের নীতিগত সহায়তা, প্রতিযোগিতামূলক মজুরি কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে হার্ডওয়্যার পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ বিশ্বমানের হার্ডওয়্যার প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র হতে চলেছে। একই কারণে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিনিয়োগকারীদের জন্যও অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠবে।

শ্রমের সহজলভ্যতা, প্রতিযোগিতামূলক বেতনকাঠামো, অভ্যন্তরীণ বাজারে হার্ডওয়্যার পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সহায়ক নীতিমালা থাকায় বাংলাদেশ হার্ডওয়্যার প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র হয়ে উঠছে।

প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, যেমন: ওয়ালটন ও স্যামসাংয়ের সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়। এ সফলতার পেছনে রয়েছে বাংলাদেশ সরকারের প্রণোদনামূলক নানা সহযোগিতা।

মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, হার্ডওয়্যার কাঁচামালের আমদানি শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। অফিস ভাড়ার ওপর ১০০ শতাংশ ট্যাক্স কমানো ও ক্যাশ ইনসেনটিভ সুবিধা দিচ্ছে বাংলাদেশ সরকার, যা বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপী হার্ডওয়্যার প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনের কেন্দ্র হতে সহায়তা করছে। দেশে ২৮টি হাইটেক পার্ক আগামী দুই বছরের মধ্যে তৈরি হয়ে যাবে। সরকার সেখানে বিদেশি বিনিয়োগ আহ্বান করছে। বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডে পরিণত করতে যেসব বাধা রয়েছে এবং যেসব ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা জরুরি, সেসব সম্পর্কে সরকার অবগত আছে।


দেশে ল্যাপটপের সম্ভাবনা
উদ্যোক্তারা আশা করছেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হার্ডওয়্যার রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হবে। বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সূত্র জানায়, বর্তমানে বছরে দেশে পাঁচ লাখ কম্পিউটার আমদানি করা হয়। এর সঙ্গে খুচরা যন্ত্রাংশসহ আরও তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক পণ্য আমদানি হয়। এ খাতে বছরে খরচ হয় প্রায় দেড় হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা। কম্পিউটার ও মোবাইল ফোনের হার্ডওয়্যার তৈরি করে কমপক্ষে ৫০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব।

আইডিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে ল্যাপটপের বাজার ৩০ কোটি মার্কিন ডলারের। ল্যাপটপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো এ খাতে বিনিয়োগ শুরু করেছে। হার্ডওয়্যার অবকাঠামোর পাশাপাশি দক্ষ জনবল, সার্ভিস সেন্টার ও সেবা খাতে বিনিয়োগ করছে বিদেশি হার্ডওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।

বিসিএসের তথ্য অনুযায়ী, হার্ডওয়্যার উৎপাদনকারী অনেক দেশ এখন আর হার্ডওয়্যার তৈরি করছে না। তারা এগুলো অন্য দেশ থেকে আমদানি করছে। ফলে যেসব দেশ এ খাতে দক্ষতা অর্জন করেছে, ওই সব দেশে ফরমাশ দিচ্ছে। বাংলাদেশও এখন এসব ফরমাশ পেতে শুরু করেছে। এ কারণে বাংলাদেশে হার্ডওয়্যার শিল্প দ্রুত বাড়ছে।

বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির তথ্য অনুযায়ী, দেশে স্থানীয় হার্ডওয়্যারের চাহিদা ব্যাপক আকারে বাড়ছে। দেশে যেসব হার্ডওয়্যার তৈরি হচ্ছে, তা দিয়ে দেশের চাহিদা মেটাতে পারলে অনেক অর্থ দেশে থাকবে। বর্তমানে দেশে পাঁচ লাখ হার্ডওয়্যারের চাহিদা আছে। তবে এর মধ্যে কিছু আমদানি হবে পূর্ণাঙ্গ কম্পিউটার হিসেবে বিদেশ থেকে। আর কিছু দেশীয় হার্ডওয়্যার ব্যবহৃত হবে। ২০২১ সালের মধ্যে দেশে চার থেকে পাঁচ লাখ পিস হার্ডওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হবে। এর মধ্যে এক থেকে দুই লাখ পিস বিদেশে রপ্তানি করা যাবে। বাকিগুলো দেশে কাজে লাগানো হবে।

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি সুব্রত সরকার বলেন, দেশে হার্ডওয়্যার খাতে সম্ভাবনা ব্যাপক। এ জন্য পরিকল্পনা করে এগোতে হবে। ছোট ছোট উদ্যোক্তার পাশে দাঁড়াতে হবে। ছোট উদ্যোক্তারা ইতিমধ্যে দেশে নানা যন্ত্রাংশ উৎপাদন করছেন। কম্পিউটারের নানা যন্ত্রাংশ এখন দেশে তৈরি হচ্ছে।

এ বছরের জানুয়ারিতে গাজীপুরের চন্দ্রায় দেশের প্রথম কম্পিউটার হার্ডওয়্যার উৎপাদন কারখানা উদ্বোধন করেছে ওয়ালটন। সরেজমিনে দেখা যায়, কারখানায় নিজস্ব মাদারবোর্ড, ল্যাপটপ ও স্মার্টফোন সংযোজন করছে ওয়ালটন। ওয়ালটনের কারখানায় দুই স্তরবিশিষ্ট মাদারবোর্ড তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরের মধ্যেই ওয়ালটন মাল্টিলেয়ার মাদারবোর্ড তৈরিসহ কম্পিউটারের সবকিছুই, যেমন: র‍্যাম, এএসডি ডিভাইসেস ইত্যাদি নিজেরাই তৈরির পরিকল্পনা করছে। ওয়ালটন ডিজিটেক ইন্ডাস্ট্রিজ নামের ওই প্রতিষ্ঠানের অধীনে কম্পিউটার উৎপাদন ইউনিটটি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে জাপান ও জার্মানির আধুনিক যন্ত্রপাতি দেখা যায়। সেখানে ল্যাপটপ ও কম্পিউটার নকশা তৈরি, গবেষণা ও উন্নয়ন বিভাগ, মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগ ও টেস্টিং ল্যাব রয়েছে।

ওয়ালটন কর্তৃপক্ষ জানায়, কারখানায় মাসে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ৬০ হাজার ইউনিট ল্যাপটপ, ৩০ হাজার ইউনিট ডেস্কটপ ও ৩০ হাজার ইউনিট মনিটর। কম্পিউটারের অন্যান্য এক্সেসরিজসহ পেনড্রাইভ, কি-বোর্ড ও মাউস উৎপাদন করছে ওয়ালটন। কারখানায় এক হাজার লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। বর্তমানে ওয়ালটনের তৈরি প্রযুক্তিপণ্য দেশের বাইরে নেপাল ও নাইজেরিয়ায় রপ্তানি হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে ওয়ালটনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং প্রতিষ্ঠানটির কম্পিউটার প্রজেক্ট ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার মো. লিয়াকত আলী বলেন, দেশে বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্য, যেমন: মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। এসব প্রযুক্তিপণ্যের আমদানিনির্ভরতা হ্রাসে ইতিমধ্যে ওয়ালটন দেশেই উৎপাদন শুরু করেছে। ওয়ালটন কারাখানায় তৈরি হচ্ছে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটারসহ অন্যান্য এক্সেসরিজ। এর ফলে দেশীয় হার্ডওয়্যার শিল্প গড়ে উঠছে এবং এ শিল্প বিকাশে ওয়ালটন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এতে কর্মসংস্থান বাড়ছে এবং ক্রেতারাও সাশ্রয়ী মূল্যে দেশে তৈরি প্রযুক্তিপণ্য পাচ্ছেন।

বিশ্বের সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারিজ এবং উন্নত কাঁচামালের ব্যবহারে দেশের হার্ডওয়্যার শিল্প খাত আরও মজবুত করতে ওয়ালটনের এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

এর আগে দেশে দোয়েল নামে নিজস্ব ল্যাপটপ তৈরির চেষ্টা করে টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস)। তবে দোয়েল ল্যাপটপ জনপ্রিয়তা পায়নি। সম্প্রতি দেশে নতুন ‘তালপাতা’ ল্যাপটপ তৈরিতে কাজ শুরু করেছে দেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডেটাসফট ম্যানুফ্যাকচারিং ও অ্যাসেম্বলি ইনকরপোরেটেড। লেখালেখির ইতিহাসে তালপাতার ব্যবহারের কথা স্মরণ করে ‘তালপাতা’ নামে ল্যাপটপ কম্পিউটার তৈরি করছে ডেটাসফট।

দেশি উদ্যোক্তারা ছাড়াও বাংলাদেশে ল্যাপটপ সংযোজন করবে হুয়াওয়ে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার এক সম্মেলনে জানান, বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্য উৎপাদনে কারখানা স্থাপন করতে যাচ্ছে হুয়াওয়ে।

দেশের হার্ডওয়্যার খাতে বিনিয়োগ করছে ডেল। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠান ও জনবলকে যুগোপযোগী করে তুলতে নতুন ডেটা সেন্টার সেবার ঘোষণা দিয়েছে ডেল। ডেলের পাশাপাশি আরও কয়েকটি বিদেশি হার্ডওয়্যার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে বাংলাদেশে সংযোজন ও উৎপাদন কারখানা করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

স্মার্টফোনের বাজার
আইডিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী দেশে বর্তমানে মোবাইল ফোনের বাজার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বা ১১৮ কোটি মার্কিন ডলার। দেশে বছরে ৩ কোটি ৪০ লাখ ফোনসেট আমদানি করা হয়। দেশে বর্তমানে পাঁচটি কোম্পানি মোবাইল ফোনসেট সংযোজন কারখানা করেছে। এগুলো হচ্ছে ওয়ালটন, স্যামসাং, সিম্ফনি, আমরা ও ট্রানশান হোল্ডিংস। আগামী দুই বছরের মধ্যে শাওমি দেশে ফোন উৎপাদন করবে।

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে বর্তমানে গ্রাহকের হাতে থাকা পৌনে তিন কোটি স্মার্টফোন পাঁচ কোটিতে উন্নীত হবে।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোবাইল সংযোজন করতে চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে স্যামসাং, সিম্ফোনি, আমরা নেটওয়ার্কস, ট্রানশান ও আরও দুটি কোম্পানি।

সম্প্রতি শাওমি ইন্ডিয়ার ব্যবস্থাপক মানু কুমার জেইন বাংলাদেশ সফরে এসে প্রথম আলোকে জানান, বাংলাদেশের বাজার বুঝে ধীরে ধীরে স্থানীয় উৎপাদনে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের।

মানু বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজার আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তাই আমরা বিশেষ নজরে রেখেই দেশের গ্রাহকদের জন্য সব ধরনের পণ্য, সেবা ও অন্যান্য সব সুবিধা নিয়ে আসছি। এরপর ধীরে ধীরে বাজার বুঝে স্মার্টফোন উৎপাদনসহ অন্যান্য প্রযুক্তিপণ্য উন্মুক্ত করা হবে।’

তাইওয়ানভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানও ভবিষ্যতে বাংলাদেশে স্মার্টফোন সংযোজন করার পরিকল্পনা করছে বলে প্রতিষ্ঠানটির একজন কর্মকর্তা জানান।

দেশে স্মার্টফোন সংযোজন প্রসঙ্গে ও হার্ডওয়্যার খাত প্রসঙ্গে হুয়াওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, সরকারি একটি প্রকল্পের সঙ্গে তারা স্থানীয় সহযোগীদের সহযোগিতা। স্মার্টফোন সংযোজনের বিষয়ে পরিকল্পনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে স্মার্টফোন ও ট্যাব মেলায় প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এখানে যাতে ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোনগুলো তৈরি করতে পারি, তার জন্য ইকোসিস্টেম দাঁড় করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। সফটওয়্যার এক্সপোর্টে আমরা ভালো করছি, সার্ভিস সেক্টরেও গ্রোথ খুবই ভালো। এবার হার্ডওয়্যার সেক্টরে ইকোসিস্টেম দাঁড় করাতে আমরা মনোযোগী হয়েছি।’


আইওটি পণ্য
তথ্যপ্রযুক্তির উন্নতিতে যুগ আসছে আইওটি বা ইন্টারনেট অব থিংসের। বাংলাদেশও এ খাতে যাত্রা শুরু করেছে। কম্পিউটার বা স্মার্টফোন নয় কিন্তু ইন্টারনেটে যুক্ত থাকে—সাধারণভাবে এমন যন্ত্র ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) পণ্য হিসেবে পরিচিত। এসব যন্ত্রকে আবার যেকোনো জায়গা থেকে নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা যায়। প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশের ফলে সারা বিশ্বেই বাড়ছে আইওটি পণ্যের ব্যবহার। বাংলাদেশেও এখন তৈরি হচ্ছে আইওটি পণ্য। শুধু তৈরিই নয়, দেশি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ডেটাসফট এসব পণ্যের রপ্তানিও শুরু করেছে।

ডেটাসফটের ব্যবস্থাপক হাসান রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ২০১৯ সালে দেশে আইওটি পণ্যের বাজার চার হাজার কোটি টাকার বা অর্ধ বিলিয়নের বেশি, যা ২০২৫ সাল নাগাদ ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি ছাড়িয়ে যাবে। বাংলাদেশের দক্ষ প্রকৌশলী ও পরিবেশ এ খাতে বাংলাদেশকে সম্ভাবনাময় করে তুলছে।

আইডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেটাসফট হাইটেক পার্কে তৈরি করছে আইওটি পণ্য। ডেটাসফটের লক্ষ্য শুধু দেশীয় বাজার নয়, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা আইওটি পণ্য পৌঁছে দেওয়া। গত ৩১ জুলাই বাংলাদেশ থেকে প্রথমবারের মতো আইওটি পণ্য রপ্তানি করে প্রতিষ্ঠানটি। গাজীপুরের কালিয়াকৈরের বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্কে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ও কারখানা। বাংলাদেশ ও বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক থেকে প্রথম রপ্তানি করা আইওটি পণ্য হলো পানির স্তর মাপার ইন্টারনেটভিত্তিক একটি যন্ত্র। সৌদি আরবের মক্কাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘স্যাক আল ভাতানিয়া’ এই যন্ত্র আমদানি করে বাংলাদেশ থেকে।

হার্ডওয়্যার খাতের উন্নতি
বাংলাদেশের হার্ডওয়্যার খাতে নানা উন্নতি হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে ছোট ছোট প্রতিষ্ঠান হার্ডওয়্যার উৎপাদন শুরু করেছে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, বাংলাদেশে কেবল প্রযুক্তিপণ্যের সরঞ্জামাদির আমদানির ডিউটি কমিয়েছে তা না, বাংলাদেশ সম্ভবত পৃথিবীর এমন একটা দেশ, যেখানে পণ্য উৎপাদন করে বিদেশে হার্ডওয়্যার রপ্তানি করলে ১০ শতাংশ ক্যাশ ইনসেনটেটিভ দেওয়া হচ্ছে। দেশি ও বিদেশি হার্ডওয়্যার নির্মাতারা তাই বাংলাদেশকে পরবর্তী গন্তব্য হিসেবে মনে করছে।

হার্ডওয়্যার শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, হার্ডওয়্যার খাতের এগিয়ে চলার ক্ষেত্রে বাধা হচ্ছে উপযুক্ত পরিকল্পনা, ফান্ডিং ও সরকারের প্রতিশ্রুতি রক্ষা। দেশের সম্ভাবনাময় এ খাতকে সামনে এগিয়ে নিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এগিয়ে আসবেন বলে মত দিয়েছেন তাঁরা।

Prothom alo

বাড়িতে তৈরি বেলের শরবত কেন খাবেন?

গরমে সবাই বেলের ঠান্ডা শরবত খেতে পছন্দ করেন। বেলের শরবতের প্রশংসা অনেকেই শুনেছেন। পুষ্টিবিদেরাও বেলের শরবতের প্রশংসা করেন। তবে তাঁরা বাড়িতে তৈরি বেলের শরবত খাওয়ার কথা বলেন। পুষ্টিবিদেরা বলেন, শরীরের পানিস্বল্পতা দূর করতে বেলের শরবতের তুলনা হয় না। আবার পুষ্টিগুণের দিক দিয়েও এটি অনন্য।


এক গ্লাস ঠান্ডা শরবত সারা দিনের ক্লান্তি মুছে শরীরকে চাঙা করে তুলতে ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে অবসাদ ঘুচিয়ে দিতেও বেশ কার্যকর।


বেল আমাদের দেশের দারুণ জনপ্রিয় একটি ফল। বাংলাদেশ ছাড়াও এশিয়ার কয়েকটি দেশে বেল পাওয়া যায়। বেশি বেল পাওয়া যায় শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসে। আয়ুর্বেদশাস্ত্রেও বেলের নানা গুণের কথা বলা হয়।


বেলের শক্ত খোলসের ভেতর থাকা নরম মজ্জা বা শাঁস সরাসরি খাওয়া যায় বা তা দিয়ে শরবত তৈরি করা যায়। বেলের শরবত খুব পুষ্টিকর। এটি নানা রোগের বিরুদ্ধে লড়ার পাশাপাশি ত্বক ভালো রাখে এবং চুল পড়া ঠেকায়। বেল পেটের নানা রোগ সারাতে জাদুর মতো কাজ করে। কাঁচা বেল ডায়রিয়া ও আমাশায় রোগের ওষুধ হিসেবেও বিবেচিত। বেলে আছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়াম।


পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার আলোর তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম বেলে রয়েছে পানি ৫৪ দশমিক ৯৬ থেকে ৬১ দশমিক ৫ গ্রাম, প্রোটিন ১ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম, স্নেহ পদার্থ শূন্য দশমিক ২ থেকে শূন্য দশমিক ৩৯ গ্রাম, শর্করা ২৮ দশমিক ১১ থেকে ৩১ দশমিক ৮ গ্রাম, ক্যারোটিন ৫৫ মিলিগ্রাম, থায়ামিন শূন্য দশমিক ১৩ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন ১ দশমিক ১৯ মিলিগ্রাম। কোষ্ঠকাঠিন্য সারাতে বেলের ভূমিকা অনেক। বেল পেটের নানা অসুখ সারিয়ে তোলে। বেলে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকে, যা ব্রণ সারিয়ে তোলে। নিয়মিত বেল খেলে কোলন ক্যানসার হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। পেট ঠান্ডা রাখে। এ কারণে অনেকে গরমের সময় বেলের শরবত খায়। বেলের ভিটামিন এ চোখের অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক অঙ্গগুলো ভালো রাখে।


বেলের গুণাগুণ
* যাঁদের হজমে সমস্যা আছে, বেল তাঁদের জন্য বেশ উপকারী। 
* কাঁচা বেল ডায়রিয়ার রোগীদের জন্য ভালো। এ জন্য ফালি ফালি করে কেটে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া করে নিতে হবে। উষ্ণ গরম পানির সঙ্গে মিশিয়ে রোগীকে অল্প অল্প করে খাওয়াতে হবে। 
* জন্ডিস, যক্ষ্মা, উচ্চ রক্তচাপের জন্যও বেল খুব উপকারী।


বাড়িতে কীভাবে বেলের শরবত তৈরি করবেন
* পাকা বেল পানি দিয়ে ভালো করে ধুয়ে ফেলুন। 
* চামচ বা ছুরি ব্যবহার করে বেলের শক্ত খোসা ছাড়িয়ে এর শাঁস আলাদা করুন। 
* এতে পরিমাণমতো পানি দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিন। 
* এরপর পানিতে ওই শাঁস গুলিয়ে নিন, যতক্ষণ না পরিপূর্ণ পানির সঙ্গে মেশে ততক্ষণ নাড়ুন। 
* বেলের বীজগুলো আলাদা করে সরিয়ে ফেলুন। 
* ছেঁকে নিয়ে বেলের শরবত আলাদা করে ফেলুন। 
* এতে প্রয়োজনে কিছুটা চিনি ও লেবুর রস দিয়ে গুলিয়ে নিন। 
* প্রয়োজন হলে বরফের টুকরো যুক্ত করে ঠান্ডা করে নিন, এরপর পরিবেশন করুন।


Wednesday, September 12, 2018

অতি ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বের শীর্ষে

অতি ধনীর সংখ্যা বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশের অবস্থান এখন বিশ্বের শীর্ষে৷ চীনকে হারিয়ে গত পাঁচ বছরে এই অবস্থানটি দখল করেছে বাংলাদেশ৷ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওয়েলথ-এক্স এই তথ্য দিয়েছে৷ কিন্তু এর নেপথ্যে কী?

ওয়েলথ এক্স তার  ‘ওয়ার্ল্ড আলট্রা ওয়েলথ রিপোর্ট-২০১৮' শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধনকুবেরের সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান তাদের প্রতিবেদনে না থাকলেও ধনকুবের বৃদ্ধির হারে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে৷ বাংলাদেশে এখন শতকরা ১৭ দশমিক ৩ ভাগ হারে অতি ধনীর সংখ্যা বাড়ছে৷ আর এই হার বিশ্বে সর্বোচ্চ৷ বাংলাদেশের পরই চীনের অবস্থান৷ চীনে বাড়ছে ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ হারে৷ এরপর যথাক্রমে আছে ভিয়েতনাম, কেনিয়া, ভারত, হংকং এবং আয়ারল্যান্ড৷ ২০১২ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত ধনকুবের বাড়ার হার পর্যবেক্ষণ করে বাংলাদেশের শীর্ষ অবস্থান নির্নয় করা হয়েছে৷

যাঁদের সম্পদের পরিমাণ তিন কোটি ডলার বা তার চেয়ে বেশি, তাঁদেরকেই অতি ধনী  বা ধনকুবের বলছে ওয়েলথ এক্স৷ বাংলাদেশি মূদ্রামানে যাঁদের সম্পদ আড়াইশ' কোটি টাকার বেশি, তাঁরাই অতি ধনী৷ বাংলাদেশে অতি ধনী বৃদ্ধির হারে শীর্ষে থাকলেও অতি ধনীর সংখ্যা কত তা বলা হয়নি৷ আর সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান কত তা-ও নেই ওয়েলথ এক্স-এর প্রতিবেদনে৷


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে অতি ধনী মানুষ সবচেয়ে বেশি যুক্তরাষ্ট্রে৷ সেদেশে অতি ধনী মানুষের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার৷ দ্বিতীয় স্থানে আছে জাপান৷ তাদের অতি ধনী মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৮ হাজার৷ আর প্রায় ১৭ হাজার অতি ধনী মানুষ নিয়ে চীন আছে তৃতীয় স্থানে৷ তালিকায় প্রথম দশটি দেশের তালিকায় আরো আছে জার্মানি, ক্যানাডা, ফ্রান্স, হংকং, যুক্তরাজ্য, সুইজারল্যান্ড এবং ইটালি৷


সম্পদশালীর সংখ্যা কত?


এদিকে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে ২০১০ সালের তুলনায় বাংলাদেশে সবচেয়ে ধনী ৫ শতাংশ পরিবারের আয় ৫৭ শতাংশ বেড়েছে৷ তাঁদের মাসিক আয় ৮৮ হাজার ৯৪১ টাকা৷ একই সময়ে সবচেয়ে দরিদ্র ৫ শতাংশ পরিবারের আয় কমেছে ৫৯ শতাংশ৷ তাঁদের মাসিক আয় দাঁড়িয়েছে ৭৩৩ টাকায়৷  ২০১০ সালে আয় ছিল ১ হাজার ৭৯১ টাকা৷


বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গত এক বছরের ব্যবধানে দেশের ব্যাংকিং খাতে কোটিপতি আমানতকারী বেড়েছে ৫ হাজার ৮৩৪ জন৷ বর্তমানে মোট কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ৬৭ হাজার ৮৭২ জন৷ এক বছর আগেও এ সংখ্যা ছিল ৬২ হাজার ৩৮ জন৷


বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষে ব্যাংকে কোটিপতি আমানতকারী ছিল ৬২ হাজার ৩৮ জন৷ ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর শেষে এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৭ হাজার ৮৭২ জন৷ তবে ২০১৭ সালের জুনের শেষে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা ছিল ৬৮ হাজার ৮৯১ জন৷



ধনকুবের বাড়ার নেপথ্যে কী?


ওয়েলথ এক্স শুধু বাংলাদেশে ধনকুবের বৃদ্ধির হারের খবরই দেয়নি৷ তারা বলছে, ‘‘এটা আশ্চর্যজনক যে ধনকুবেরের সংখ্যা বৃদ্ধির হারের দিক দিয়ে চীন বিশ্বের এক নম্বর দেশ নয়, এ অবস্থান এখন বাংলাদেশের৷''


অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অন্বেষণ-এর চেয়ারম্যান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতির অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে এখন তিন ধরনের প্রবণতা দেখা যায়৷ রাষ্ট্রীয় বা প্রাকৃতিক সম্পদ লুটপাট হচ্ছে৷ ব্যাংক খাতে এবং সরকারি ক্রয়-বিক্রয় খাতে সেটা লক্ষ্যনীয়৷ দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে পুঁজি পাচার হচ্ছে দেশের বাইরে৷ তৃতীয়ত, বাংলাদেশে লুটপাটের সংস্কৃতি বহাল আছে৷ ফলে বৈষম্য বাড়ছে৷ একদিকে কিছু লোক সম্পদের পাহাড় গড়ছে, সাধারণ মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে৷''


তিনি বলেন, ‘‘এর সাথে অর্থনেতিক উন্নয়নের কোনো সম্পর্ক নেই৷ এই অর্থ এখানে বিনিয়োগ হয় না, হলে এখানে শিল্প কারখানা হতো, কর্মসংস্থান বাড়ত৷''


তাঁর মতে, ‘‘বিচারহীনতা এবং জবাবদিহিতা না থাকায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে৷''


ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘বাংলাদেশে অতি ধনী বাড়ছে, এর মানে হলো উন্নয়নের সিংহভাগ একটি অংশের পকেটে চলে যাচ্ছে৷ জিডিপির হিসাব দিয়ে তো আর উন্নয়নের হিসাব হয় না৷ যাঁরা এই তালিকায় আছেন, তাঁদের নাম জানা যায়নি৷ তবে তারা যে ক্ষমতা ও রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে সম্পদ অর্জন করেছেন, তা বলাই যায়৷ এটা কোনো উন্নয়নের দৃষ্টান্ত নয়, বৈষম্যমূলক উন্নয়নের দৃষ্টান্ত৷''


তিনি বলেন, ‘‘এইসব অর্থ সঠিকভাবে অর্জিত হয়েছে কিনা তা বলা যাবে না৷ তবে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার বেড়েছে, সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশি আমানতকারী ও তাদের অর্থও বেড়েছে৷ এটা উদ্বেগের কারণ৷ একইসঙ্গে ধনকুবের বাড়ছে৷ এর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা তদন্ত হওয়া প্রয়োজন


Thursday, September 6, 2018

যেসব অভ্যাস অজান্তেই আমাদের মস্তিষ্কে খারাপ প্রভাব ফেলে

মস্তিষ্কের সুরক্ষায় আমরা প্রকৃত অর্থে তেমন কিছুই করি না। মস্তিষ্কের ব্যায়াম, মস্তিষ্কের জন্য সঠিক খাবার ইত্যাদির বিষয়ে আমরা অনেকটাই উদাসীন।

আর সেই কারণেই আমাদের মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে হারিয়ে ফেলে তার স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা।

দূরত্ব মাপার একক ফুট, মিটার, কিলোমিটার। তরল পদার্থ মাপতে হলে তা লিটারে মাপা হয় আর মানুষের বুদ্ধি মাপতে হলে হিসেব নেওয়া হয় তার বুদ্ধ্যঙ্ক (আইকিউ)-এর ভিত্তিতে। হিসেব বলছে, বিশ্বের মোট জনগণের মাত্র ২ শতাংশ মানুষ আইকিউ ওয়ার্ল্ড টেস্টে ১৩০'র উপরে নম্বর পান।

আমাদের বুদ্ধ্যঙ্ক (আইকিউ)-এর মাত্রা হ্রাসের জন্য মূলত আমরা নিজেরাই দায়ী। আমরা এমন কিছু কাজ করি প্রায় প্রতিদিন যা আমাদের বুদ্ধিমত্তা কমিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। আসুন জেনে নেওয়া যাক, এমন কিছু অভ্যাস যা অজান্তেই আমাদের মস্তিষ্কের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে-

১। একসঙ্গে অনেক কাজ করা-

অনেকেই ভাবেন একসঙ্গে দুই বা তার অধিক কাজ করতে পারা বেশ ভাল একটা বিষয়। কিন্তু আসলে বিষয়টি আদপে উল্টোই।

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যারা এক সময়ে একটিই কাজ করেন, তাদের চিন্তা করার ক্ষমতা যারা একসঙ্গে অনেক কাজ করতে যান তাদের তুলনায় বেশি।

২) পরোক্ষভাবে ধূমপান করা-

অনেকে ধূমপান না করেও ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে বুদ্ধ্যঙ্ক হারাতে থাকেন। সেন্ট্রাল মিশিগান ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় জানা গেছে, যে সকল শিশুরা পরোক্ষভাবে ধূমপান করছে তাদের সাধারণ শিশুর তুলনায় আইকিউ বেশ কম।

৩) অতিরিক্ত চিনি খাওয়া-

চিনি খাওয়া শুধুমাত্র পেটের মেদই বাড়ায় না সেই সঙ্গে মস্তিষ্কের উপর বেশ খারাপ প্রভাব ফেলে। গবেষণায় দেখা গেছে, টানা প্রায় ৬ সপ্তাহ চিনি জাতীয় খাবার খাওয়া হলে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায় এবং কোনও কিছু শেখার ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং স্মৃতিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। সুতরাং, চিনি বা মিষ্টি খাওয়ার বিষয়ে সাবধান।

৪) মানসিক চাপ-

মানসিক চাপ শুধুমাত্র আপনার মানসিক শান্তিই কেড়ে নিচ্ছে না, এটি আপনার মস্তিষ্কের উপরেও বেশ খারাপ প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত মানসিক চাপ আলজেইমার রোগের ঝুঁকি অনেকাংশেই বাড়িয়ে দেয় এবং মস্তিষ্কের ক্ষতি করে। এতে করে লোপ পেতে থাকে স্বাভাবিক বুদ্ধিমত্তা।

৫) স্থূলতা-

স্থূলতার সঙ্গে শুধুমাত্র শারীরিক সমস্যাই জড়িত নয়। স্থূলতার বেশ খারাপ প্রভাব পড়ে মস্তিষ্কের উপরে। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, মাঝ বয়সের পর যারা মুটিয়ে যান তাদের চিন্তা করার ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং স্মৃতিভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। সুতরাং, একটু সতর্ক থাকুন!