Saturday, May 26, 2018

খেজুরের চাহিদা বিশ্বজুড়ে

গবেষণা প্রতিবেদনগুলো বলছে, স্বাস্থ্যের জন্য উপকার ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ায় খেজুরের চাহিদা বিশ্বজুড়ে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

জাতিসংঘের কমোডিটি ট্রেড ডাটা বেইস অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেজুর উৎপাদন করে মিসর ও রপ্তানি করে তিউনিসিয়া। ২০১৭ সালে তিউনিসিয়া ২৫০ মিলিয়ন ডলারের খেজুর রপ্তানি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ১৮২ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে সৌদি আরব। এ বাজারে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল। গত বছর দেশটি রপ্তানি করে ১৫২ মিলিয়ন ডলারের খেজুর। চতুর্থ অবস্থানে থাকা ইরান রপ্তানি করে ১২৪ মিলিয়ন ডলারের এবং পঞ্চম বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ পাকিস্তান সরবরাহ করে ১০৭ মিলিয়ন ডলারের।

রপ্তানিকারক আরো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, আলজেরিয়া, ইরাক, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, মিসর, জার্মানি, ফিলিস্তিন, জর্দান, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, ডেনমার্ক ও তুরস্ক।

তিউনিসিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিতে ২০১৭-১৮ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ খেজুর উৎপাদন হবে।

এ বছর খেজুর উৎপাদন হবে তিন লাখ পাঁচ হাজার ২৫১ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৩ শতাংশ বেশি হবে। তিউনিসিয়ার খেজুর রপ্তানির ৩০ শতাংশ যায় মরক্কোতে। এ ছাড়া ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে খেজুর রপ্তানি করে দেশটি।

অন্যদিকে খেজুর উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে মিসর, ইরান, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। মিসরের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের মোট খেজুরের ১৮ শতাংশ উৎপাদন হয় মিসরে, যা আরব দেশগুলোর তুলনায় ২৩ শতাংশ। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী তারেক কাবিল জানান, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মিসরের খেজুর রপ্তানি ৭০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার টন। যার মূল্য ২৯.৪ মিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে প্রতি টন খেজুর বিক্রি হয়েছিল গড়ে ৮২৪ ডলারে, আর এবার বিক্রি হয় ৯৮০ ডলারে।

কাবিল জানান, মিসর বিশ্বের ৪২ দেশে খেজুর রপ্তানি করে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ড।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনডেক্স বক্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে বিশ্বে ৯৯৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের খেজুর উৎপাদন হয়। যার পরিমাণ ৮০ লাখ ৪৩ হাজার টন। এতে বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত খেজুরের বাজারে প্রবৃদ্ধি আসবে ২.০ শতাংশ হারে। ২০২৫ সাল নাগাদ খেজুরের উৎপাদন হবে ৯.৬ মিলিয়ন টন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোক্তার দিক থেকে এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্যেই সবচেয়ে বেশি খেজুরের চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বে খেজুরের চাহিদার ৪৯ শতাংশ থাকবে এশিয়ায়। বিশেষ করে ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, ওমান, ভারত, চীন এবং কুয়েত এ দেশগুলোতে খেজুরের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি চাহিদাও বাড়বে। ন্যাশনাল বিজনেস, আরব নিউজ, ইজিপ্ট টুডে।

No comments:

Post a Comment