Saturday, May 26, 2018

খেজুরের চাহিদা বিশ্বজুড়ে

গবেষণা প্রতিবেদনগুলো বলছে, স্বাস্থ্যের জন্য উপকার ও পুষ্টিগুণসম্পন্ন হওয়ায় খেজুরের চাহিদা বিশ্বজুড়ে ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।

জাতিসংঘের কমোডিটি ট্রেড ডাটা বেইস অনুযায়ী বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি খেজুর উৎপাদন করে মিসর ও রপ্তানি করে তিউনিসিয়া। ২০১৭ সালে তিউনিসিয়া ২৫০ মিলিয়ন ডলারের খেজুর রপ্তানি করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। ১৮২ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি করে দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে সৌদি আরব। এ বাজারে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইসরায়েল। গত বছর দেশটি রপ্তানি করে ১৫২ মিলিয়ন ডলারের খেজুর। চতুর্থ অবস্থানে থাকা ইরান রপ্তানি করে ১২৪ মিলিয়ন ডলারের এবং পঞ্চম বৃহৎ রপ্তানিকারক দেশ পাকিস্তান সরবরাহ করে ১০৭ মিলিয়ন ডলারের।

রপ্তানিকারক আরো দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র, আলজেরিয়া, ইরাক, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, মিসর, জার্মানি, ফিলিস্তিন, জর্দান, মেক্সিকো, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, ডেনমার্ক ও তুরস্ক।

তিউনিসিয়ার কৃষি মন্ত্রণালয় জানায়, দেশটিতে ২০১৭-১৮ মৌসুমে রেকর্ড পরিমাণ খেজুর উৎপাদন হবে।

এ বছর খেজুর উৎপাদন হবে তিন লাখ পাঁচ হাজার ২৫১ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ২৬.৩ শতাংশ বেশি হবে। তিউনিসিয়ার খেজুর রপ্তানির ৩০ শতাংশ যায় মরক্কোতে। এ ছাড়া ইউরোপ ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশে খেজুর রপ্তানি করে দেশটি।

অন্যদিকে খেজুর উৎপাদনে শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে যথাক্রমে মিসর, ইরান, পাকিস্তান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। মিসরের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী বিশ্বের মোট খেজুরের ১৮ শতাংশ উৎপাদন হয় মিসরে, যা আরব দেশগুলোর তুলনায় ২৩ শতাংশ। দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী তারেক কাবিল জানান, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে মিসরের খেজুর রপ্তানি ৭০ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩০ হাজার টন। যার মূল্য ২৯.৪ মিলিয়ন ডলার। ২০১৭ সালে প্রতি টন খেজুর বিক্রি হয়েছিল গড়ে ৮২৪ ডলারে, আর এবার বিক্রি হয় ৯৮০ ডলারে।

কাবিল জানান, মিসর বিশ্বের ৪২ দেশে খেজুর রপ্তানি করে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া, মরক্কো, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ড।

বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনডেক্স বক্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ সালে বিশ্বে ৯৯৯ কোটি ১০ লাখ ডলারের খেজুর উৎপাদন হয়। যার পরিমাণ ৮০ লাখ ৪৩ হাজার টন। এতে বলা হয়, ২০১৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত খেজুরের বাজারে প্রবৃদ্ধি আসবে ২.০ শতাংশ হারে। ২০২৫ সাল নাগাদ খেজুরের উৎপাদন হবে ৯.৬ মিলিয়ন টন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ভোক্তার দিক থেকে এশিয়ার মধ্যপ্রাচ্যেই সবচেয়ে বেশি খেজুরের চাহিদা রয়েছে। ২০২৫ সাল নাগাদ বিশ্বে খেজুরের চাহিদার ৪৯ শতাংশ থাকবে এশিয়ায়। বিশেষ করে ইরান, ইরাক, পাকিস্তান, ওমান, ভারত, চীন এবং কুয়েত এ দেশগুলোতে খেজুরের উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি চাহিদাও বাড়বে। ন্যাশনাল বিজনেস, আরব নিউজ, ইজিপ্ট টুডে।

যে ১৫টি প্রশ্নের মুখে অসহায়-ব্যর্থ জাকারবার্গ

মার্ক জাকারবার্গের সময়টা আর বোধহয় ভালো হবে না। আইনের মারপ্যাঁচ আর আইনপ্রণেতাদের সামলে নিয়ে তার টিকে থাকার লড়াইটা চলছেই।

এ বছরের মার্চে ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির পর থেকেই তার দুঃসময়ের শুরু। ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি যাওয়ার ঘটনা সোজা কথা নয়। সম্প্রতি ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পার্লামেন্টের সামনে দাঁড়াতে হয়েছিল তাকে। এর আগেও ফেসবুক কর্ণধারকে কংগ্রেসের এক শুনানিতে আমেরিকার আইনপ্রণেতাদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। আর সম্প্রতি শুনানি হয়েছে ইউরোপের আইনপ্রেণেতাদের সামনে। সেখানে তাকে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছে। এখানে এমন ১৫টি প্রশ্ন তুলে ধরা হলো, যেসব প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি জাকারবার্গ। তাকে অসহায় দেখায় তখন। সত্যিকার অর্থেই বিশ্বের সর্ববৃহৎ সোশাল মিডিয়া প্লাটফর্মের কর্ণধার এসব প্রশ্নের উত্তর দিতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন।

এখানে প্রশ্নকারীর নাম, তার দেশ এবং জাকারবার্গকে ছুড়ে দেয়া প্রশ্নটি তুলে ধরা হয়েছে।  

১. জার্মানির ম্যানফ্রেড ওয়েবার: ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার কাছে ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য দেয়া হবে এবং ব্যবহারকারীদের তা জানানো হবে না- ২০১৫ সালে এমন সিদ্ধান্ত কি আপনি ব্যক্তিগতভাবে নিয়েছিলেন? 

২. ওয়েবারের আরেকটি প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন যে, ফেসবুকের সঙ্গে আপনার বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়টি আলোচনার সময় হয়েছে? আর তা না করার জন্যে একটি কারণ দেখাতে পারেন?

৩. জার্মানির ইউডো বুলমান: ফেসবুকে ভুয়া অ্যাকাউন্টের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, এর ব্যাখ্যা কি আপনি দিতে পারেন? 

৪. ইউডো বুলমান: ব্যবহারকারীর স্পষ্ট ধারণা না থাকা সত্ত্বেও ফেসবুক তার কোনো তথ্য থার্ড-পার্টির কাছে বিক্রি করবে না- এই গ্যারান্টি আপনি দিতে পারেন? এমনকি ব্যবহারকারী ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ করে দিলেও? 

৫. আবারো ইউডো: ব্যবহারকারীরা ফেসবুক অ্যাকাউন্ট একেবারে বন্ধ করার পর কতটা দ্রুততার সঙ্গে এবং কোন নীতিমালার অধীনে তাদের তথ্যগুলো পুরোপুরি মুছে ফেলা হয়? 

৬. ইউডো: স্পর্শকাতর ভুয়া অ্যাকাউন্টগুলো টার্গেট করে যে কাজ শুরু করেছেন তা আসলে কী? বিশেষ করে যে অ্যাকাউন্টগুলো রাজনীতিতে প্রভাববিস্তার করে? 

৭. ব্রিটেনের সাঈদ কামাল: যারা ফেসবুক ব্যবহার করেন না, কিন্তু অ্যাকাউন্ট আছে তাদের তথ্য নিয়ে কী করে ফেসবুক? এগুলোও কি বিক্রি করা হয়? 

৮. সাঈদ কামাল: ব্যবহার যারা করেন না তাদের পক্ষে কি দেখা সম্ভব যে ফেসবুক তাদের বিষয়ে কোন কোন তথ্য সংগ্রহে রেখেছে? 

৯. বেলজিয়ামের গাই ভারহফস্টাডট: মেসেঞ্জার এবং হোয়াটসঅ্যাপ আলাদা করার আইডিয়া কি আপনার? 

১০. গাই ভারহফস্টাডট: এই পৃথিবী আপনাকে কীভাবে স্মরণ করবে বলে আশা করেন আপনি- স্টিভ জবস এবং বিল গেটসের মতো বিশ্বকে প্রাচুর্যপূর্ণ করা আরেক ইন্টারনেট জায়ান্ট হিসেবে, নাকি সেই জিনিয়াস যিনি ডিজিটাল দানব সৃষ্টি করেছেন? 

১১. বেলজিয়ামের ফিলিপে ল্যাম্বার্টস: টার্গেটেড বিজ্ঞাপনের কবল থেকে মুক্ত করতে ব্যবহারকারীদের কখনো সুযোগ দেবে ফেসবুক? 

১২. নর্দান আয়ারল্যান্ডের ডায়াসে ডটস: আপনি কি মনে করেন যে ফেসবুক ডিফল্ট সেটিংসয়ে ব্যবহার করার পরও প্রত্যেক মানুষের সন্তান নিরাপদ থাকবে? 

১৩. ব্রিটেনের ক্লদ মোরায়েস: তথ্য চুরি হয়েছে এই তথ্য ফেসবুক কেন তার ব্যবহারকারীদের জানায়নি? কেন তথ্য নিরাপদ রাখার জন্যে ব্যবহারকারীদের কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি? 

১৪. জার্মানির জ্যান ফিলিপ আলব্রেচট: আপনি কি প্রতিশ্রুতি দেবেন যে ইউরোপীয় ব্যবহারকারীদের তথ্য হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফেসবুকের সেবাপণ্যের মধ্যে চালাচালি হবে না? 

১৫. ফিলপ আলব্রেচট: আপনি কি নিশ্চিত করতে পারেন যে বর্তমানে এবং ভবিষ্যতে কোনো ব্যবহারকারীকে কেবল ফেসবুক ব্যবহারের জন্যে যে তথ্য দরকার তার বাইরে আর কোনো দিতে হবে না? 

সূত্র: গেজেটস স্নো

ফেসবুক আসক্তি: বাড়ছে একাকিত্ব-হতাশা

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকের ব্যবহার মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর করেছে। বিশ্বের যেকোনো স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বন্ধুদের কাছে টেনে নেয়ার মতো সুযোগ এই মাধ্যমটিই করে দিয়েছে। সবচেয়ে লক্ষণীয় ব্যাপার হলো- মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কিছু ভালো সময় কাটানোর একটি অন্যতম প্ল্যাটফরম ফেসবুকই। আর সেটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। তবে ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডের এ জায়গাটি যতই মানুষের দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে ততটাই নেতিবাচক প্রভাবও ফেলেছে। প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ প্রচুর সময় ব্যয় করার পাশাপাশি ফেসবুকে থেকে নিজেরা হতাশায় ভুগছেন- এমনটাই মনে করছেন গবেষকরা। 

বিভিন্ন সমাজ বিজ্ঞানী ও গবেষক বলছেন, ফেসবুক মানুষের জন্য কল্যাণ বয়ে আনলেও এর থেকে প্রভাবিত হয়ে হতাশ হচ্ছেন অনেকে। বিশেষ করে এ হতাশা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে তরুণ সমাজের মাঝে বেশি লক্ষণীয়। দেখা যায়, কেউ সারাদিন ব্যস্ততার পর বাড়ি ফিরে ফেসবুক অনলাইনে আসেন। ওয়াল ঘুরে দেখলেন কাছের বন্ধুদের অনেকে কোথাও ঘুরতে গিয়েছেন সেসব ছবি, যেখানে তার থাকার কথা থাকলেও পারেননি। আবার অনেকে আছেন অনলাইনে প্রায়ই কোনো এক বন্ধুর সঙ্গে চ্যাটিংয়ে ব্যস্ত। কিন্তু হঠাৎ তিনি লাপাত্তা। তার সঙ্গে কথা বলতে চেয়েও পারছেন না। এর থেকে হতাশায় ভোগেন তারা। 
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাইম জানান, গত এক মাস ধরে ফেসবুক আইডি ডিঅ্যাক্টিভেট করে রেখেছি। ফেসবুক অনলাইনে থাকলে মাঝে মাঝে অলস সময় কাটানো যায়। কিন্তু এর থেকে বড় সমস্যা হলো- প্রায়ই হতাশ হয়ে যাই। বন্ধুবান্ধবের অনেকের অ্যাক্টিভিটি দেখি। নানা কারণে সেসবে অংশ নিতে পারি না। নিউজফিডে সবার কাজকর্ম দেখে সময়গুলোতে অস্থিরতা কাজ করে। 

আফসার নামের এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ফেসবুক যতটা আমাদের জীবনকে সহজ করে তুলেছে ততটাই খারাপ প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে চ্যাটিংয়ে অনেকের সঙ্গে কথা হয়। দেখা যায়, যে বন্ধুকে বেশি ভালো লাগে তার সঙ্গে হঠাৎ কথোপকথন বন্ধ হয়ে গেলে ভীষণ খারাপ লাগে। এ সময় খানিকটা একাকিত্ব অনুভব করি। সারাদিন কাজকর্ম শেষ করে এসে যদি দেখি ওই ভালোলাগার বন্ধুটি অনলাইনে নেই তখন সত্যিই খুব বিষণ্নতায় ভুগি। এসব কারণে অনেক দিন হয় সামাজিক যোগাযোগের এ মাধ্যমটিতে খুব একটা আসা হয় না। 
ওহিও স্টেট ইউনির্ভাসিটির জ্ঞাপন বিভাগের অধ্যাপক সিলভিয়া নবলক ওয়েস্টারইউক বলছেন, যখন আপনি ভালো মুডে থাকেন, তখন আপনি সেলিব্রিটিদের ফলো করতে ভালোবাসেন। কিন্তু যখন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তখন আপনি সাধারণ মানুষদের জীবনেও আগ্রহ দেখান। যারা আপনার মতো কোনো না কোনোভাবে ভেঙে পড়েছেন তাদের প্রতি আপনার সহানুভূতি জন্মায়। এই সমীক্ষা আরো জানাচ্ছে, ফেসবুকের প্রতি অত্যধিক আগ্রহ ব্যবহারকারীদের খিটখিটে করে দেয়। কারণ, এক সময় বন্ধুদের কাছ থেকে তাদের সাফল্যের আপডেট পেতে পেতে আপনার নিজেকে একা, পিছিয়ে পড়া, হেরে যাওয়া বলে মনে হতে পারে। তাই কীভাবে সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার করবেন তা নিয়ে সাবধান। সমীক্ষা বলছে, মন খারাপের সময় আপনি সেই সমস্ত মানুষদের প্রোফাইল বেশি ভিজিট করেন যারা আপনার থেকেও বেশি পিছিয়ে রয়েছে বা কম সাফল্যের মুখ দেখেছে।

গত কয়েক বছরে এ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হয়েছে। এ রকমই কিছু গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করে এবং মনোবিজ্ঞানীদের সঙ্গে কথা বলে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা আইএএনএস। সেই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একাকিত্ব নিয়ে আমাদের সাধারণ ধারণা হচ্ছে বয়স হলে মানুষ একা হয়ে যায়। কিন্তু কম বয়সী কিশোর-কিশোরীরাও দিন দিন একা হয়ে যাচ্ছে ফেসবুকের কারণে। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলছে। ফেসবুকে আসক্তির কারণে কিশোর-কিশোরীরা অন্যদের থেকে আলাদা হয়ে একাকী জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। আর এই একাকিত্ব থেকে বাড়ছে হতাশা। দীর্ঘদিনের হতাশা থেকে তারা হয়ে পড়ছে আত্মহত্যাপ্রবণ। দিল্লির ফরটিস হেলথ কেয়ার হাসপাতালের মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড বিহ্যাভিরিয়াল সায়েন্সেসের পরিচালক ডা. সামির পারিখ জানিয়েছেন, একাকিত্ব শারীরিক ও মানসিক দুদিক দিয়েই রোগীদের ক্ষতি করে। এরা আস্তে আস্তে সবার থেকে দূরে সরে যায় এবং তাদের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। নিজের অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়ে নয়াদিল্লির সরোজ সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের কনসালটেন্ট ডা. সন্দীপ গোভিল বলেন, তনয় নামের ১৪ বছর বয়সী এক ছেলে আমাদের হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল। ফেসবুকে সে এতটাই আসক্ত ছিল যে ফোন বন্ধ করে রাখলে সে অস্থির হয়ে পড়তো। আমরা তার এই ‘স্ক্রিন এডিকশন’-এর চিকিৎসা শুরু করি। তখন ব্যবস্থা নেয়া না হলে এই আসক্তি থেকে সে আরো বড় কোনো মানসিক রোগে আক্রান্ত হতে পারতো। ইউনিভার্সিটি অব শিকাগো এবং ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া-লস অ্যাঞ্জেলেসের গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ করেছেন। সেখানে তারা উল্লেখ করেছেন, একাকিত্বের ফলে মস্তিষ্কে বিপজ্জনক সিগন্যাল পৌঁছায়। যার ফলে হোয়াইট ব্লাড সেলের উৎপাদন ব্যাহত করে। তাই একাকিত্ব থেকে শারীরিক অসুস্থতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। 


আম নামের বিষের পেয়ালা

পবিত্র রমজান মাসে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য শক্তিশালী বিষাক্ত সিন্ডিকেট ভীষণ সক্রিয়। রোজার ইফতারে ফলের মেন্যুতে আম নামের বিষের পেয়ালা তুলে দিতে সব আয়োজন সম্পন্ন করেছে। জনস্বাস্থ্য উপেক্ষা করে সিন্ডিকেট সাধারণ মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এমন কয়েকটি বিষাক্ত আমের বাজারের খবর পেয়ে তা ধ্বংস করেছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছে, রোজার বাজারে বিষমুক্ত আম পাওয়াটা এবার কঠিন হয়ে পড়বে। মাত্র ১০০ গ্রাম ক্যালসিয়াম কার্বাইড প্রায় ১০০ কেজি আম পাকাতে পারে। এই রাসায়নিক ক্যানসার, কিডনি ও লিভার সমস্যায় মানুষের মৃত্যু ঘটাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমের বোঁটা শুষ্ক থাকলেই নিশ্চিত যে, এতে রাসায়নিক মেশানো হয়েছে। মারাত্মক ক্ষতিকর ক্যালসিয়াম কার্বাইডের পাশাপাশি ইথাফোন গ্রীষ্মকালীন ফলে ব্যবহার করা হয়ে থাকে ফল রাতারাতি পাকানো ও আকর্ষণীয় রঙের জন্য এবং ফরমালিন ব্যবহার করা হয় ফল সংরক্ষণের জন্য।

জানা যায়, দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আম নগদ অর্থ আয়কারী প্রধান মৌসুমি ফল এবং এই সুস্বাদু ফলের জন্য বিখ্যাত রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার অর্থনীতিতে আমের প্রাধান্য রয়েছে। রাজশাহী ফল গবেষণা সূত্র জানায়, ব্যবসায়ীরা তিনটি পর্যায়ে রাসায়নিক মেশাচ্ছে। আমের ভালো রং তৈরি, পাকানো ও আম না পচার জন্য এখানে রাতদিন শত শত মণ আমে স্প্রে করে মেশানো হচ্ছে ভারত থেকে চোরাই পথে আমদানি করা রাইস মিথানল, কারবাইট সালফেট, ফরমালিনসহ বিভিন্ন প্রকারের বিষাক্ত কেমিক্যাল। যা দেহের বিভিন্ন কোষ ধ্বংস করে মানুষকে দ্রুত মৃত্যুর দিকে পতিত করে। আম ব্যবসায়ীরা জানান, যশোর, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ অন্যতম আমের বাজারে প্রত্যেক মৌসুমে হাজার হাজার মণ বিভিন্ন প্রজাতির আম এখান থেকে ঢাকা-খুলনাসহ দেশের বড় বড় শহরগুলোতে চলে যায়। এই বাজারে প্রায় ৪ শতাধিক আমের আড়ত রয়েছে। এসব আড়তেরও আছে এক বা একাধিক গুদাম ঘর। তাছাড়া বাজারের আশপাশে প্রায় শতাধিক বাড়ি নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে প্রতি মৌসুমে স্প্রেসহ আম রাখার কাজে ব্যবহার হয়ে থাকে। প্রতিদিন এখানে হাজার হাজার মণ আম কেনাবেচা হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত ব্যাপারী এই বাজারে আসেন। আড়তে আম বিক্রি হওয়ার পর চলে যায় আগে থেকে নির্দিষ্ট করা গুদামঘর বা বাসাবাড়িতে। এরপর ঘরের মেঝেতে আম সুন্দর করে বিছিয়ে রাইস মিথানল, কারবাইট সালফেট, ফরমালিন একত্রে মিশ্রিত করে আমের ওপর স্প্রে করা হয়। ফ্যানের বাতাসে কিছুক্ষণ শুকানোর পর প্লাস্টিক কার্টন অথবা ক্যারেটে পুরাতন খবরের কাগজ মুড়িয়ে প্যাকিং করা হয়। এরপর ট্রাকে লোড দিয়ে পাঠানো হয়ে থাকে ঢাকা-খুলনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে। এ ক্ষেত্রে যারা আম স্প্রে করাসহ প্যাকিং করে থাকে তাদেরও স্বাস্থ্য ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন রাইস মিথানল, কারবাইট সালফেট, ফরমালিনসহ বিষাক্ত কেমিক্যাল একত্রে মিশিয়ে স্প্রে করা আম খেলে মানুষের পেটের ব্যথা, লিভার সিরোসিস, কিডনি নষ্ট, হৃদযন্ত্রের ক্ষতিসহ দেহের কোষকলা ধ্বংস হয়ে শারীরিক বিপর্যয় ঘটতে পারে। এমনকি অধিক মাত্রায় এই আম খেলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। গত মঙ্গলবার রাজধানীর সবচেয়ে বড় ফল আড়ত বাদামতলীতে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতে শত শত মণ ফল ধ্বংসের পর এবার কারওয়ান বাজারের ফল আড়তে অভিযান চালায় র্যাব, বিএসটিআই ও নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ টিম। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দেন। এ সময় ফলে ইথোফেন থাকার অভিযোগে ৪০০ মণ আম ধ্বংস করা হয়। কারওয়ান বাজারের মতো ফল বাজারে ভেজালচক্র ক্ষতিকর কেমিক্যাল মিশিয়ে বাজারজাত করছে। রমজান মাসে এসব খেয়ে সবাই অসুস্থ হয়ে পড়বে। তা ছাড়া এটি মারাত্মক অপরাধ। র‌্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সরোয়ার আলম বলেন, ‘অসাধু ব্যবসায়ীরা ফল পাকাতে এখন ব্যবহার করছেন ইথোফেন। ইথোফেন একটি হরমোন স্প্রে। এটি জমিতে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু তাড়াতাড়ি লাভের আশায় ব্যবসায়ীরা সরাসরি এখন আমে ব্যবহার করছে। এই আম খেলে ডায়রিয়া হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া মাত্রাতিরিক্ত ইথোফেন মানবদেহে প্রবেশ করলে ক্যানসার ও কিডনি নষ্টসহ মৃত্যুর আশঙ্কা থাকে। ’ তিনি বলেন, প্রত্যেকটি ফলই প্রাকৃতিকভাবে পাকবে এটিই স্বাভাবিক, কিন্তু আমাদের কিছু ব্যবসায়ী সেটি মানতে নারাজ। তারা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান ব্যবহার করে অপরিপক্ব ফল জোর করে পাকিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য সমূহ বিপদ ডেকে আনছে। রাজধানীর যাত্রাবাড়ী ফলের আড়তে ইথোফেন দিয়ে অপরিপক্ব ফল পাকানোর দায়ে র‌্যাব, বিএসটিআই ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যৌথ সহযোগিতায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত ৯ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন এবং জব্দ করেন এক হাজার মণ আম, ৪০ মণ নষ্ট খেজুর যা ধ্বংস করা হয়েছে।
BD protidin

৬২ শতাংশ যাত্রী বাস চলা অবস্থায় ওঠা-নামা করতে বাধ্য হচ্ছে।

রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের নামে ৯৬ শতাংশ বাস চলছে দরজা বন্ধ করে। আসনের অতিরিক্ত যাত্রীও তোলা হচ্ছে। অথচ, ভাড়া নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত। আর ৬২ শতাংশ যাত্রী বাস চলা অবস্থায় ওঠা-নামা করতে বাধ্য হচ্ছে।


রমজান মাসে যাত্রীদের ভোগান্তি নিয়ে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি পরিচালিত এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জরিপে বলা হচ্ছে, মিটারের বদলে ৯৪ শতাংশ সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলছে চুক্তিতে। ফলে পবিত্র রমজানও যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।


আজ শনিবার জরিপটি প্রকাশ করা হয়। সমিতি বলছে, গণপরিবহনে চলছে চরম নৈরাজ্য। জরিপে অংশ নেওয়া ৯২ শতাংশ যাত্রী বলেছেন, প্রতিদিন যাতায়াতের ক্ষেত্রে তাঁদের দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। যাত্রীদের ভোগান্তি নিরসনে মালিক সমিতি বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা জরিপকালে দেখতে পায়নি যাত্রী কল্যাণ সমিতি।


যাত্রী কল্যাণ সমিতির গণপরিবহনের ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ উপকমিটির পাঁচটি দল ১৯ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত ৬ দিন রাজধানীর ১৩টি জায়গায় যাত্রীদের ভোগান্তি ও ভাড়া নৈরাজ্য পর্যবেক্ষণ করে। এ সময় ৩১০টি বাস এবং ২১৪টি অটোরিকশার ভাড়ার তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ৫৫৭ জন বাসযাত্রী, ১৮৫ জন অটোরিকশা যাত্রী, ৫৬ জন ট্যাক্সি ক্যাব যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেন জরিপকারীরা।


জরিপের জায়গাগুলো হলো শনির আখড়া, গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, যাত্রাবাড়ী, পোস্তগোলা, শাহবাগ, ফার্মগেট, মিরপুর-১০, মহাখালী, আগারগাঁও, ধানমন্ডি, বনানী, বারিধারা।


জরিপে দেখা যায়, অফিস যাওয়া এবং অফিস ছুটি শেষে ইফতারকে কেন্দ্র করে যাত্রীদের ঘরমুখী যাত্রার সুযোগ নিয়ে বেসরকারি অধিকাংশ লোকাল বাস রাতারাতি সিটিং সার্ভিস হয়ে গেছে। কিন্তু সিটিং সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়েও ২৮ শতাংশ যাত্রী দাঁড়িয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছে। ৯৮ শতাংশ বাসযাত্রী অতিরিক্ত ভাড়া দিতে বাধ্য হচ্ছে। আর ৬২ শতাংশ যাত্রী চলন্ত বাসে ওঠা–নামা করতে বাধ্য হয়।


অন্যদিকে নগরে চলাচলকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চলছে চালকদের আধিপত্য। জরিপে দেখা যায়, ৯৮ শতাংশ অটোরিকশাচালক মিটারের অতিরিক্ত ভাড়া বা বকশিশ দাবি করছেন। আগে ১০ থেকে ২০ টাকা বকশিশ চাইলেও রমজানে চালকেরা ৩০ থেকে ৫০ টাকা বকশিশ দাবি করছেন। অতিরিক্ত ভাড়া নিলেও যাত্রীদের পছন্দের গন্তব্যে যেতে রাজি হন না ৯০ শতাংশ চালক।


জরিপকারীরা দেখতে পান, নগরে প্রয়োজনীয়সংখ্যক যাত্রীছাউনি না থাকায় এবং যাত্রীছাউনিগুলো বেদখলে থাকায় বৃষ্টিতে নাজুক পরিস্থিতিতে পড়ছে যাত্রীরা, বিশেষ করে নারী, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। গণপরিবহনের নৈরাজ্যের মধ্যে পাঠাও, উবারসহ অ্যাপসভিত্তিক পরিবহনগুলো যাত্রীদের কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছে।


রমজানেও গণপরিবহনে এমন নৈরাজ্যে যাত্রীরা তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে হেনস্তার শিকার হলেও কোথায় অভিযোগ করতে হয়, সেটি জানেন না ৯৩ শতাংশ যাত্রী। আর ৮৮ শতাংশ যাত্রী মনে করেন অভিযোগ করে কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। যাত্রী ভোগান্তির বিষয়টি গণমাধ্যমে গুরুত্ব পেলেও তা নিরসনে মালিক সমিতি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের কোনো তৎপরতা জরিপকারীরা দেখতে পাননি।

Prothom alo

মাদক নিয়ে ফেসবুকে ওসির অকপট স্বীকারোক্তি!

মাদক নিয়ন্ত্রণ না হওয়ার পেছনে সোর্স কালচার অন্যতম কারণ বলে মনে করেন রাজধানীর বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী। মাদক নির্মূল না হওয়ার পেছনে পুলিশের ব্যর্থতার কথাও অকপটে স্বীকার করেছেন তিনি।


সম্প্রতি একাধিক ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন কাজী ওয়াজেদ আলী। তিনি বলেন, পুলিশের সঙ্গে থেকে অভিযানের তথ্য গোপনে ফাঁস করে দেয় সোর্সরা। এসব তথাকথিত সোর্স নামধারী মাদক ব্যবসায়ীরা শুধুমাত্র ওইসব ব্যবসায়ীকে ধরিয়ে দেয় যারা ওদের পেমেন্ট দেয় না। তাই মাদক ব্যবসায়ীরা কখনও কখনও পুলিশের চেয়ে কথিত ফর্মাদের সোর্স বেশি ভয় পায়। তাছাড়া মাদকবিরোধী সভা-সেমিনারে যারা উচ্চকণ্ঠে কথা বলেন তারাই মাদক ব্যবসায়ীদের থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করেন।


ওয়াজেদ আলী বলেন, মাদকসহ কেউ ধরা পড়লে প্রকাশ্যে মাদকবিরোধী গরম বক্তব্য দেয়া ব্যক্তিরাই নির্লজ্জের মতো মাদক বিক্রেতাকে ছাড়ানোর জন্য তদবির করেন। আগের দেয়া তার গরম ভাষণকে স্মরণ করিয়ে দিলেও তিনি তা আমলে নিতে চান না। উপরন্তু ভাবখানা এমন যে মাদক ব্যবসায়ীকে থানা থেকে ছাড়ানোটা তার নৈতিক দায়িত্ব। তার তদবির না রাখাটা তার পোস্ট পজিশনের জন্য অত্যন্ত অমর্যাদাকর।


ওসি ওয়াজেদ আলী বলেন, মাদকের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন অফিসারদের নির্দেশিত জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে চিহ্নিত মাদক স্পট ধ্বংস করা হয়। অনেক ব্যবসায়ীকে মাদকসহ চালান দেয়া হয়, উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য। চিহ্নিত স্পটগুলো এত কিছুর পরও মাদকসেবীর সংখ্যা কমানো যায়নি।


তিনি জানান, থানায় রুজুকৃত মামলার ৪০ ভাগই মাদকের। তারপরও কমছে না মাদকসেবীর সংখ্যা। উত্তরে মাদক বিক্রি বন্ধ করলে শুরু হয় দক্ষিণে, আবার দক্ষিণে যেতে যেতেই পূর্বে। অনেকটা কানামাছি খেলার মতো। আমাদের সাফল্যের পারদটা শুধুমাত্র সংখ্যা আর তথ্যনির্ভরই মনে হয়। তাই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঠিকভাবে মাদকবিরোধী কর্মকাণ্ড পরিচালনায় মানসিকতার পরিবর্তন আনাটা জরুরি।


পুলিশের সোর্সদের বিষয়ে ওয়াজেদ আলী বলেন, মাদকে ছেয়ে থাকা এলাকায় মাঠপর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে লক্ষ্য করা গেছে, আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথাকথিত সোর্স নামধারী কিছু লোক এলাকার মাদক ব্যবসাগুলো নিয়ন্ত্রণ করে। তারা কখনও পুলিশের সঙ্গে সখ্যতার সুযোগে মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সপ্তাহ, মাসিকসহ বিভিন্ন সুবিধা নিয়ে ব্যবসার সুযোগ করে দেয়। আবার কখনও ধরিয়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে ওদের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করে। কখনও কখনও আইনশৃংখলা রক্ষাকারীদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে প্রলুব্ধও করে ফেলে। কখনও মাদক ব্যবসায়ী ধরতে পারলে বা মাদকদ্রব্য উদ্ধার করতে পারলে সোর্স মানি হিসেবে উদ্ধারকৃত মাদকের অংশ দাবি করে। অনেক ক্ষেত্রে সোর্সরাই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে।


একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, কিছুদিন আগে একদিন সন্ধ্যায় একজন মধ্যমসারির সমাজপতির খুব রাগান্বিত স্বরে হঠাৎ ফোন:


ওসি সাহেব, আমার ছেলেকে থানায় নিয়েছেন কেন?


ওনার ছেলের নামটা শুনে নিয়ে বললাম আমি একটু জেনে বলি।


যে অফিসার নিয়ে এসেছে তাকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলাম, ওনার ছেলের কাছে ২ পিস নেশাজাতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া গেছে।


বিষয়টা ওনাকে বলার সঙ্গে সঙ্গে তলে বেগুনে জ্বলে উঠলেন। বললেন- এটা কখনও হতে পারে না, আমার ছেলে মোটেও খারাপ না। সে ওগুলোর সঙ্গে জড়িত হতে পারে না। আপনার অফিসার অসত্য বলছে। আপনি থানায় থাকেন, আমি এক্ষুনি আসছি।


কিছুক্ষণের মধ্যেই গজগজ করতে করতে হাজির হলেন ভদ্রলোক। আমার অফিসার অফিস কক্ষে নিয়ে এল ওনার ছেলেকে। আমার সম্মুখেই ভদ্রলোক রীতিমতো জেরা শুরু করলেন আমার অফিসারকে। থামিয়ে দিয়ে বললাম, কথা বলেন আপনার ছেলের সঙ্গে।


সুন্দর চেহারার উজ্জ্বল ফর্সা কলেজপড়ুয়া ছেলেটিকে দেখে সে ইউরোপিয়ান নাকি পশ্চিমা তা প্রথমে ঠাওর করতে পারলাম না। মুখে দাড়ির স্টাইলটা দেখে মনে হলো সৌদি আরবের রাজা-বাদশা হবে হয়তো। আবার মাথার চুলের স্টাইল যে কাকে অনুকরণ করে করা হয়েছে, তা ঠিক আন্দাজ করতে পারছিলাম না। ডান কানে ঝুলন্ত রিং আর হাতে রাবার ও স্টিলের বালা। ঝুলে ঝুলে হাঁটার ভাব দেখে মনে হলো এখনি পড়ে যাবে। টোটাল স্টাইলটা চোখে লাগার মতো।


বাবার জিজ্ঞাসা: তোমাকে পুলিশ ধরল কেন?


ছেলের জবাব: ড্যাড, আমার কোনো বডি রিকভারি ছিল না।


বডি রিকভারি কথাটা শুনে হকচকিয়ে গেলাম। বুঝলাম যথেষ্ট সমঝদার।


আমার অফিসারকে জিজ্ঞেস করায় সে বলল স্যার, রাস্তার মোড়ের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় পুলিশ দেখে দৌড় দিলে সন্দেহ হওয়ায় কিছু দূর গিয়ে তাকে ধরার সঙ্গে সঙ্গেই সে নিজের পকেট থেকে ২ পিস ইয়াবা বের করে মাটিতে ফেলে দেয়। ইয়াবাগুলো সে সেবন করার জন্যই রেখেছিল বলে উদ্ধারের সময় স্বীকারও করেছিল।


এটা শোনার পরও বিশ্বাস করতে চান না ভদ্রলোক। ওনার ব্যক্তিগত আর পারিবারিক শত্রুতার সঙ্গে পুলিশ হাত মিলিয়ে ষড়যন্ত্র আর চক্রান্ত করছে বলে তিনি জানান।


আমার অফিসারকে জিজ্ঞেস করলাম, ইয়াবা উদ্ধারের সময় কোনো সাক্ষী ছিল কিনা?


তিনি বললেন রাস্তায় অনেক লোক ছিল। তারা দৌড়াতে দেখেছে। তবে ইয়াবা পকেট থেকে ফেলে দেয়ার বিষয়টা ওভাবে কেউ লক্ষ্য করেছে কিনা তা সঠিক বলতে পারব না স্যার।


বুঝলাম ঘটনা সত্য হলেও প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী পাওয়া মুশকিল। তাছাড়া ছেলেটি বয়সে তরুণ, ছাত্র মানুষ। এত মাদকের হাটের মধ্যে মাত্র ২ পিস ইয়াবাসহ মামলা হলে যেমন হাসাহাসি হবে তেমনি এই বয়সে হাজতবাস করলে সে খারাপও হতে পারে। তাই সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণের আইনগত অভাব আর বয়স কম বিধায় মানবিক কারণে সেদিন ওকে কনসিডার করলেও যাওয়ার সময় ওর বাবার রক্তচক্ষুটা খুব দৃষ্টিকটুই লাগল। ছেলেটির ষণ্ডামার্কা চাহনিতেও একধরনের অহংকারবোধ উপলব্ধি করলাম। ভাবটা এমন যে, কি করতে পারলেন?


ঘটনার প্রায় দুই মাস পর ওই ভদ্রলোক একদিন আবার আমাকে ফোন করলেন। এবার অনেক নরম কণ্ঠে বললেন, ভাই আমি কি আপনার সঙ্গে একটু সাক্ষাৎ করতে পারি? বললাম কেন না?


থানায় এসে আমার রুমে গিয়ে সব লোক বের করে দিয়ে দরজা বন্ধ করে কান্না শুরু করলেন। বললেন, ভাই আমার ছেলেটাকে এখনই অ্যারেস্ট করেন। সে নেশা করে, আমার মানসম্মান সব শেষ। নেশার টাকার জন্য আমাকে মারে, আমার স্ত্রীকে মারে, বাসার টাকা-পয়সা উজাড় করে নিয়ে যায়, পড়ালেখা করে না ইত্যাদি ইত্যাদি।


Thursday, May 24, 2018

মার্কিন সিনেটের পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কাছে ক্ষমা চাইলেন ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা তথ্য কেলেঙ্কারি ইস্যুতে মার্কিন সিনেটের পর ইউরোপীয় পার্লামেন্টের কাছে ক্ষমা চাইলেন ফেসবুকের সিইও মার্ক জাকারবার্গ।  

এর আগে মার্কিন সিনেটের সামনে তীব্র প্রশ্নবানের মুখোমুখি হয়েছিলেন তিনি।

ইউরোপে নতুন তথ্য সুরক্ষা আইন চালু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই এ ঘটনাটি ঘটলো।

ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা রাজনৈতিক নেতারা ফেসবুককে গ্রাহকদের তথ্য সুরক্ষা করতে ব্যর্থ হওয়া, ভুয়া খবর, সন্ত্রাসী প্রোপাগাণ্ডা এবং অন্যান্য আপত্তিকর কনটেন্ট শেয়ার করা বন্ধ করতে না পারার অভিযোগে অভিযুক্ত করেন।

নীতি নির্ধারকরা ফেসবুক সিইওকে আরও বলেন, কোম্পানিটি এতোই বড় আর শক্তিশালী হয়ে উঠেছে যে এটা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। এটাকে অবশ্যই তদন্তের আওতায় আনতে হবে এবং ভেঙে ফেলতে হবে।

মিটিংয়ের শুরুতে ইউরোপিয়ান পার্লামেন্টের প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও তাজানি ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকাকে ফেসবুক যেভাবে গ্রাহকদের তথ্যে নিয়ন্ত্রণ দিয়েছিল সেটাকে বিপদজনক বলে অভিহিত করেন।  

তিনি বলেন, বিনামূল্যে সেবায় তথ্য বিনিময়ের প্রক্রিয়ার জন্যই অধিকাংশ ক্ষেত্রে গ্রাহকরা মূল্য দিয়ে থাকেন। যাইহোক গণতন্ত্র কখনোই কারও ব্যক্তি মার্কেটিং অপারেশন হতে পারে না যেখানে কেউ তথ্য কিনতে পারলেই রাজনৈতিক সুবিধা নিতে পারবে।

জবাবে মার্ক জাকারবার্গ বলেন, আমরা আমাদের কর্তব্য বড় পরিসরে ঠিকভাবে পালন করতে পারিনি। এটা ছিল একটা ভুল এবং আমি দুঃখিত।

এছাড়াও প্রশ্নোত্তর পর্বে জাকারবার্গকে ফেসবুকের তথ্য সংগ্রহের অভ্যাস, কর নীতিমালা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেন নেতারা। এছাড়াও অদূর ভবিষ্যতে এমন কোনো তথ্য চুরির ঘটনা ঘটবে কিনা তার নিশ্চয়তা চান উপস্থিত সদস্যরা।

জাকারবার্গ জানান ফেসবুকে ঘৃণাত্মক বক্তব্য, উত্যক্ত করা ও সন্ত্রাসের জন্য কোনো স্থান নেই।

কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার তথ্য কেলেঙ্কারির ঘটনায় ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের তথ্য হাতিয়ে নেয়া হয়েছে। যাদের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশের। এর আগে গত ১০ এপ্রিল মার্কিন সিনেটের সামনে হাজির হয়েছেন জাকারবার্গ। বিপুল পরিমাণ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য চুরির ঘটনায় তাকে সিনেটে তলব করা হয়েছিল।
BdProtidin