Saturday, July 14, 2018

ফেসবুকের কাছে ‘মিথ্যা খবর’ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ


সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক বলছে তারা মিথ্যা খবর সরিয়ে নেবে না। কারণ এটি তাদের 'কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড' লঙ্ঘন করেনা বলে মনে করে প্রতিষ্ঠানটি।


সামাজিক এই জনপ্রিয় নেটওয়ার্ক ব্রিটেনে বর্তমানে একটি ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে যার বক্তব্য, ‘মিথ্যা খবর আমাদের বন্ধু নয়’।

কিন্তু ফেসবুক বলছে, যারা এ প্ল্যাটফর্মে খবর প্রকাশ করছে তাদের একেকজনের ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি’ থাকে এবং মনগড়া পোস্টগুলো সরানোর অর্থ হবে ‘মুক্ত বাক-স্বাধীনতার মূলনীতির সাথে সাংঘর্ষিক’।

পরিবর্তে তারা এটি বলছে, যেসব খবরকে 'ভুয়া খবর' বলে মনে হবে এমন পোস্টকে নিউজ-ফিডে নিচু অবস্থানে রাখা হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছিল রাশিয়া-এমন তথ্য আসার পর ভুয়া খবর বা মিথ্যা খবর ছড়ানোর ক্ষেত্রে ফেসবুকের ভূমিকা পর্যবেক্ষণ শুরু হয়।

বুধবার নিউইয়র্কে একটি অনুষ্ঠানে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সাংবাদিকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হয় যে, তারা এই সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিয়েছে।

কিন্তু সিএনএন'এর সাংবাদিক অলিভার ডার্সি প্রশ্ন করেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত ইনফোওয়ার্স পেজ এই প্ল্যাটফর্মে রয়েছে ততক্ষণ ফেসবুক কিভাবে দাবি করে যে তারা মিথ্যা খবর ছড়ানোর বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছে?’

ইনফোওয়ার্স হচ্ছে এমন একটি ওয়েবসাইট যারা বিভিন্ন রকম মিথ্যা খবর প্রকাশের জন্য পরিচিত। তারা সরাসরি টকশো প্রচার করে অনলাইনে এবং নয় লাখের বেশি অনুসারী বা ফলোয়ার রয়েছে ফেসবুকে। এর একজন উপস্থাপক এবং ষড়যন্ত্র তাত্ত্বিক হিসেবে পরিচিত অ্যালেক্স জোন্স-এর ইউটিউব গ্রাহক সংখ্যা ২ দশমিক ৪ মিলিয়নের বেশি।

তার এই প্ল্যাটফর্ম থেকে স্পষ্টই মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়। যেমন ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করা হয় যে, ২০১২ সালে স্যান্ডি হুক স্কুলে গুলির ঘটনা ছিল মার্কিন সরকারের দ্বারা প্রচারিত মিথ্যা খবর।

 

ইনফোওয়ার্স এর অ্যালেক্স জোন্স এর পরিচিতি আছে সড়যন্ত্র তাত্ত্বিক হিসেবে

তো এই ইনফোওয়ার্স সম্পর্কে সিএনএন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে ফেসবুক কর্মকর্তা জন হেজম্যান বলেন, ‘আমরা ফেসবুক চালু করেছি এমন একটি জায়গা হিসেবে যেখানে ভিন্ন ভিন্ন মানুষ তাদের বক্তব্য বা মতামত তুলে ধরতে পারে।’

কোম্পানিটি বলছে, তাদের নিয়ম ভঙ্গ করে না এমন কোন মিথ্যা খবর তারা সরিয়ে নেবে না। তবে বানোয়াট খবর মনে হবে যেগুলো, সেগুলোকে নিম্ন-র‍্যাংকিংএ ফেলা হবে।

ফ্যাক্ট চেকাররা মিথ্যা বলে শনাক্ত করেছেন এমন আর্টিকেলকে লাল রং এর সতর্কতামূলক আইকন দিয়ে পরীক্ষামূলক এক পদ্ধতি চালু করেছিল এই ওয়েবসাইটটি।

ফেসবুকের সারা সু সাংবাদিকদের বলেন, ‘মিথ্যা খবর এবং ষড়যন্ত্র তত্ত্ব সত্যিকারেই সমস্যার কারণ হতে পারে এবং এটি আমাকেও আহত করছে’।

কিন্তু‘মতামত প্রকাশের একটি মাধ্যম হিসেবে লোকজনকে পোস্ট করার সুযোগ দিচ্ছি আমরা, কিন্তু সেসব খবর দেখানোর জন্য নিউজ-ফিডের একেবারে শুরুতে জায়গা দেবো না’ সিএনএনকে বলেন ফেসবুকের একজন মুখপাত্র।

তথ্য সূত্র: বিবিসি বাংলা

Friday, July 13, 2018

পাউডারে ক্যান্সার: জনসন অ্যান্ড জনসনকে ৪৭০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণের নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের বৃহৎ এ ওষুধ কোম্পানির প্রধান পণ্য বেবি পাউডার নিয়ে ৯ হাজার মামলা চলার মধ‍্যে শুক্রবার এ রায় দেওয়া হয় বলে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।


রায়ের প্রতিক্রিয়ায় জনসন অ্যান্ড জনসন বলেছে, এ রায়ে তারা ‘গভীরভাবে হতাশ এবং আপিলের পরিকল্পনা নিচ্ছেন।


৬ সপ্তাহের এই বিচার চলার সময় ওই নারীরা ও তাদের পরিবার জুরিকে বলেছে, কয়েক দশক ধরে কোম্পানিটির তৈরি বেবি পাউডার ও অন্যান্য পাউডার ব্যবহার করার পর তারা জরায়ু ক্যান্সারে আক্রান্ত হন।


অভিযোগকারী ২২ নারীর মধ্যে ছয় জন জরায়ু ক্যানসার আক্রান্ত হয়ে মারা যান।


তাদের আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, ট‍্যালকম পণ্য অ‍্যাজবেস্টজে দূষিত বলে  ১৯৭০ দশক থেকে কোম্পানি জানলেও ঝুঁকির বিষয়ে ভোক্তাদের সতর্ক করেনি।


তবে এর আগে একই অভিযোগে করা মামলাগুলোতে ক্ষতিপূরণের যেসব রায় দেওয়া হয়েছিল তার সবগুলোর বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে গিয়ে জয়ী হয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসন।


এর আগে সর্বশেষ একই অভিযোগের বিচারে কোম্পানিটিকে ৪১ কোটি ৭০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ার জুরিরা। পরে সেই রায় উচ্চ আদালতে বাতিল হয়ে যায়।


Friday, July 6, 2018

ওয়ার্ল্ড কাপ

সিগারেটের প্যাকেটে “সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ” থাকে। সেখানে সিগারেট খেলে কী কী রোগ বালাই হতে পারে তার ভয়াবহ বর্ণনা থাকে–এর পরেও কেউ যদি সিগারেট খেতে চায় তাকে সেটা নিজের দায়িত্বে খেতে হয়। আমি একটা সেমিনারের কথা জানি যেখানে বক্তা তার সেমিনার দেওয়ার আগে “সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ” করে নিয়েছিলেন– অর্থাৎ শ্রোতাদের বলে নিয়েছিলেন যে তিনি যে বিষয় নিয়ে কথা বলতে যাচ্ছেন সেই বিষয়ে বিশেষ কিছু জানেন না, তাই ভুলভাল কিছু বলে ফেললে তার দায়িত্ব নিতে রাজী নন! আজকে ওয়ার্ল্ড কাপ নিয়ে এই লেখাটি লিখতে শুরু করার আগে আমার মনে হচ্ছে পাঠকদের উদ্দেশ্যে আমার “সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণ” করে নেয়া দরকার, কারণ আজকে যে বিষয়টি নিয়ে লিখতে বসেছি আমি মোটেও তার এক্সপার্ট নেই। বিষয়টি কতো গুরুতর সেটি একটি কথাতেই বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব, সারা পৃথিবী যখন ওয়ার্ল্ড কাপের উন্মাদনায় উন্মত্ত তখন আমি এখন পর্যন্ত একটি খেলাও দেখিনি।


খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠতে পারে আমি তাহলে কেন এই বিষয় নিয়ে লিখতে বসেছি? কারণটি খুবই সহজ, ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা শুরু হওয়ার পর আমার চারপাশের মানুষগুলো যে ভাবে প্রতিক্রিয়া করছে আমার ধারণা ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা থেকে সেটি মোটেও কম চমকপ্রদ নয়। সেটি নিয়ে আমি তো লিখতেই পারি!


আমার ধারণা এই দেশের মোটামুটি সবাই জেনে গেছেন জার্মান দেশের ভক্ত একজন নিজের জমি বিক্রি করে এই ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা উপলক্ষে প্রায় সাড়ে পাঁচ মাইল লম্বা একটি ফ্ল্যাগ তৈরি করেছেন। পথে ঘাটে আমরা হয়তো এরকম কয়েক মাইল লম্বা ফ্ল্যাগ অহরহ দেখি না কিন্তু নানা দেশের নানা সাইজের ফ্ল্যাগ যে দেখি তাতে কোনো সন্দেহ নেই! হঠ্যাৎ করে কেউ এই দেশে হাজির হলে এটি কোন দেশ সেটি নিয়ে বিভ্রান্তি হতে পারে। একজন মানুষ একটি নির্দিষ্ট দেশের ফুটবল খেলার ভক্ত হতেই পারে কিন্তু ঢালাওভাবে সেই দেশের ফ্ল্যাগ টানালে নিজের দেশকে একটুখানি হলেও অসম্মান করা হয়। অন্য সবকিছুকেই হালকা ভাবে নেয়া যায় কিন্তু জাতীয় পতাকা বা জাতীয় সঙ্গীতকে কিন্তু হালকাভাবে নেয়া যায় না। মনে আছে গত বারের ওয়ার্ল্ড কাপ খেলার সময় যশোরের ডিসি মাইকে ঘোষণা দিয়ে অন্য দেশের পতাকা নামিয়ে দিয়েছিলেন। আমার ধারণা তারপরও যদি কেউ তার প্রিয় ফুটবল টিমের দেশটির পতাকা টানাতে চায় তাহলে তার উপরে বাংলাদেশের একটি ফ্ল্যাগ টানিয়ে রাখতে পারে। কেউ স্বীকার করুক আর নাই করুক জাতীয় সঙ্গীত যেরকম শুধু কিন্তু শব্দ আর কিছু বাক্য নয় আরও অনেক বড় কিছু, জাতীয় পতাকাও সেরকম শুধু সেলাই করা দুই টুকরো কাপড় নয়, আরো অনেক বড় কিছু। নিজের দেশের জাতীয় পতাকার জন্যে ভালোবাসা দেখানোর জন্যে যশোরের সেই ডিসি এখনো আমার প্রিয় মানুষ রয়ে গেছেন।


যাই হোক শুধু জাতীয় পতাকা নিয়ে বাড়াবাড়ির কথা বলার জন্যে আমি আজকে লিখতে বসিনি ওয়ার্ল্ড কাপের মরশুমে আমার অন্য অভিজ্ঞতাটুকুও ভাগাভাগি করে নিতে পারি। এটা কেউ অস্বীকার করবে না যে খেলা দেখার সময় কেউ যদি কোনো একটা টিমকে সাপোর্ট করে তবে খেলা উপভোগ করার আনন্দটুকু শতগুণ বেড়ে যায়। তাই আমি দেখি আমার আশেপাশে যারা আছেন তারা প্রায় সবাই কোনো না কোনো টিমের ভক্ত। আমি যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো টিমের ভক্ত নই তাই যদি কখনো খেলা দেখতে বসি তাহলে অবধারিতভাবে দুর্বল টিমটির জন্যে মায়া জন্মে যায়, তখন নিজের অজান্তেই মনে মনে সেই দুর্বল টিমটিকে সাপোর্ট করতে থাকি। দেখা যায় সাধারণতঃ আমার সেই দুর্বল টিম খেলায় হেরে যায় এবং আমি আশা ভঙ্গ নিয়ে ভগ্ন হৃদয়ে খেলা দেখা শেষ করি। টিমটির জন্যে যত না দুঃখ হয় তার চেয়ে শতগুণ বেশী দুঃখ হয় সেই টিমের সাপোর্টারদের জন্য। আমার জন্যে প্রায় সব খেলাই হচ্ছে মনে দুঃখ পাওয়ার খেলা। (এই বছর যেহেতু এখনো খেলা দেখিনি তাই মনে দুঃখ পাওয়া এখনো শুরু হয়নি!)


তবে আমার চারপাশে যারা আছেন এবং যারা নিয়মিত খেলা দেখছেন তারা বলেছেন এই বছর নাকি দুর্বল টিম আর শক্তিশালী টিম বলে কিছু নেই। ছোট বড় সব টিমই নাকি অসাধারণ খেলা খেলছে এবং এই ওয়ার্ল্ড কাপ হচ্ছে সর্বকালের শ্রেষ্ঠ ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা। কাজেই যে টিম হেরে যাচ্ছে মনে হচ্চে, মায়াবশত তাকে সাপোর্ট করলেও আশা ভাঙ্গ হওয়ার কারণ নেই, শেষ মুহূর্তে গোল দিয়ে তারাও নাকি হিসাব গোলমাল করে দিচ্ছে। আমার পরিচিত বোদ্ধা দর্শকদের কথা বিশ্বাস করে আমি হয়তো এক দুটি খেলা দেখার চেষ্টা করতেও পারি যদিও বলতে দ্বিধা নেই মূল খেলা থেকে দর্শকদের অভিব্যক্তি দেখতেই আমার অনেক বেশী মজা লাগে!


ওয়ার্ল্ড কাপ খেলা শুরু হবার পর আমার পরিচিত বন্ধু বান্ধব যখনই একত্রিত হয় তারা ফুটবল নিয়ে কথা বলে। আমি খুব আগ্রহ নিয়ে তাদের কথা শুনি, আমার কাছে ফুটবলের জন্যে তাদের এই ভালোবাসার ব্যাপারটুকু অসাধারণ মনে হয়। লক্ষ্য করেছি সবাই সব খেলোয়ারের নাড়ী নক্ষত্রের খুটিনাটি তারা বিস্ময়কর রকম নিখুঁতভাবে বর্ণনা করেন। তারা খেলা দেখে আনন্দ পান এবং আমি তাদের আনন্দ পাওয়া দেখে আনন্দ পাই।


এই দেশে সব টিমেরই ভক্ত খুঁজে পাওয়া যায় তবে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিলের ব্যাপারটা অন্যরকম। যারা এই টিম দুটির ভক্ত কোনো একটি অজ্ঞাত কারণে তাদের মাঝে এক ধরণের রেশারেশি রয়েছে। আগে ভেবেছিলাম এটি বুঝি শুধু আমাদের দেশের জন্যে সত্যি কিন্তু মিডিয়াতে দেখেছি এটি পৃথিবরি সব দেশের সব ভক্তদের জন্যে সত্যি। শুধু নিজের টিমকে ভালোবাসলেই আনুগত্য পুরো হয় না, অন্য টিমকে রীতিমত অপছন্দ করতে হয়। এই রেশারেশি যদি শুধুমাত্র কৌতুকের পর্যায়ে থাকতো তাহলে বলার কিছু ছিল না কিন্তু খবরের কাগজে দেখছি এই নিয়ে রীতিমত মারামারি এমন কী খুনোখুনি পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। তার চাইতেও ভয়ংকর ব্যাপার ঘটে যখন ফেবারিট টিম হেরে যাবার পর কেউ আত্মহত্যা করে ফেলে। কী ভয়ানাক। খেলাটি মানুষের আনন্দের জন্যে, এটি যদি মানুষের মনকে বিষাক্ত করে দেয় তাহলে কেমন করে হবে?


তবে সব সময় যে মনকে বিষাক্ত করে দেয় তা নয়। খবরের কাগজে দেখেছি জাপানের খেলোয়াররা যেরকম ভদ্র তাদের দর্শকেরাও সেরকম ভদ্র। জাপান এই ভদ্রতার কারণে পরবর্তী রাউন্ডে এসেছে এবং তাদের দর্শকেরাও খেলার মাঠ থেকে বিদায় নেয়ার আগে গ্যালারিটি ঝেড়ে পুছে পরিস্কার করে রেখে যাচ্ছে! শেষ মুহূর্তে নিজের টিম হেরে যাবার পরও কেউ যদি আশাভঙ্গের বেদনা বুকে চেপে রেখে গ্যালারির নিজের অংশটুকু ঝেড়ে পুছে আসতে পারে সেটি খুব কম কথা নয়! সেদিন আমার একজন সহকর্মীর কাছে শুনেছি মাছের বাজারে মাছ বিক্রেতা যখন জানতে পেরেছে যে আমার সহকর্মীটি মাছ বিক্রেতার মতই আর্জেন্টিনার সমর্থক তখন খপ করে মাছের দাম কমিয়ে দিয়েছে। কী মজা!


ক্যাম্পাসে আমার বাসাটি মেয়েদের হলের খুব কাছে। কোনো কারণে ছাত্রীরা হলে চেচামেচি করলে আমি বাসা থেকে শুনতে পাই। সেদিন আর্জেন্টিনা এবং ফ্রান্সের মাঝে খেলা হচ্ছে, আমার বাসায় টেলিভিশন নেই তাই খেলা দেখতে পারছি না কিন্তু তাতে খুব একটা সমস্যা হচ্ছে না, ছাত্রীদের চিৎকার থেকেই খেলার গতিবিধি টের পাচ্ছি। এর মাঝে একটা গগনবিদারী চিৎকার শুনে বুঝতে পারলাম আর্জেন্টিনা একটি গোল দিয়েছে! পুরো খেলার মাঝে আমি এরকম তিন তিনটি গগনবিদারী চিৎকার শুনে বুঝতে পারলাম একটি বা দুইটি নয় আর্জেন্টিনা তিন তিনটি গোল দিয়ে দিয়েছে। আমার স্ত্রী ঘুমিয়ে ছিল, ঘুম থেকে উঠে আমার কাছে জানতে চাইল খেলার কী খবর? আমি বললাম আর্জেন্টিনা জিতে গিয়েছে, একটি নয় দুইটি নয় তিন তিনটি গোল দিয়ে দিয়েছে! মেয়েদের চিৎকার শুনে টের পেয়েছি। একটু পর আমার স্ত্রী তার ল্যাপটপ চালু করে চমকে উঠে বলর, আর্জেন্টিনা নয়, ফ্রান্স জিতেছে। আর্জেন্টিনা তিনটি গোল দিয়েছে ঠিক আছে কিন্তু ফ্রান্স যে পালটা চারটি গোল দিয়েছে সেটা টের পাওনি? বলাই বাহুল্য সেটি টের পাইনি, প্রতিবার আর্জেন্টিনা গোল খাওয়ার পর মেয়েরা যে পুরোপুরি নিঃশব্দে বসে থাকবে সেটি কে জানতো?


সেদিন একজন আমাকে জিজ্ঞেস করেছে, স্যার আপনি কি  ব্রাজিল নাকি আর্জেন্টিনা? কোরবানী ঈদের সময়ও এভাবে জিজ্ঞেস করা হয়, আপনি কী গরু না খাসী?  একজন মানুষ একটা দেশের সমর্থক হতে পারে কিন্তু নিজেই দেশ হতে পারে কিনা আমি সেই বিতর্কে গেলাম না। তাকে বললাম, আমি বাংলাদেশ!


মানুষটি ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেল। আমতা আমতা করে বলল, কিন্তু বাংলাদেশ তো ওয়ার্ল্ড কাপে খেলছে না! আমি বললাম তাকে কী হয়েছে? এক সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট দলও ওয়ার্ল্ড কাপে খেলতো না, তখন ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করেছি! এখনও তাই।


কেউ হয়তো লক্ষ্যও করেনি, ওয়ার্ল্ড কাপের উন্মাদনায় যখন সারা পৃথিবী উন্মত্ত তখন আমাদের বাংলাদেশের মেয়েরা ক্রিকেট খেলায় আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়ে সিরিজ জিতে নিয়েছে। ওয়ার্ল্ড কাপের খবর দিতে ব্যস্ত খবরের কাগজগুলো আমাদের দেশের মেয়েদের বিজয়ের খবরটুকু পর্যন্ত ঠিক করে দিয়েছে কিনা সন্দেহ আছে! একজন ওয়ার্ল্ড কাপে তার ফেবারিট টিম জিতে যাবার পর যেটুকু আনন্দ পায় আমি আমার বাংলাদেশের মেয়েদের টিম জিতে যাবার পর সেই একই আনন্দ পাই! আনন্দ পাওয়ার জন্যে সবাই খেলা দেখে, আমি যদি এভাবেই আনন্দ পাই ক্ষতি কী?


জানি সবাই আমাকে নিয়ে আড়ালে হাসাহাসি করে। করুক!

Muhammed Jafar Iqbal


Thursday, July 5, 2018

ঢাকার সেই ইহুদি ক্লাব

আজও আছে সেই ঢাকার ইহুদি ক্লাবটি। তবে সেখানে নেই অবসরে মিলিত হয়ে আড্ডা, খেলাধুলা, ধর্মীয় আলোচনা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড।

ভবনের গায়ে শ্বেতপাথরে ‘ফ্রিম্যাসন্স হল-১৯১০’ লেখাটি দেখলে যে কেউ ভাববে ক্লাবটি এখনো চলমান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এ নামে ইহুদিদের ক্লাব এখনো রয়েছে বলে জানা যায়। ঢাকায় ক্লাব ভবন আছে, নেই তার কার্যক্রম। বর্তমানে ওই ভবন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রধান হিসাবরক্ষণ অফিস হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে।

জানা যায়, পুরানা পল্টন মোড়ে দোতলা প্রাচীন ভবনটি এক সময় ইহুদি ক্লাব হিসেবে ব্যবহূত হতো, যা ছিল ঢাকাবাসীর কাছে একটি রহস্যময় ক্লাব। ইহুদি সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়া সে ক্লাবে কারও প্রবেশের অনুমতি ছিল না। ৫০ বছর আগেও পল্টনের এ ক্লাবে ইহুদি সম্প্র্রদায়ের লোকজন ভিড় জমাত। ক্লাবের ভিতর চলত তাদের আলাপ-আলোচনা, গোপন বৈঠক, খানাপিনা ও নাচগান। তবে সব কিছুই হতো সতর্কতার সঙ্গে।

বাইরে থেকে তার কোনো কিছুই জানা যেত না। যারা এখানে আসতেন তারা সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশতেন না। স্বাধীনতাযুদ্ধের পর আর তাদের পল্টনের এই ফ্রিম্যাসন্স ক্লাবে খুব একটা দেখা যেত না। স্বাধীনতার পর ইহুদি ক্লাবটি অনেকটা পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। তাদের বেশিরভাগ জমিজমা দখলদারের হাতে চলে যায়। তখন ঢাকায় দু-চারজন ইহুদি বাস করলেও তারা নিজেদের পরিচয় গোপন রাখতেন। ১৯৮০ সালের দিকে বেশিরভাগ ইহুদিই আমেরিকা কিংবা ইসরায়েলে চলে যান। যাওয়ার সময় ক্লাব ও জমি ঢাকা ডিসি অফিসের বরাবর দলিল করে যান। সেই দলিলসূত্রে ওই ক্লাবের জমিজমা খাস ঘোষণা করা হয়। পরে ক্লাবটিতে রমনা তহসিল অফিসের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর সেখানে ভূমি মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষণ অফিসের নামে লিজ নেওয়া হয়। প্রধান হিসাবরক্ষণ অফিসের অডিট সুপার মৃণাল কান্তি এ প্রতিবেদককে জানান, স্বাধীনতার পরপরই ইহুদিরা ঢাকা ছেড়ে চলে যায়। ক্লাব ভবনটি জেলা প্রশাসনের দখলে থাকলেও এর সামনের বেশ কিছু অংশ এখনো বেদখলে। উপমহাদেশে সর্বপ্রথম ইহুদিদের ক্লাব ফ্রিম্যাসন্স প্রতিষ্ঠিত হয় ১৭২৯ সালে কলকাতার ফোর্ড উইলিয়াম দুর্গে। ১৭১৭ সালে লন্ডনে ফ্রিম্যাসন্স আন্দোলন শুরু হওয়ার মাত্র দুই বছর পর কলকাতায় এর যাত্রা শুরু হয়। ১৭৫৩ সালে মাদ্রাজে এবং ১৭৫৮ সালে মুম্বাইয়ে এর প্রসার ঘটে। পাকিস্তানে এর শাখা স্থাপিত হয় ১৮৫৯ সালে লাহোর শহরের আনারকলি নামক স্থানে। ১৯০৪ সালের ৪ এপ্রিল ভূমিকম্পে ক্লাবটি ধ্বংস হলে ১৯১৬ সালে পুনর্নির্মিত হয়। এরই মধ্যে ১৯১০ সালে ঢাকায় এর একটি শাখা স্থাপিত হয়। লাহোর ছাড়াও পাকিস্তানের কোয়েটা, মুলতান, শিয়ালকোট, রাওয়ালপিন্ডি ও পেশোয়ারে এর শাখা গড়ে ওঠে। আর ঢাকার পর চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শহরে গোপনীয়ভাবে এর কয়েকটি শাখা গড়ে ওঠে। এসব শাখাই তখন ‘গ্র্যান্ড লজ অব ইংল্যান্ড’-এর অধীনে পরিচালিত হতো। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের সময়ও ঢাকায় বেশ কিছু ইহুদি পরিবার ছিল। এসব পরিবারের সদস্যরা ব্যবসা-বাণিজ্যসহ নানা পেশায় যুক্ত ছিলেন। কেউ কেউ হোটেল-রেস্তোরাঁও চালাতেন। ঢাকার বনেদি রেস্তোরাঁর জনক ইহুদিরা। ১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা উপাচার্য পি জে হার্টগ জন্মগতভাবে ইহুদি ছিলেন।

Tuesday, July 3, 2018

চাকরিতে উচ্চপদগুলো ভারতীয়দের দখলে, বাংলাদেশি যুবকরা বেকার!

বাংলাদেশে প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে আসা নাগরিকরা বেসরকারি খাতের বহু উচ্চপদে চাকরি করছেন। ফলে দেশের অনেক শিক্ষিত যুবক বেকার বসে আছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন লেখক ও ব্লগার পিনাকী ভট্টাচার্য।


বিষয়টি নিয়ে একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর শেয়ার করে নিজের ফেসবুক আইডিতে তিনি লেখেন, বাংলাদেশ থেকে ভারতীয়রা চাকরি করে যে রেমিটেন্স পাঠায় তা ভারতের চতুর্থ রেমিটেন্সের উৎস।


তিনি লেখেন, গত বছর ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে ১০ বিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে। প্রথম যে রেমিটেন্সের উৎস সংযুক্ত আরব আমিরাত সেটাও বাংলাদেশ থেকে নেয়া রেমিটেন্সের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি।


পিনাকী ভট্টাচার্য লেখেন, তাহলে বোঝেন কত ভারতীয় নাগরিক আমাদের এখানে কাজ করছে। এরা সবাই উচ্চ পদে কাজ করে। তারা তাদের আশেপাশে প্রভাব বলয় তৈরি করে। আমাদের আরবান এলিটেরা কি এই কারণেই সবসময় গণবিরোধী ভূমিকা নিচ্ছে? ভাবনার অবকাশ আছে। এই টাকাটা বাংলাদেশে রাখা গেলে আমাদের ইকোনমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াতো ভাবুন।


এ বিষয়ে পিনাকী ভট্টাচার্য ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের সূত্র উল্লেখ করে গণমাধ্যমের কাছে বলেন, যেখানে বাংলাদেশের চাকরিপ্রার্থী যুবকরা বেকার থাকছেন, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের জন্য আন্দোলনে নেমেও লাঠিপেটার শিকার হচ্ছেন, সেখানে বেসরকারি চাকরি ভারতীয়রা দখল করে নিলে অমাদের দেশের শিক্ষিত যুবকরা যাবে কোথায়?


তিনি বলেন, বাংলাদেশের চাকরিতে ভারতীয় নাগরিকদের নিয়োগ প্রসঙ্গে এর আগেও গণমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, টেলিভিশন টক শোতেও আলোচনা হয়েছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক হিসেব অনুযায়ী, ২০০৯ সালে পাঁচ লাখ ভারতীয় নাগরিক অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান করছিল। তারা অনেকে টুরিষ্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে এসে বিভিন্ন এনজিও, গার্মেন্টস ব্যবসা, টেক্সটাইল ও তথ্য-প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে কাজে নিযুক্ত হয় এবং হুন্ডির মাধ্যমে নিজ দেশ ভারতে রেমিট্যান্স প্রেরণ করে।


বিশ্বব্যাংকের ২০১২ সালের রেমিট্যান্স তথ্যে বলা হয়েছে, ভারতীয়রা বাংলাদেশ থেকে ৩.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার তাদের দেশে রেমিট্যান্স হিসেবে পাঠিয়েছে।


এ হিসেবে বাংলাদেশ ছিল তখন ভারতের জন্য পঞ্চম বৃহৎ রেমিট্যান্স আয়ের উৎস। আর বাংলাদেশ থেকে রেমিট্যান্স নেয়ার তালিকা ভারতের অবস্থান হচ্ছে এক নম্বরে।


সর্বশেষ হিসেবে বলা হচ্ছে, গতবছর ১০ বিলিয়ন ডলার আয়ের সুযোগে বাংলাদেশ ভারতীয়দের জন্য চতুর্থ বৃহৎ রেমিট্যান্স আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।


তবে অবৈধ পথে পাঠানো অর্থের হিসাব এর চেয়ে আরও বেশি বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।


Monday, July 2, 2018

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার ৫ ঘরোয়া উপায়

অনেকেই সারা বছর কোষ্ঠকাঠিন্যের যন্ত্রণায় ভুগে থাকেন। খুবই সাধারণ ব্যাপার হলেও এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্যথা-কষ্ট ও অস্বস্তি। দুই থেকে তিন দিন মলত্যাগ না করতে পারলে তা কোষ্ঠকাঠিন্যের রূপ নেয়। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না, ঘরোয়া উপায়ে এ সমস্যা থেকে খুব সহজেই মুক্তি মেলা সম্ভব।


চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে পরিত্রাণের ঘরোয়া পাঁচ পদ্ধতি…


১) পাকা কলা- পেট খারাপ হলে অনেক সময়ই কাঁচাকলার তরকারি বা ঝোল খাওয়ানো হয়। আর কোষ্ঠকাঠিন্য জাতীয় সমস্যা দূর করতে পাকা কলার ওপরই নির্ভর করে থাকেন অনেকেই।


২) নাশপাতি- নাশপাতিতে ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপস্থিত। এ ছাড়া এ ফলে প্রচুর পরিমাণে পানি ও ফাইবার রয়েছে, যা আরাম দিতে পারে কোষ্ঠকাঠিন্যে।


৩) আমন্ড- অনেকে সকালের নাস্তার সময় অথবা হাঁটার সময় আমন্ড খেতে ভালোবাসেন। তবে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে আমন্ড খুব উপকারী তা হয়তো অনেকেই জানেন না। কয়েকটা আমন্ড ও পরিমাণমতো পানি পান কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে সহজেই মুক্তি দিতে পারে।


৪) তরমুজ- গরমকালের একটি রসালো ফল তরমুজ। এই ফলও কোষ্ঠাকাঠিন্য দূর করতেও সাহায্য করে।


৫) ওটস- ওটসে দুইধরণের ফাইবার উপস্থিত। এর মধ্যে একটি মলের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, অপরটি শরীরের পানির সঙ্গে মিশে মলকে সহজে বেরিয়ে যেতে সাহায্য করে।


এছাড়া দই, কফির মতো আরও বেশ কিছু খাবার ও পানীয় আছে যা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। তবে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে পরিমাণমতো খাবার ও পানি পানের মাধ্যমে এ সমস্যা থেকেই সহজেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।


Sunday, July 1, 2018

দাঁড়িয়ে প্রস্রাব আর না...

বেশিরভাগ পুরুষই দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেন। প্রস্রাব করার সময় পুরুষের এই অভ্যাস অতি পরিচিত। কিন্তু জানেন কী, একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার ফলে শরীরে মারত্মক ক্ষতি হয়। দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পুরুষের যে সব মারাত্মক ক্ষতি হয় তা প্রকাশ করে জি নিউজ। আসুন তা জেনে নেওয়া যাক; 


দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের দূষিত পদার্থগুলি মূত্রথলির নীচে গিয়ে জমা হয়। অথচ বসে প্রস্রাব করলে মূত্রথলিতে চাপ লাগে, ফলে সহজেই ওসব দূষিত পদার্থ শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।


দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের বেগ ধীরে ধীরে কমতে থাকে।


  দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে পেটের উপরের অংশে কোনও চাপ পড়ে না। ফলে দূষিত বায়ু স্বাভাবিক ভাবে বের হতে পারে না। উল্টে তা শরীরের উপর দিকে উঠে যায়। এর ফলে শরীরের অস্থিরতা, রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনের গতি বৃদ্ধি পায়।


দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের দূষিত পদার্থগুলি শরীর থেকে ঠিক মতো বেরিয়ে যেতে পারে না। সেগুলি মূত্রথলির নীচে গিয়ে জমা হয়। দীর্ঘদিন দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলে এই দূষিত পদার্থগুলি জমতে জমতে কিডনিতে পাথর সৃষ্টি করে।


একাধিক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যাঁরা নিয়মিত দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেন, তাঁরা শেষ জীবনে ডায়াবেটিস, জন্ডিস বা মারাত্মক কিডনির অসুখে আক্রান্ত হন।

সুতরাং, বদলে নিন অভ্যাস, সুস্থ শরীরে বাঁচুন দীর্ঘদিন।