Thursday, October 10, 2019

দর প্রতিযোগিতায় হোঁচট রফতানির অর্ডার যাচ্ছে পাকিস্তান ও মিয়ানমারে

উৎপাদিত পণ্যমূল্য নিয়ে প্রতিযোগীদের সাথে কুলিয়ে উঠতে পারছে না দেশের রফতানি খাত। কম পণ্যমূল্য দিয়ে অর্ডার নিয়ে যাচ্ছে মিয়ানমার ও পাকিস্তান। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পরও অব্যাহতভাবে হোঁচট খেয়েই চলছে রফতানি আয়। চলতি অর্থবছরের (২০১৯-২০) প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) এসেও সেই পতন অব্যাহত রয়েছে। শুরুটা ইতিবাচক থাকলেও আগস্ট থেকে হোঁচটের কবলে পড়ে। তৈরি পোশাক, নিটওয়্যাার, ওভেন গার্মেন্টস, বিশেষায়িত বস্ত্র, চামড়া ও চামড়াজত পণ্য, কৃষি ও হিমায়িত খাদ্যসহ বেশির ভাগ খাতে গত দুই মাস ধরে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে।


তিন মাসের লক্ষ্যমাত্রায় ২ দশমিক ৯৪ শতাংশ আয় অর্জিত না হলেও আগের বছরের তুলনায় আয় ১১ দশমিক ০৫ শতাংশ বা প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা কমেছে। ফলে গত বছরের তুলনায় আয় তো কমছেই, অন্য দিকে, এ বছরের লক্ষ্যমাত্রাও অর্জিত হচ্ছে না বলে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে। রফতানিকারক ব্যবসায়ীরা বলছেন, আগামী কয়েক মাস রফতানির এই মন্দাভাব থাকবে। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত রফতানির অর্ডার কমবে। সার্বিকভাবে রফতানি খাতটি আন্তর্জাতিকভাবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। মূল্য সক্ষমতাই আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ।


রফতানিকারকরা বলছেন, রফতানির অর্ডার কমেছে। সাথে সাথে পণ্যের মূল্যও কমেছে। এ ছাড়া অবকাঠমোগত সমস্যা, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন না করা, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারসহ বিভিন্ন কারণে রফতানি বাণিজ্য কমেছে। রফতানি বাণিজ্য বাড়াতে প্রতিযোগী দেশগুলোর সাথে তাল মিলিয়ে সরকারের সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তা না হলে আগামীতে রফতানি আয় আরো কমবে। তারা বলছেন, এ ছাড়া ভারত, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান ও চায়নাসহ বিভিন্ন দেশের সাথে আমরা অনেক ক্ষেত্রে নানা সমস্যা ও সুযোগ সুবিধার অভাবে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাচ্ছি। এসব কারণে রফতানি আয় কমছে।


প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছর দেশে রফতানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় চার হাজার ৫৫০ কোটি ডলার। আর প্রথম প্রান্তিকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল এক হাজার ৮৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। প্রকৃত অর্জন হয়েছে ৯৬৪ কোটি ৭৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার, যা আগের বছরের তুলনায় ১১ দশমিক ০৫ শতাংশ এবং লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ২.৯৪ শতাংশ কম। এই সময়ে প্রাথমিক পণ্যে ৯.৭২ শতাংশ নেতিবাচক এবং উৎপাদিত পণ্য খাতে ২.৬৪ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। পাশাপাশি গত অর্থবছরের তুলনায়ও অর্জন কমেছে। তৈরি পোশাক খাতে ১.৬৪ শতাংশ, নিটওয়ারে ০.৮৭ শতাংশ, ওভেনে ২.৪৫ শতাংশ, হিমায়িত পণ্যে ৯.০৮ শতাংশ, কৃষিপণ্য খাতে ১০.০৩ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজত পণ্য খাতে ৫.০৬ শতাংশ, বিশেষায়িত বস্ত্র খাতে ২৫.০৩ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে।


তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে মোট রফতানি আয়ের অধিকাংশই এসেছে তৈরি পোশাক খাত থেকে। ৯৬৪ কোটি ৭৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার রফতানি আয়ের মধ্যে ৮০৫ কোটি ৭৫ লাখ ডলারের জোগান দিয়েছে তৈরি পোশাক খাত। তবে এ খাতে গত বছরের একই সময়ের চেয়ে আয় কমেছে ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ। আর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এবার আয় কমেছে ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এর মধ্যে শূন্য দশমিক ৮৭ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধিতে নিট পোশাক রফতানি থেকে এসেছে ৪১৭ কোটি ডলার। ওভেন পোশাক রফতানিতেও ছিল নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি।


অর্থাৎ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার ২ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমে আয় হয়েছে ৩৮৮ কোটি ৭৩ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ কম। এ ক্ষেত্রে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা ছিল ৪৬১ কোটি ২৯ লাখ ডলার। একক মাস হিসেবে গত সেপ্টেম্বর মাসেও আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। সেপ্টেম্বরে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩১৬ কোটি ২০ লাখ ডলার। এর বিপরীতে আয় হয়েছে ২৯১ কোটি ৫৮ লাখ ডালার। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ কম। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায়ও আয় কমেছে ৭ দশমিক ৩০ শতাংশ।


বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম মুর্শেদী এমপি জানান, আমরা লিংক পিরিয়ডটা অতিক্রম করছি। সামনের দিকে আমরা হয়তো উতরে উঠতে পারব। সার্বিকভাবে রফতানি খাতটি আন্তর্জাতিকভাবে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে আছে। তিনি বলেন, এই চ্যালেঞ্জগুলো হলো, আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন দেশ তারা তাদের নীতি সহায়তা পাচ্ছে। আমরাও নীতিসহায়তা পাচ্ছি। তবে আমরা যে নীতিসহায়তা পাচ্ছি সে নীতিসহায়তা দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ বলেন বা প্রতিযোগী দেশগুলো বলেন, তাদের সাথে আমরা প্রতিযোগিতা করে টিকতে পারছি না। তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে আমরা চেষ্টা করছি আমাদের সক্ষমতাকে ধরে রাখার জন্য। লিংক পিরিয়ড পার করেছি, সামনের মাসগুলোতে হয়তো আমাদের ভালো প্রবৃদ্ধি আসবে। হয়তো নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি থেকে বেরিয়ে আসতে পারব। তিনি বলেন, মূল্য সক্ষমতাই আমাদের বড় প্রতিবন্ধকতা মনে করছি। যার কারণেই আমরা প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে আছি।


রফতানিকারক সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মো: হাতেম জানান, গত আগস্ট মাস ঈদের কারণে ১০ দিন এই শিল্প বন্ধ ছিল। আর প্রতিযোগী দেশগুলোতে পণ্যমূল্য কম থাকায় অর্ডার নিয়ে যাচ্ছে তারা। তিনি বলেন, মিয়ানমারে অর্ডার যাচ্ছে ওভেন গার্মেন্ট এবং নিটওয়্যার যাচ্ছে পাকিস্তানে। পাকিস্তানে পণ্যমূল্য প্রতিটিতে ১২ সেন্ট করে কম নিচ্ছে বাংলাদেশের তুলনায়। বাংলাদেশে যেখানে দর ১ ডলার ৪০ সেন্ট, সেখানে তারা নিচ্ছে ১ ডলার ২৮ সেন্ট। তিনি বলেন, সরকার টাকার অবমূল্যায়ন করতে গেলে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ পড়বে। সেটা না করে উচিত তাৎক্ষণিকভাবে সহায়তা দেয়া। ভেল্যু অ্যাডিশন যেটুকু হবে তাতে বিশেষ ধরনের ছাড় দেয়া। তবে এটা করতে দেশী করলে অর্ডার ও বায়ার দুটোই হাতছাড়া হবে। তবে সহসা কোনো সমাধানের লক্ষণ দেখছি না।


Wednesday, October 9, 2019

সহজ কিছু উপায় অবলম্বন করে খাদ্য থেকে ফরমালিন দূর করা যায়



ফরমালিন ছাড়া কোনো খাবার পাওয়া যেন অসম্ভব হয়ে যাচ্ছে। ফলে ফরমালিনযুক্ত খাবার খেয়ে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। তবে সহজ কিছু উপায় অবলম্বন করে খাদ্য থেকে ফরমালিন দূর করা যায়। যদিও আজকাল ফল থেকে শুরু করে মাছ, মাংস, শাক সবজি, এমনকি দুধে পর্যন্ত দেয়া হচ্ছে এই রাসায়নিক।

 

ফর্মালিন (রাসায়নিক সংকেত -CHO-)n হল ফর্মালডিহাইডের পলিমার। ফর্মালডিহাইড দেখতে সাদা পাউডারের মত। ফর্মালিন বস্তুটা মূলত টেক্সটাইল, প্লাষ্টিক, পেপার, রং, কনস্ট্রাকশন ও সর্বোপরি মৃতদেহ সংরক্ষণে ব্যবহৃত হয়।

ফরমালিনে ফরমালডিহাইড ছাড়াও মিথানল থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর।  

অনেকের ধারণা, ১৫ থেকে ২০ মিনিট বিশুদ্ধ পানিতে ডুবিয়ে রাখলে খাদ্যদ্রব্য থেকে ফরমালিন দূর হয় বা কমে যায়। আসলে কমলেও তা অতটা কার্যকর নয়। তার চেয়ে বরং কাঁচা অবস্থায় খাবার থেকে ফরমালিন অপসারণ করতে চাইলে পানির কল ছেড়ে তার নিচে ১০ থেকে ১৫ মিনিট রাখতে হবে।

কারণ কাঁচাসবজি ও ফলের ত্বকে অসংখ্য ছোট ছোট ছিদ্র রয়েছে।

আর পানিতে ডুবিয়ে রাখলে ফরমালিন আরো ভালোভাবে খাবারে মিশে যেতে পারে। তাই পানির কল ছেড়ে তার নিচে নির্দিষ্ট খাবার দ্রব্য বা ফলটি রেখে দিন।

ভিনেগার বা লেবুর রসে ১৫ থেকে ২০ মিনিট ভিজিয়ে রেখেও ফরমালিন দূর করা যায়। আগুনের তাপে ফরমালিন অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। তাই রান্নার আগে ফরমালিন কমানোর পদ্ধতি ব্যবহার করে রান্না করলে খাবার পুরোপুরি ফরমালিন মুক্ত করা সম্ভব।  

Sunday, June 23, 2019

মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের জাতীয় নিরাপদ খাদ্য গবেষণাগারের (এনএফএসএল) পরীক্ষায় বাজারে থাকা দুধ ও দইয়ে ব্যাকটেরিয়া, এন্টিবায়োটিক, রাসায়নিক, সিসাসহ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেলেও বিএসটিআইর পরীক্ষায় কোনো ক্ষতিকর উপাদান ধরা পড়েনি। মাত্র দুটি নমুনা নিম্নমানের পেয়েছে তারা।

সরকারি সংস্থাটি এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন গতকাল রবিবার হাইকোর্টে দাখিল করেছে।

এদিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশনের (বিএসটিআই) অনুমোদন ছাড়া ঢাকায় যারা প্যাকেটজাত তরল দুধ ও দই বাজারজাত করছে তাদের তালিকা চেয়েছেন হাইকোর্ট। বিএসটিআইকে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এ তালিকা দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যারা অনুমোদন নিয়ে ব্যবসা করছে তাদের তালিকাও দিতে বলা হয়েছে।

বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল এ আদেশ দেন।

আদালতে বিএসটিআইর আইনজীবী বলেছেন, লাইসেন্সবিহীন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার সংস্থাটির নেই। এগুলো দেখার দায়িত্ব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও প্রাণী সম্পদ মন্ত্রণালয়ের। তা ছাড়া এসব দেখার মতো পর্যাপ্ত বাজেটও নেই বিএসটিআইর। এমন বক্তব্যে আদালত অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘লাইসেন্স দেওয়ার এখতিয়ার থাকলে বেআইনিভাবে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার এখতিয়ার থাকবে না কেন? বিএসটিআইর অনুমোদন ছাড়া কিভাবে বাজারজাত হচ্ছে? আর বাজেট নেই বলে আপনাদের কি কোনো দায়িত্ব নেই? জনস্বার্থ উপেক্ষিত থাকবে? মানুষ কি ভেজাল ও নিম্নমানের পণ্য খাবে?’ একপর্যায়ে আদালত বলেন, ‘মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবেন না।

আগের তালিকা দাখিল করুন। এর যা করার আমরা করব। ’

এর আগে হাইকোর্ট গত ১৫ মে এক আদেশে ২৩ জুনের মধ্যে ভেজাল মেশানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামের তালিকা দাখিল করতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে গাভির দুধ ও বিভিন্ন প্যাকেটজাত দুধ, দই ও গো-খাদ্যের নমুনা সংগ্রহ করে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর উপাদান নিরূপণ করে বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া জড়িতদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাও আদালতকে জানাতে বলা হয়।

গতকাল বিএসটিআই এসংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন দাখিল করলেও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ সময় চেয়েছে। আদালত তাদের আবেদন মঞ্জুর করেছেন।

বিএসটিআইর আইনজীবী ব্যারিস্টার সরকার এম আর হাসান বলেন, দেশের আটটি বিভাগ থেকে ৩০৫টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়। এগুলোর মধ্যে ২৫২টি দইয়ের নমুনা, ৩৫টি গুঁড়া দুধের নমুনা এবং ১৮টি পাস্তুরিত ও ইউএসডি দুধের নমুনা। এর মধ্যে ঢাকা ও সিলেট থেকে সংগৃহীত দুটি নমুনা নিম্নমানের পাওয়া গেছে। তবে কোনো ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া যায়নি।

এই প্রতিবেদন দেখে আদালত বলেন, ‘এনএফএসএলের প্রধান অধ্যাপক ড. শাহনীলা ফেরদৌসীর পরীক্ষায় ধরা পড়ল। কিন্তু আপানারা কিছু পেলেন না। ’

বিএসটিআইর আইনজীবী বলেন, শাহনীলা যেখান থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তা শিল্প এলাকার। সেখানে শৌখিনভাবে দুধ উৎপাদিত হয়। এর সঙ্গে সারা দেশের মিল নেই। তিনি বলেন, বিএসটিআই ১৮টি প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স দিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কোনোটিই নিম্নমানের নয়। তা ছাড়া শাহনীলা যেসব নমুনা নিয়েছেন তা ঢাকার কোনো অভিজাত দোকান বা শপিং মল থেকে নেননি। আদালত এই বক্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, ‘শাহনীলা ৩১টি প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়েছেন। এই তালিকায় মিল্ক ভিটা, প্রাণ, আড়ং, ফার্ম ফ্রেশ, আফতাব ডেইরি মিল্ক, ঈগলু ইত্যাদি প্রতিষ্ঠান রয়েছে, যাদের পণ্য সারা দেশেই পাওয়া যায়। রাজধানীর নামিদামি এলাকা ও শপিং মল থেকে নমুনা নেওয়া হয়েছে। সুতরাং আপনি (বিএসটিআই) যা বলছেন তা সত্য নয়। ’

আদেশে গবেষণা প্রতিবেদনসংক্রান্ত বিষয়ে অধ্যাপক শাহনীলা ফেরদৌসীকে বিরক্ত না করতে সরকারি প্রতিষ্ঠানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

দুধ, দই ও গো-খাদ্যে মানবদেহের জন্য বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদানের উপস্থিতি নিয়ে এনএফএসএলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ‘গরুর দুধেও বিশেষ ভয়’ শিরোনামে কালের কণ্ঠে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এ ছাড়া আরো কয়েকটি জাতীয় দৈনিকেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। আদালত এই প্রতিবেদন দেখে গত ১১ ফেব্রুয়ারি স্বপ্রণোদিত হয়ে অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনা দেন ও রুল জারি করেন। আদেশে দুধ, দই ও গো-খাদ্যে ভেজাল মেশানোর ঘটনা তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। একই সঙ্গে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়।

Tuesday, June 4, 2019

নারীদের ধনী হওয়া এত সহজ!

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও তাদের স্ত্রীরা যখন বিবাহ বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেন তখন সংবাদ মাধ্যমে বড় বড় অঙ্কের অর্থের হিসেব উঠে আসে।


এ সপ্তাহেও সেটা আবার প্রমাণ হয়েছে। অনলাইনে পণ্য বিক্রয় প্রতিষ্ঠান আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস ও তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জি তাদের ডিভোর্সের কিছু শর্তের ব্যাপারে একমত হয়েছেন।


ম্যাকেঞ্জি বেজোস পাবেন আমাজনের ৪% সম্পদ। ফলে তার অর্থ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়াবে সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলারেরও বেশি।


সেই হিসেবে তিনি হবেন বিশ্বের তৃতীয় ধনী নারী এবং নারী পুরুষ মিলিয়ে ২৪তম ধনী ব্যক্তি।


তাহলে বিশ্বের ধনী নারীদের তালিকায় কারা কারা আছেন এবং কীভাবে তারা এতো অর্থ বিত্তের মালিক হলেন?


১. ফ্রাঁসোয়াস বেটাকোর মেয়ার


তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসেব অনুসারে তিনি বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকার ১৫ নম্বরে।


ফরাসি কসমেটিক কোম্পানি ল'রিয়েলের উত্তরাধিকারী তিনি। তিনি এবং তার পরিবার এই কোম্পানির ৩৩ শতাংশের মালিক।


তার বয়স এখন ৬৫। সব সম্পদ তিনি পেয়েছেন তার মায়ের কাছ থেকে। তার মা ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ৯৪ বছর বয়সে মারা গেছেন। এনিয়ে তারা দীর্ঘ বিরোধেও জড়িয়েছিলেন।


বেটাকোর-মেয়ার একটি আইনি মামলা করেছিলেন যেখানে তিনি অভিযোগ করেছিলেন তার মাকে আশেপাশের কিছু ব্যক্তি ব্যবহার করছে। কিন্তু মায়ের মৃত্যুর আগে তাদের মধ্যে সম্পর্ক আবার স্বাভাবিক হয়ে গিয়েছিল।


তিনি একজন শিক্ষাবিদও। গ্রিক দেবতা এবং ইহুদি-খৃস্টান সম্পর্কের ওপরে তার কয়েকটি বই প্রকাশিত হয়েছে।


২. এলিস ওয়ালটন


তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে চার হাজার কোটি ডলার। বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তার অবস্থান ১৭ নম্বরে। তার বয়স এখন ৬৯। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বৃহৎ সুপারমার্কেট ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের একমাত্র কন্যা তিনি।


তিনি তার দুই ভাই থেকে একেবারেই আলাদা ধরনের মানুষ ছিলেন। পরিবারের ব্যবসা থেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছিলেন নিজেকে। তিনি চিত্রকলার ওপর জোর দেন এবং ক্রিস্টাল ব্রিজেস মিউজিয়াম অফ আমেরিকান আর্টের চেয়ারম্যান হন।


৩. ম্যাকেঞ্জি বেজোস


তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি ডলার। এটা শুধু আমাজনের যতটুকু মালিকানা তিনি পাবেন তার আর্থিক মূল্য। মোট সম্পদের পরিমাণ এর চেয়েও আরো বেশি হবে। কতো বেশি সেটা জানতে আগামী ফোর্বস ম্যাগাজিনের দিকে চোখ রাখতে হবে।


তার বয়স ৪৮। আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসকে তিনি বিয়ে করেন ১৯৯৩ সালে। একটি হেজ ফান্ড কোম্পানিতে কাজ করার সময় তাদের পরিচয় হয়েছিল। তাদের চারটি সন্তান রয়েছে।


আমাজনে যারা প্রথম চাকরি শুরু করেন তাদের একজন ছিলেন ম্যাকেঞ্জি। তিনি যোগ দিয়েছিলেন একজন অ্যাকাউন্ট্যান্ট হিসেবে।


তিনি দুটি বহুল আলোচিত ফিকশন বই লিখেছেন। লেখক টনি মরিসনের কাছে লেখালেখির বিষয়ে প্রশিক্ষণও নিয়েছেন তিনি। টনি মরিসন বলেছেন, তিনি তার সেরা শিক্ষার্থীদের একজন।
বেজোস একটি এন্টি-বুলিং সংস্থাও গড়ে তুলেছেন। নাম বাইস্ট্যান্ডার রেভ্যুলুশন। এই সংস্থা থেকে


৪. জ্যাকুলিন মার্স


তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় দুই হাজার চার শ' কোটি ডলার। বিশ্বের ধনী মানুষের তালিকায় তিনি আছেন ৩৩ নম্বরে।


তার বয়স ৭৯। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কনফেকশনার মার্সের এক তৃতীয়াংশের মালিক তিনি। তার দাদা/নানা ফ্র্যাঙ্ক ১৯১১ সালে এই কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। পরিবারের এই ব্যবসায় তিনি কাজ করেছেন প্রায় ২০ বছর। ২০১৬ সাল পর্যন্ত তিনি বোর্ডের সদস্যও ছিলেন।


বর্তমানে তিনি পরিচিত অত্যন্ত দানশীল এক ব্যক্তি হিসেবে। ওয়াশিংটন ন্যাশনাল অপেরা, ন্যাশনাল আর্কাইভসহ আরো কিছু সংস্থার বোর্ড সদস্য তিনি। যুক্তরাষ্ট্রে পোষা প্রাণীর জন্যে যারা খাবার তৈরি করে তাদের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ এই মার্স কোম্পানি।


৫. ইয়ান হুইয়ান
তার মোট সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার দুশো কোটি ডলারেরও বেশি। চীনের সবচেয়ে ধনী মহিলা তিনি। আর বিশ্বের ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় তিনি ৪২ নম্বরে।


তার বয়স এখন ৩৭। চীনে বাড়ি ঘরের ব্যবসা করে এরকম একটি প্রতিষ্ঠান কান্ট্রি গার্ডেন হোল্ডিংসের বেশিরভাগ অংশেরই মালিক তিনি।


চীনে প্রপার্টি নির্মাণের যে ধুম লেগেছে তার পেছনে বড় ধরনের ভূমিকা রয়েছে এই কোম্পানির।


এই কোম্পানির ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, সারা বিশ্বে যতোগুলো ডেভেলপার কোম্পানি আছে তার মধ্যে ২০১৬ সালের কান্ট্রি গার্ডেন ছিল তিন নম্বরে।


ইয়ান হুইয়ান ওহাইও স্টেট ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করেছেন। কোম্পানিতে তার ৫৭% শেয়ারের বেশিরভাগই তিনি তার পিতার কাছ থেকে পেয়েছেন।


৬. সুজান ক্লাটেন


তার সম্পদের পরিমাণ দুই হাজার এক শ' কোটি ডলার। আর সারা বিশ্বে ধনীদের তালিকায় তিনি ৪৬ নম্বরে। তার বয়স ৫৬। জার্মান এই নারীর রয়েছে ফার্মাসিউটিক্যালস ও গাড়ির ব্যবসা।


রাসায়নিক কোম্পানি আলটানা এ জি-র ৫০% তিনি পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে, তার পিতামাতা মারা যাওয়ার পর। বিএমডাব্লিউ গাড়ির ৫০ শতাংশেরও মালিকানা তার ও তার এক ভাই এর।


পরে আটলান্টার একক মালিক হন তিনি। আরো কিছু কোম্পানিরও শেয়ার কিনে নেন তিনি। সেগুলোর মধ্যে বায়ু শক্তি থেকে শুরু করে গ্রাফাইট উৎপাদনকারী কোম্পানিও রয়েছে।


৭. লরা পাওয়েল জবস


তার সম্পদের পরিমাণ প্রায় এক হাজার নয় শ' কোটি ডলার। এবং সারা বিশ্বের ধনীদের মধ্যে তিনি ৫৪তম।


তিনি সফটওয়্যার কোম্পানি অ্যাপলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসের স্ত্রী। স্বামী মারা যাওয়ার পর অ্যাপল ও ডিজনির দুই হাজার কোটি ডলারের সম্পদের মালিক হন তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে।


তার বয়স ৫৫। পরে তিনি তার কিছু অর্থ সাংবাদিকতার পেছনে বিনিয়োগ করেন। আটলান্টিক ম্যাগাজিনের একটি বড় অংশ কিনে নেন তিনি। এছাড়াও তিনি অলাভজনক প্রকাশনা মাদার জোন্স এবং প্রোপাবলিকাতেও অর্থ বিনিয়োগ করেছেন।


অভিবাসন ও শিক্ষা সংস্কারের মতো কিছু বিষয়েও বিনিয়োগ করেছেন তিনি। গড়ে তুলেছেন কিছু প্রতিষ্ঠান।


Tuesday, March 26, 2019

কীভাবে বুঝবেন আপনার ফোনে কেউ আড়ি পাতছে?

অসংখ্য মানুষের ফোন আজকাল নানা ভাবে, নানা কারণে ট্যাপ করা হচ্ছে। স্মার্টফোনের যুগে ফোন ট্যাপ করাটা আরও সহজ! কারণ, এর জন্য আপনার মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্ক হ্যাক করার প্রয়োজন হবে না। হ্যাকাররা শুধুমাত্র আপনার ফোনের ভালনেরাবিলিটি বা দুর্বলতা খুঁজে বের করে সহজেই আপনার ফোনকে ‘ট্যাপিং ডিভাইজ’-এ পরিণত করে ফেলতে পারে। কিন্তু কী করে বুঝবেন আপনার ফোনে কেউ আড়ি পাতছে কী না? আসুন জেনে নেওয়া যাক এমন কিছু সংকেত, যেগুলো সঠিক ভাবে লক্ষ্য করলে আপনি সহজেই বুঝে যাবেন আপনার ফোন কেউ ট্যাপ করেছে কিনা!

⇒*ফোন করার সময় বা ফোনে কথা বলার সময় অদ্ভুত সব ‘ব্যাকগ্রাউন্ড নয়েজ’ বা শব্দ শুনতে পাওয়া যায়, তাহলে তা ফোন ট্যাপ করার কারণে হতে পারে। ফোনে কথা বলার সময় আপনি যদি অনর্গল বিপবিপ শব্দ শুনতে পান, তাহলে হতে পারে আপনার ফোন ট্যাপিং-এর শিকার হয়েছে।
* যদি দেখেন কল চলাকালীন দু’প্রান্তের নেটওয়ার্ক বার ফুল থাকা সত্ত্বেও বারবার ভয়েস ব্রেক হচ্ছে, তাহলে তা ফোন ট্যাপ করার জন্য হতে পারে।


⇒*যদি দেখেন হঠাৎ করে আপনার ফোনের ব্যাটারির চার্জ অস্বাভাবিক ভাবে কমে গিয়েছে, ফোন ট্যাপ হওয়ার কারণে এমনটা হতে পারে। আপনার ফোন কল কোনও অ্যাপের সাহায্যে তৃতীয় পক্ষের কাছে পাঠানোর সময় ফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্বিগুণ ক্ষয় হয় আর এ জন্যই ফোন ট্যাপ করা হলে ফোনের ব্যাটারির চার্জ দ্রুত ফুরিয়ে যেতে পারে বা ফোনটি অস্বাভাবিক গরম হয়ে উঠতে পারে। তবে স্মার্টফোনে একসঙ্গে অনেকগুলি অ্যাপলিকেশন অন থাকলেও এমনটা হতে পারে।




⇒ *ফোনে কোনও রকম সন্দেহজনক পরিবর্তন লক্ষ্য করলে নিশ্চিত হতে আপনার ফোনটি শাট ডাউন করে দেখুন। যদি সম্পূর্ণ ফোন শাট ডাউন হওয়ার পরেও স্ক্রিনে আলো জ্বলে থাকে বা ফোন শাট ডাউন হতে অনেক বেশি সময় লাগে কিংবা শাট ডাউন ফেইল হয়ে যায়, তাহলে বুঝতে হবে অবশ্যই কোনও সমস্যা রয়েছে।

⇒ *যদি দেখেন আপনার ফোন কোনও কারণ ছাড়াই রিস্টার্ট হয়ে যাচ্ছে বা হঠাৎ হঠাৎ করে ফোনের আলো জ্বলে উঠছে, তাহলে বুঝতে হবে আপনার ফোনে নিশ্চয়ই কোনও রিমোট আক্সেস রয়েছে বা বাইরে থেকে কেউ আপনার ফোন নিয়ন্ত্রণ করছে! তবে এ সব ফোনের সফটওয়্যারের সমস্যার কারণেও হতে পারে।


⇒ *আপনি নিশ্চয় লক্ষ্য করে থাকবেন, কোনও কল করার সময় ফোনটি যদি কোনও স্পিকারের সামনে থাকে, সে ক্ষেত্রে স্পিকার থেকে অনর্গল বিপবিপ শব্দ শোনা যায়। এ ছাড়া কোনও কল চলাকালীন সামনে থাকা ল্যাপটপ বা টিভিতেও অনর্গল শব্দ শোনা যেতে পারে। যদি কখনো দেখেন, ফোন থেকে কোনও কল না করলেও আপনার ফোন স্পিকারের সামনে বা টিভির সামনে নিয়ে গেলে ওই একই রকম বিপবিপ শব্দ শোনা যাচ্ছে, তাহলে বুঝতে হবে অবশ্যই সমস্যা রয়েছে বা আপনার ফোন কেউ ট্যাপ করে রেখেছে।


⇒ *স্প্যাইং অ্যাপগুলো আপনার ফোনের সেলুলার ডাটা ব্যবহার করতে পারে। যদি আপনার ফোনে কোনও ডেটা প্ল্যান অ্যাকটিভ করা না থাকে, সে ক্ষেত্রে ফোনের বিল অস্বাভাবিক হারে বেড়ে যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ফোনের বিলের বিস্তারিত তথ্য হাতে পেলে যাচাই করে দেখলেই অসংগতি রয়েছে কিনা বুঝে নিতে পারবেন! তবে প্রিপেইড নম্বরের ক্ষেত্রে এই অসংগতি ধরার তেমন কোনও উপায় নেই। সূত্র: ডিএমপি নিউজ।


Sunday, March 24, 2019

পৃথিবীর সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর দেশ কোনটি?


২০১৯ সালের ব্লুমবার্গ হেলদিয়েস্ট কান্ট্রি ইনডেক্স অনুযায়ী, এই বছরে স্পেন সবচেয়ে ‘স্বাস্থ্যকর’ দেশের মর্যাদা পেয়েছে।

স্পেনে এমন কী আছে যা অন্য দেশে নেই? কেন এই দেশের মানুষই সবচেয়ে সুস্থ? মূলত বেশ কিছু পরিবেশগত ও অভ্যাসগত কারণ আছে। এর মাঝে আছে নাগরিকদের আয়ু, মাদক সেবন, রোগ, পানিদূষণ ইত্যাদি। স্পেন (এর পাশাপাশি ইতালি ও আইসল্যান্ড)-এর নাগরিকরা নিয়মিত খান মাছ।

এর পাশাপাশি তাদের ডায়েটে থাকে অলিভ অয়েল, বাদাম, সবজি ও খুবই কম পরিমাণে রেড মিট। এসব কারণে এ দেশে হৃদরোগ কম দেখা যায়। ক্যান্সারের ঝুঁকিটাও কম।

 
শুধু ডায়েট নয়, সে দেশের স্বাস্থ্যসেবা ও পারিবারিকভাবে স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার অভ্যাসও ভালো। জাপানে বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি। কিন্তু ২০৪০ সাল নাগাদ স্পেনের মানুষের গড় আয়ু সবচেয়ে বেশি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সে সময় স্পেনের নাগরিকদের গড় আয়ু হবে ৮৬ বছর।

পৃথিবীর সবচেয়ে সুস্থ দেশগুলোর তালিকায় একটি বিষয় অবশ্য লক্ষণীয়, তা হলো ১৬৯টি দেশের মাঝে প্রথম দশের ছয়টিই ইউরোপের দেশ, যেখানে মেডিটেরানিয়ান ডায়েট (মাছ, অলিভ অয়েল, বাদাম ও সবজি) প্রচলিত। তাই সুস্থ থাকতে আপনিও এই ডায়েট অনুসরণ করতে পারেন।

সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

বিডি প্রতিদিন/কালাম

Monday, March 11, 2019

শরীরের ভয়ানক যেসব রোগ প্রতিরোধ করে আদা

রান্নার স্বাদ বাড়াতে আদার ব্যবহারের কথা সকলের জানা। কিন্তু জানেন কি, আদা শরীরের নানা জটিল ও ভয়ানক রোগের মোকাবিলায় কেমন অব্যর্থ। আসুন জেনে নিই আদার গুণাগুণ:-

 

• পরিপাক নালির প্রদাহ কমাতে আদার জুড়ি মেলা ভার। পাচক রস নিঃসরণে সহায়তা করে আদা।

 

 

• অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য আদা খুবই উপকারী। গর্ভাবস্থায় বমির ভাব কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি মর্নিং সিকনেস প্রতিরোধও করে আদা।

 

 

• পেশির ব্যথায় আদা উপকারী। ২৫ শতাংশ পেশির ব্যথা কমাতে সক্ষম আদা।

 

• গবেষণায় জানা গেছে, আদা খুব তাড়াতাড়ি গাঁটের ব্যথা কমাতে এবং গাঁটের ক্ষয় রোধ করতে সাহায্য করে।   

 

• তিন দিন মাত্র তিন গ্রাম আদার গুঁড়ো খেলে কোলেস্টেরলের মাত্রা দ্রুত হ্রাস পায়। এতে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেক কমে।

 

• ১২ সপ্তাহ ধরে দৈনিক ২ গ্রাম আদা খেলে খেলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি ১০ ভাগ কমে যায়।

 

• ক্যানসার প্রতিরোধেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিতে পারে আদা। আদার মধ্যে রয়েছে ক্যানসার প্রতিরোধক উপাদান। কোলনের ক্যানসার কোষ ধ্বংস করে আদা।   

 

• আদার মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট ও বায়ো-অ্যাকটিভ উপাদান মস্তিষ্কের কার্যক্রম সচল রাখে। এতে স্মৃতিশক্তি বাড়ে।