Monday, October 1, 2018

নারীর ক্যান্সারের প্রধান কারণ হতে যাচ্ছে স্থূলতা

২০৩৫ সালের মধ্যে ২৩ হাজার ব্রিটিশ নারী স্থূলতাজনিত ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে যাচ্ছেন, যা ধুমপানজনিত কারণে ক্যান্সার হওয়া নারীর তুলনায় দুই হাজারের মতো কম হবে, অনুমান ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের।


এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৪৩ সালের মধ্যে স্থূলতাই নারীদের ক্যান্সারের সবচেয়ে সাধারণ কারণ হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছে দাতব্য এ সংস্থাটির, খবর সিএনএনের।

ব্রিটিশ জার্নাল অব ক্যান্সারের মতে, যুক্তরাজ্যের ক্যান্সার আক্রান্ত নারীদের ১২ দশমিক ৪০ শতাংশের সঙ্গেই ধুমপানের যোগ আছে, সে তুলনায় স্থূলতার সংশ্লিষ্টতা খুবই কম, মাত্র ৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

পুরুষরা বেশি ধুমপান করায় তাদের ক্ষেত্রে এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্যও অনেক বেশি।

যুক্তরাজ্যে ক্যান্সার আক্রান্ত পুরুষদের ১৭ দশমিক ৭ শতাংশের সঙ্গে ধুমপানের সংযোগ আছে, স্থুলতার সঙ্গে এ যোগ ৫ দশমিক ২ শতাংশ।

পুরুষদের বেলায়ও স্থুলতাজনিত ক্যান্সারের মাত্রা দিন দিন বাড়বে, তবে ধুমপানকে টপকে যেতে তুলনামূলক অনেক বেশি সময় লাগবে বলেও ধারণা ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের।

১৯৭৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত ক্যান্সারের ঘটনাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে এ প্রবণতার চিত্র পেয়েছে তারা। অনুসন্ধানে পাওয়া এ ফলকে এখন স্থূলতা কমাতে জাতীয়ভিত্তিক প্রচারণা ও আইন প্রণয়নের কাজে ব্যবহার করতে চায় দাতব্য সংস্থাটি, যেমনটা করে ধুমপান কমানোর ক্ষেত্রে সফলতা মিলেছে।

“স্থূলতা এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য বিরাট ঝুঁকি, কিছুই যদি না করা হয় তাহলে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে,” বলেছেন ক্যান্সার রিসার্চ ইউকের লিন্ডা বল্ড।

দশকের পর দশক ধরে ধুমপানবিরোধী প্রচারণার পাশাপাশি কর বসানো, তামাকজাত পণ্যের বাজারজাতকরণে বাধা এবং জনসমাগম হয় এমন স্থানে ধুমপান নিষিদ্ধের মতো রাজনৈতিক পদক্ষেপের কারণেই ধুমপানের ক্ষতি কমে এসেছে বলেও মন্তব্য এ প্রতিষেধক বিশেষজ্ঞের।

যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার এক চতুর্থাংশই স্থূলকায়; দেশটিতে স্থূলতার হার পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যেও সর্বোচ্চ বলে ভাষ্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা ওইসিডি-র।

নতুন এ গবেষণায় নারীদের ওপরই বেশি আলোকপাত করা হলেও ইমপেরিয়াল কলেজ লন্ডনের অধ্যাপক শার্লট বেভানের মতে, নারী-পুরুষ উভয়ের ক্যান্সারের ক্ষেত্রেই স্থূলতা প্রধানতম সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হতে যাচ্ছে।

No comments:

Post a Comment