Friday, March 1, 2019

ফেসবুক বিনোদন না মানসিক চাপ?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মধ্যে ফেসবুক খুবই জনপ্রিয়। ফেসবুক শুধু যোগাযোগের মাধ্যমই না। তা এখন নিউজ জানা ও বিনোদনের মাধ্যম। তবে সব সময় কি ফেসবুক বিনোদনের মাধ্যম? ফেসবুকের কারণে অনেক সময় আপনার মানসিক চাপও বাড়াতে পারে বলে মনে করে মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা বলেন, ফেসবুক শুধু বিনোদনের মাধ্যম না; তা অনেক ক্ষেত্রে ভয়ের কারণও হতে পারে। কারণ ফেসবুকে আমরা অনেক সময় মৃত ব্যক্তির ছবি দেখি। যেমন পুরান ঢাকায় আগুনের ঘটনায় আমরা যেসব ছবি ফেসবুক ভেসে বেড়াতে দেখেছি তা অনেক মানুষের মানসিক চাপ বাড়াতে পারে। কারণ ভয়ানক কোনো কিছু দেখলে অনেক সময় রাতে আপনি তা স্বপ্নে দেখতে পারেন অথবা ভয় পেতে পারেন। কারণ সব মানুষের ধারণক্ষমতা এক না। কারো মন বেশি নরম আবার অনেক মানুষ বেশি ভয় পায়। তাদের জন্য মৃত ব্যক্তির ছবি ভয়ানক। যা তার মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এ বিষয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. মোহিত কামাল যুগান্তরকে বলেন, ফেসবুক বিনোদনের মাধ্যম। তবে অনেক ক্ষেত্রে ফেসবুক মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যা আপনার মন ও শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।


ঢাকার চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটার পর অনেক ভয়াবহ ছবি আমরা ফেসবুকে দেখেছি। বিশেষ করে এ ব্যাপারগুলোতে শিশুদের চোখ এড়ালে ভালো। ফেসবুকে ক্রমাগত ভয়ানক ছবি বা ভিডিও দেখলে তা মন ও শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে আপনি ভয় পেতে পারেন।


অনেক সময় দেখা যাবে আপনার ঘুম ভেঙে যাচ্ছে নানা দুঃস্বপ্নে। শরীর ও মনে একরকম অস্বস্তি দানা বেঁধে ওঠে।


তিনি বলেন, ফেসবুকে ছবি দেয়ার ক্ষেত্রে আমরা এমন কোনো ছবি দেবে না যা দেখলে আমরা ভয় পাই। এসব বিষয় আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।


তবে ফেসবুক বিনোদন বটে। কারণ আমি নিজের ফেসবুক আইডি আছে। রোগী দেখার পর যখন আমি ক্লান্তবোধ করি তখন বন্ধুরে সঙ্গে চ্যাট করি। একটা কথা মনে রাখতে ফেসবুক ব্যবহারে তখনই ক্ষতি যদি আমরা ফেসবুকের অপব্যবহার করি।


তিনি বলেন, যেসব ব্যক্তিরা মানসিকভাবে নাজুক, অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন, যারা কোনো মানসিক চাপ নিতে পারেন না, কোনো মানসিক সমস্যায় ভুগছেন। এ ধনের মানুষের জন্য ভয়ানক কোনো ছবি বা ভিডিও না দেখাই উত্তম।


যেসব সমস্যা হতে পারে


ঘুম আসতে দেরি হওয়া, ভেঙে ভেঙে ঘুম হওয়া, দুঃস্বপ্ন দেখা, বুক ধড়ফড়, বুকে চাপ বা অস্বস্তি, বুকব্যথা, শ্বাসকষ্ট, হাত–পা ঝিমঝিম করা, কানমাথা হঠাৎ গরম হয়ে যাওয়া, ঘাম ছেড়ে দেওয়া,মাথা ঘোরানো, হাঁটতে গিয়ে ভারসাম্যহীনতা বোধ করা, বমি বমি ভাব, পেটে গ্যাস বা চাপ, হঠাৎ হাত–পা ঠাণ্ডা বা অবশ হয়ে আসা, মুখ শুকিয়ে আসা, অস্থিরতা বোধ করা, হাত-পা কাঁপা, মাথাব্যথা, ঘাড়ব্যথা, শরীরের নানা জায়গায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, ও মৃত্যুভীতি।


এসব সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

Sunday, February 24, 2019

বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে এই ১০টি ভুল কখনোই করবেন না

১) গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে যে রাবার পাইপটি থাকে, সেটিতে ‘বিএসটিআই’ ছাপ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তার সঙ্গে আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখুন। গ্যাসের পাইপটি যেন দৈর্ঘ্যে এক থেকে দেড় ফুটের বেশি লম্বা না হয়। সে ক্ষেত্রে পাইপ পরীক্ষার সময়ে অসুবিধা হবে।

২) রেগুলেটরের নজলটি যাতে পাইপ দিয়ে ভালো করে কভার করা থাকে, তা লক্ষ্য রাখুন। গরম বার্নারের সঙ্গে যাতে গ্যাসের পাইপ কোনোভাবে লেগে না থাকে, তা খেয়াল রাখুন।

৩) পাইপটি নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। কিন্তু ভুলেও সাবান পানি ব্যবহার করবেন না। ২ বছর পরপর অবশ্যই পাইপটি বদলে ফেলুন।

৪) পরিষ্কার রাখার জন্য গ্যাসের পাইপটিকে কোনও রকমের কাপড় বা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস দিয়ে মুড়ে রাখবেন না। সে ক্ষেত্রে পাইপ ফেটে গেলে বা লিক হলে ধরা পড়বে না।

৫) গ্যাস লিক হচ্ছে বুঝতে পারলে বাড়ির কোনও ইলেক্ট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স অন করবেন না। ওভেন, রেগুলেটর বন্ধ করে দরজা-জানালা খুলে দিন।

 ০৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৯

বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার থাকলে এই ১০টি ভুল কখনোই করবেন না


বিডিমর্নিং ডেস্ক

 প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:১০ PM আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০১৯, ১০:১০ PM

১) গ্যাস সিলিন্ডারের সঙ্গে যে রাবার পাইপটি থাকে, সেটিতে ‘বিএসটিআই’ ছাপ থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু তার সঙ্গে আরও একটি বিষয় খেয়াল রাখুন। গ্যাসের পাইপটি যেন দৈর্ঘ্যে এক থেকে দেড় ফুটের বেশি লম্বা না হয়। সে ক্ষেত্রে পাইপ পরীক্ষার সময়ে অসুবিধা হবে।

২) রেগুলেটরের নজলটি যাতে পাইপ দিয়ে ভালো করে কভার করা থাকে, তা লক্ষ্য রাখুন। গরম বার্নারের সঙ্গে যাতে গ্যাসের পাইপ কোনোভাবে লেগে না থাকে, তা খেয়াল রাখুন।

৩) পাইপটি নিয়মিত ভেজা কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। কিন্তু ভুলেও সাবান পানি ব্যবহার করবেন না। ২ বছর পরপর অবশ্যই পাইপটি বদলে ফেলুন।

৪) পরিষ্কার রাখার জন্য গ্যাসের পাইপটিকে কোনও রকমের কাপড় বা প্লাস্টিক জাতীয় জিনিস দিয়ে মুড়ে রাখবেন না। সে ক্ষেত্রে পাইপ ফেটে গেলে বা লিক হলে ধরা পড়বে না।

৫) গ্যাস লিক হচ্ছে বুঝতে পারলে বাড়ির কোনও ইলেক্ট্রিক অ্যাপ্লায়েন্স অন করবেন না। ওভেন, রেগুলেটর বন্ধ করে দরজা-জানালা খুলে দিন।

৬) গ্যাস লিক করার পরে যদি কিছুক্ষণের মধ্যে গন্ধ আসা বন্ধ না হয়, তাহলে গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরের অফিস বা হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করুন। সিলিন্ডার থেকে রেগুলেটর আলাদা করে দিয়ে সিলিন্ডারের মুখে সেইফটি ক্যাপও পরিয়ে দিতে পারেন।

৭) খালি সিলিন্ডার থেকে গ্যাসের রেগুলেটর খোলার সময় আশপাশে কোনও মোমবাতি বা প্রদীপ জাতীয় জিনিস যাতে না জ্বলে, তাও খেয়াল রাখুন।

৮) একটি ঘরে দু’টি সিলিন্ডার রাখার জন্য অন্তত ১০ বর্গফুট জায়গা থাকা জরুরি। এমন জায়গায় সিলিন্ডার রাখবেন না, যেখানে সহজেই তা অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে।

৯)সিলিন্ডারের ওপরে কখনোই কোনও কাপড়, বাসন ইত্যাদি রাখবেন না।

১০) গ্যাসের ওভেনটি সব সময়ে সিলিন্ডারের অন্তত ছয় ইঞ্চি ওপরে রাখুন। ওভেনের ওপর যাতে সরাসরি হাওয়া না লাগে, সেদিকেও লক্ষ্য রাখুন। ব্যবসায়ীদের দোকানের সামনে আনার পর ট্রাক থেকেই রাস্তায় জোরে জোরে ফেলা হয় গ্যাস সিলিন্ডার। অথচ এভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ফেলা বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের অন্যতম কারণ। বাসা-বাড়িতে সিলিন্ডার থাকলে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, তাও জানেন না অনেকে। আমাদের সামান্য অসতর্কতা কেড়ে নিতে পারে বহু মানুষের প্রাণ। রচিত হতে পারে অসংখ্য স্বপ্নের কবর।

Saturday, February 2, 2019

শহর গ্রামে ডিভোর্সের হিড়িক

কি শহর, কি গ্রাম, রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে দেশের সব বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে বিবাহ বিচ্ছেদ বা ডিভোর্সের হার আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে ঢাকার বাইরে অন্যান্য সাত বিভাগেও এই হার উদ্বেগজনক। আশঙ্কার বিষয় সংসার ভাঙার এই হার বিভাগীয় শহরগুলোতে বছর বছর বাড়ছে। আর নিম্নবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত সব শ্রেণি-পেশার মানুষই বিচ্ছেদ ঘটাচ্ছেন।

এ ছাড়া একক পরিবারে থাকা দম্পতিদের যৌথ পরিবার থেকে আসা দম্পতিদের তুলনায় বিচ্ছেদে যাওয়ার হার বেশি। আর বিচ্ছেদের কারণের মধ্যে যে বিষয়গুলো জরিপে উঠে এসেছে সেগুলো হলো- পরকীয়া, ভুল বোঝাবুঝি, সাংসারিক দায়িত্ব পালনে অনীহা, সঙ্গীকে মূল্যায়ন না করা, মাদকাসক্তি, মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন, সন্দেহ প্রবণতা, শ্বশুরবাড়ির লোকদের দুর্ব্যবহার, সন্তান ধারণে অক্ষমতা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসক্তি। এমনকি ‘এন ওভারভিউ অফ দ্য ইফেক্টস অব ডিভোর্স অন কালচার অ্যান্ড সোসাইটি উইদিন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক গবেষণা প্রবন্ধেও উল্লেখ করা হয়, গ্রামাঞ্চলে কম বয়সে বিয়ে হয় অনেকের। এর ফলে বিচ্ছেদের হারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য ও সমাজবিজ্ঞানীদের সঙ্গে আলোচনা করে শহর ও গ্রামাঞ্চলে বিচ্ছেদের বেশ কয়েকটি কারণ চিহ্নিত করা গিয়েছে। এগুলো হলো- মাদকাসক্তি, স্বামী-স্ত্রীর জীবন যাপনে অমিল, অর্থনৈতিক অসচ্ছলতা, নারীর পেশাগত উন্নয়ন এবং আর্থ সামাজিক অবস্থার পরিবর্তন। এ ছাড়াও যৌতুক ও বাল্যবিবাহ বিবাহ বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ। এক সময় পরিবারের কথা চিন্তা করে ও সামাজিক লোকলজ্জার জন্য আপস করে সংসার করলেও নারীরা এখন তারা আপসে রাজি নয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকাতে গড়ে প্রতিদিন ৫০টির ওপর বিচ্ছেদের আবেদন জমা পড়ছে। সিটি করপোরেশনের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে, ২০১১ সাল থেকে ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় বিচ্ছেদের নোটিস পাঠানো হয়েছে ২৪ হাজার ৯১২টি। এর মধ্যে পুরুষরা পাঠিয়েছে আট হাজার ৯৬টি এবং নারীরা ১৬ হাজার ৮১৬টি। অর্থাৎ নারীরা পুরুষের থেকে দ্বিগুণ বিচ্ছেদের আবেদন করছেন। আর ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম মহানগরীতেও বিচ্ছেদের হার আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) হিসাবে প্রতি দুই ঘণ্টায় সেখানে একটি করে সংসার ভাঙছে। ২০১৭ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত চসিকের তথ্যে, সেখানে এক হাজার ৫৭৯টি বিচ্ছেদের আবেদন করা হয়। আর প্রতি মাসে গড়ে ৩৮৪টি আর প্রতিদিন গড়ে ১৫টি বিচ্ছেদের আবেদন করা হচ্ছে, যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়েছে। আবেদনকারীর মধ্যে ৭০ শতাংশই নারী। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যে, দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার সবচেয়ে বেশি রাজশাহীতে। প্রতি হাজারে সেখানে এক দশমিক ৯ জন বিচ্ছেদের আবেদন করেন। রাজশাহীর পরপরই সবচেয়ে বেশি বিচ্ছেদ হচ্ছে খুলনায়। সেখানে প্রতি হাজারে এক দশমিক ৩ জন বিচ্ছেদের আবেদন করছেন। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের তথ্যে, বিচ্ছেদের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় সালিশি বোর্ডের কর্মকর্তারাও হিমশিম খাচ্ছেন। তাদের মতে, মাত্র ২ শতাংশ দম্পতি সালিশি বৈঠকে আসেন। তারা আরও জানান, বিচ্ছেদের আবেদন পাওয়ার পর দুই পক্ষকে প্রতি মাসে শুনানির জন্য ডাকা হলেও ৯০ ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো পক্ষ সিটি করপোরেশন অফিসে আসেন না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. জিনাত হুদা বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতার জন্য নারী নিজেই এখন বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। পারিবারিক বন্ধনের চেয়ে অনেকে নিজের পেশাজীবনকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। ফলে আগের চেয়ে বিচ্ছেদের হার বৃদ্ধি পেয়েছে।

Friday, January 11, 2019

চোখের যত্নে যা করবেন

চোখ মানবদেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এর যত্ন না নিলে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
ফলে নানা ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে চোখের সমস্যা অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে।

যারা নিয়মিত কম্পিউটার ব্যবহার করেন তাদের এ ধরনের সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। এজন্য চোখের প্রতি যত্নবান হতে হবে। চলুন দেখে নিই চোখের যত্নে কী করণীয়:-

 

• প্রতিদিন কাজের ফাঁকে খানিকটা সময় চোখ বন্ধ করে রাখুন। এতে আপনার চোখ স্বস্তি পাবে

• একটানা মনিটরে তাকিয়ে না থেকে ঘন ঘন চোখের পাতা ফেলুন

• দিনে বেশ কয়েকবার চোখে পানির ঝাপটা দিন

• হাতে হাত ঘষে হাতের তালু কিছুটা গরম করে বন্ধ চোখের ওপর ২ মিনিট রাখুন

• সূর্যের ক্ষতিকর আলট্রাভায়োলেট রশ্মি থেকে চোখকে রক্ষা করে এমন সানগ্লাস ব্যবহার করুন

• ঘুমাতে যাওয়ার আগে চোখের মেকআপ তুলে নিন

• নিয়মিত অন্তত ৭ ঘণ্টা ঘুমান

• নির্দিষ্ট সময় পর পর অভিজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে চোখ পরীক্ষা করান

Tuesday, January 1, 2019

ফেসবুকে বিশ্বাস রাখিব কেমনে?

ফেসবুকে বিশ্বাস রাখিব কেমনে?

অর্ণব সান্যাল
 
আপডেট: ০২ জানুয়ারি ২০১৯, ০৯:০৩

ফেসবুকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেকোনো বিরোধিতা সামাল দেওয়ার উপায় জানা আছে মার্ক জাকারবার্গের। শেরিল স্যান্ডবার্গের অবস্থাও তেমনই। সুতরাং জাকারবার্গের সরে যাওয়া অনেকটাই অসম্ভব। ছবি: এএফপিফেসবুকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেকোনো বিরোধিতা সামাল দেওয়ার উপায় জানা আছে মার্ক জাকারবার্গের। শেরিল স্যান্ডবার্গের অবস্থাও তেমনই। সুতরাং জাকারবার্গের সরে যাওয়া অনেকটাই অসম্ভব। ছবি: এএফপিশুধু ক্ষমা চাইতে চাইতেই গত বছরটা কাটিয়ে দিলেন মার্ক জাকারবার্গ। সঙ্গে ছিল সমস্যা কাটিয়ে ওঠার আশ্বাসও। কিন্তু সেই আশ্বাসবাণী বারংবার শুনতে শুনতে বড্ড পানসে হয়ে গেছে। এখন আর ফেসবুকের ব্যবহারকারীরা তাতে আস্থা রাখেন কিনা সন্দেহ! একের পর এক কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত ফেসবুকে বিশ্বাস ধরে রাখাটাই এখন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত মাসে ফেসবুকের নতুন ‘স্ক্যান্ডাল’ প্রকাশিত হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গ্রাহকদের অজান্তেই তাঁদের তথ্য অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কাছে সরবরাহ করেছে ফেসবুক। অন্যান্য প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের তালিকায় আছে—আমাজন, অ্যাপল, মাইক্রোসফট, নেটফ্লিক্স, স্পটিফাই ও ইয়ানডেক্সের মতো প্রতিষ্ঠান। এগুলোকে নিজেদের গ্রাহকদের তথ্যে প্রবেশাধিকার দেয় ফেসবুক।

নিউইয়র্ক টাইমস বলছে, ফেসবুকের ২০১৭ সালের কিছু অভ্যন্তরীণ নথি থেকে এ খবর জানা গেছে। নথিতে দেখা গেছে, বছরের পর বছর ধরে গ্রাহকদের তথ্যে অন্য প্রতিষ্ঠানকে প্রবেশাধিকার দিয়ে আসছিল ফেসবুক। এতে করে সব পক্ষই লাভবান হচ্ছিল। তবে এ নিয়ে ফেসবুক কখনোই গ্রাহকদের সামনে টুঁ শব্দটি করেনি!

২০১৮ সালের শুরুটাও ছিল এমনি। গত মার্চ মাসের ১৭ তারিখে ফাঁস হয় কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কাণ্ড। জানা যায়, লাখ লাখ ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পাওয়া তথ্য দিয়ে মার্কিন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করেছিল কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের প্রতিষ্ঠানটি। ওই ঘটনায় মাত্র কয়েক ঘণ্টায় কমে গিয়েছিল ফেসবুকের স্টক শেয়ারের দাম। এরপর থেকে পুরো বছরজুড়েই নানা ঘটনায় নেতিবাচক আলোচনার কেন্দ্রে থেকেছে মার্ক জাকারবার্গের প্রতিষ্ঠান। গত মার্চের শেষ ভাগেই গড়ে ওঠে ‘ডিলিট ফেসবুক’ আন্দোলন, যা জারি ছিল বছরের শেষ অবধি। এপ্রিলে জানা যায়, ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকার হাতে ছিল ৮ কোটি ৭০ লাখ গ্রাহকের তথ্য। এই গ্রাহকেরা জানতেনই না যে, তাদের তথ্য অন্যের হাতে চলে গেছে।

সিএনএন বলছে, অ্যাপল, মাইক্রোসফট ও স্যামসাংসহ বেশ কিছু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ফেসবুকের তথ্য আদান-প্রদানের সম্ভাবনার কথা যায়। এটি গত ৩ জুনের খবর। গত সেপ্টেম্বরে মার্কিন সিনেট কমিটিকে ফেসবুকের সিওও শেরিল স্যান্ডবার্গ জানান, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে রুশ তৎপরতার বিষয়টি সার্বিকভাবে বোঝা তাঁর প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভব ছিল না। অর্থাৎ ফেসবুক ব্যবহার করে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের বিষয়টি ঠেকাতে পুরোপুরি সফল হয়নি ফেসবুক। ওই মাসেই জানা যায়, নজিরবিহীন সাইবার আক্রমণের শিকার হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি এবং ৩ কোটি ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এরপর ফেসবুকের ব্যর্থতার তালিকা আরও লম্বা করে দেয় ডিসেম্বর মাসটি। নিউইয়র্ক টাইমস বলেছে, মাইক্রোসফটের বিং সার্চ ইঞ্জিন নাকি সব ফেসবুক ব্যবহারকারীদের নাম দেখতে পেত। এই অনুমতি দিয়েছিল ফেসবুক। প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নথিতে দেখা গেছে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত বার্তা দেখার অনুমতি ছিল নেটফ্লিক্স ও স্পটিফাই-এর। অন্যদিকে আমাজনকে ব্যবহারকারীদের নাম ও যোগাযোগের ঠিকানা দেখার অনুমতি দিয়েছিল ফেসবুক।

মার্ক জাকারবার্গ অবশ্য প্রতিবাদ করে বলতেই পারেন, ‘চেষ্টা তো কম করিনি।’ কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, সেই চেষ্টা আদতে কতটুকু আন্তরিক? এই প্রশ্নের সঙ্গে সঙ্গে উঠে গেছে জাকারবার্গের পদত্যাগের দাবিও। অবশ্য সংবাদমাধ্যম ওয়্যারড জানাচ্ছে, ফেসবুকের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যেকোনো বিরোধিতা সামাল দেওয়ার উপায় জানা আছে জাকারবার্গের। শেরিল স্যান্ডবার্গের অবস্থাও তেমনই। সুতরাং জাকারবার্গের সরে যাওয়া অনেকটাই অসম্ভব।

দ্য টাইমসের দাবি, ১৫০ টিরও বেশি কোম্পানির সঙ্গে ফেসবুকের তথ্য আদানপ্রদানের চুক্তি আছে। বলা হচ্ছে, ফেসবুক এর ব্যবহারকারীদের তথ্যে জেনেশুনেই প্রবেশাধিকার দিয়েছিল এবং তার পরিধি ছিল ব্যাপক।

২০১৮ সালে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ নিজে হারিয়েছেন প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার। গত বছর ফেসবুকের স্টক শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ছবি: রয়টার্স২০১৮ সালে ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ নিজে হারিয়েছেন প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার। গত বছর ফেসবুকের স্টক শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ। ছবি: রয়টার্সফেসবুক অবশ্য বছরজুড়েই ভাঙা রেকর্ডের মতো একই কথা শুনিয়ে গেছে। তা হলো—‘ব্যবহারকারীদের কোনো তথ্যের অপব্যবহার হয়নি’, ‘ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রি করা হয়নি’। কিন্তু বিশ্লেষকেরা বলছেন, আদতে অন্য কোম্পানির কাছে ব্যবহারকারীদের তথ্য বিক্রিই করেছে ফেসবুক। হয়তো তথ্যের বদলে ট্যাঁকে ডলার আসেনি, কিন্তু এসেছে অন্যান্য মূল্যবান সুবিধা। এভাবেই চলেছে বিনিময় প্রক্রিয়া। সেটি বিক্রি নয়তো কি?

এত বিতর্ক ও সমালোচনার চড়া মূল্যও দিতে হয়েছে ফেসবুককে। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলছে, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গ নিজে হারিয়েছেন প্রায় ২৩ বিলিয়ন ডলার। সিএনবিসি বলছে, ২০১৮ সালে ফেসবুকের স্টক শেয়ারের দাম কমেছে প্রায় ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ।

এ তো গেল আর্থিক ক্ষতির হিসাব। অন্যদিকে ফেসবুককে ছেড়ে গেছেন হোয়াটসঅ্যাপের সহপ্রতিষ্ঠাতা জান কোউম। বিদায় বলে দিয়েছেন ইনস্টাগ্রামের সহপ্রতিষ্ঠাতা কেভিন সিসট্রম ও মাইক ক্রিগারও। এ ছাড়া ফেসবুকের নেতৃস্থানীয় কর্মীদের অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন সাধের প্রতিষ্ঠান। শুধু চলে গিয়েই ক্ষান্ত হননি তাঁরা, গলা চড়িয়েছেন সমালোচনাতেও।

নিন্দুকেরা বলছেন, জাকারবার্গের ফেসবুক এখন ‘অত্যন্ত ধনী’ ও ‘ক্ষমতাবান’ একটি প্রতিষ্ঠান। হাবভাবে মনে হচ্ছে, কাউকেই পরোয়া করছে না এটি। প্রশ্ন হলো—ফেসবুক কি পৃথিবীকে আরও নিরাপদ করবে? নাকি ক্ষমতাবান করপোরেশনের মতো রোজগারের জন্য যা খুশি তাই করবে?

২০১৮ সাল নিয়ে মার্ক জাকারবার্গ বলেছেন, গত বছরের সমস্যাগুলো ঠিক করতে এক বছর সময় লেগে যেতে পারে। না পারলে হয়তো এবারও ক্ষমা চেয়ে নেবেন। দিন শেষে ব্যবহারকারীদের বলে দেবেন, ‘উই আর সরি’!



থার্টিফার্স্ট ২০১৯

ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত ১২টা ১ মিনিট। বিটের তালে তালে কেঁপে উঠছে চার দেয়াল। বিশাল পার্টি রুমের চারদিকে লেজার লাইটের ঝলকানি। বাজছে ইংরেজি, হিন্দি গান। মঞ্চের সামনে তরুণদের সঙ্গে বেসামাল হয়ে নাচছেন স্বল্প বসনা তরুণীরা। আর মঞ্চ থেকে তাদের উৎসাহ দিচ্ছেন ডিজে তরুণীরা। এক হাতে হুইস্কির গ্লাস আর অন্য হাতে সিগারেট। ডিজে তরুণীদের জড়িয়ে কম যাননি সেখানে উপস্থিত তরুণরা।

কেউ কেউ মিউজিকের তালে তালে নেচে আবার কেউবা ভালোবাসার মানুষটিকে জড়িয়ে বরণ করে নেন নতুন বছরকে। 

সোমবার রাতে ইংরেজি নববর্ষ-২০১৯ কে বরণ করে নিতে এমনটাই ছিল রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলের চিত্র। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব ও পরবর্তী সময়ে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাই এবারের ইংরেজি নববর্ষ অনেকটা সীমিত পরিসরে বরণ করে নিতে হয়েছে। চার দেয়ালের বাইরে থার্টিফার্স্টের কোনো অনুষ্ঠান করা যাবে না বলে আগেই জানিয়েছিল ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তাই ঢাকা শহরের কোথাও উন্মুক্ত স্থানে, ছাদে, রাস্তার মোড়ে কোথাও থার্টিফার্স্টের আয়োজন করতে দেখা যায়নি। তবে ঢাকা শহরের সবক’টি অভিজাত হোটেল, ক্লাবে থার্টিফার্স্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এ ছাড়া অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ছাড়াও আরো বেশ কিছু বাসায় নতুন বছরকে বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরণ করা হয়েছে। 

খিলক্ষেত এলাকার তারকা হোটেল ঢাকা রিজেন্সি। সন্ধ্যার পর থেকে এই হোটেলে আনাগোনা বেড়ে যায় অভিজাত ঘরের তরুণ-তরুণীদের। নতুন বছরকে বরণ করে নিতে হোটেলটির ১৪ তলায় আয়োজন করা হয় ডিজে পার্টির। সেখানে দেখা যায় উচ্চ শব্দে স্পিকারে বাজছিল গান। গানের তালে তালে চলতে থাকে ফ্যাশন শো, লাতিন, বেলে ড্যান্স। তরুণদের কারো হাতে হুইস্কি আবার কারো হাতে বিয়ারের ক্যান। স্বল্প বসনা তরুণীরা তখন চেপে আছেন তাদের বুকে। মদ খেতে খেতেই তারা নাচছিলেন। মাতাল হয়ে অনেক তরুণ-তরুণী  দিশহাারা হয়ে পড়েন। 

ঘনিষ্ঠজনরা তাদের অন্যত্র নিয়ে যান। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় রিজেন্সির দৃশ্য। বিভিন্ন বয়সের, নানান শ্রেণি-পেশার মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। রাত ১টার দিকে ড্যান্স ফ্লোরে পুরুষদের নেচে নেচে আনন্দ দিচ্ছিলেন ডিজে তরুণীরা। থার্টিফার্স্টের এই রাতটি ছিল তাদের কাছে আনন্দঘন ও উন্মাদনায় হারিয়ে যাওয়ার এক রাত। রিজেন্সিতে কথা হয় ডিজে তরুণী জিসির সঙ্গে। জিসি রাজধানীর একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। ছোটবেলা থেকে নাচের সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। স্বপ্ন ছিল দেশের মধ্যে বড় একজন নৃত্য শিল্পি হবেন। কিন্তু নানা কারণে তা আর হয়ে ওঠেনি। বাবা মারা যাওয়ার পর সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খান তার মা জিনিয়া সুলতানা। 

তাই বাধ্য হয়ে পরিবারের হাত ধরেই তিনি বিভিন্ন হোটেলের পার্টিতে নাচেন। প্রথম দিকে খাপ খাইয়ে নেয়াটা ছিল কষ্টকর। কিছুদিন যাবার পর এধরনের পরিবেশের সঙ্গে তিনি মানিয়ে নেন। এখন ঢাকা শহরের অনেক পার্টিতেই তার অনেক চাহিদা আছে বলে জানান জিসি। জিসি বলেন, এই কাজে নানা প্রতিবন্ধকতা আছে। অনেক পুরুষই খারাপ প্রস্তাব দেয়। তারা আমাকে যা ভাবে আমিতো সেরকম না। ডিজে তরুণী সাইমা বলেন, আমার কয়েকজন বান্ধবী আগে থেকেই পার্টিতে নাচত। আমি নাচ না পারাতে আর যাওয়া হতো না। কিন্তু আমার বান্ধবীরা আমাকে গাইড লাইন দিয়ে শিখিয়ে নেয়। তারপর থেকে এ পথে চলে আসা। তিনি বলেন, পরিবারের অর্থনৈতিক চাহিদা মেটাতে আমি এই কাজ করি। থার্টিফার্স্ট ছাড়া যে কোনো ধরনের পার্টিতে অংশগ্রহণ করি। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, থার্টিফার্স্ট নাইটকে কেন্দ্র করে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন কয়েক শতাধিক ডিজে তরুণ-তরুণী। থার্টিফার্স্টের পার্টিতে আসা অতিথিদের মনোরঞ্জন করার জন্য তারা গত এক মাস ধরে তৈরি করে নিয়েছেন নিজেকে। এদিকে রাজধানীর অনেক হোটেলে ও বাসায় অনেকটা ঘরোয়া পরিবেশে থার্টিফার্স্টের আয়োজন করা হয়েছিল। এমন ঢাকার আশেপাশের এলাকার অনেক হোটেল-রিসোর্টে দেখার মতো আয়োজন ছিল। চার দেয়ালের ভেতরে হলেও সেখানে আমোদ-ফুর্তির কমতি ছিল না। গাজীপুরের একটি রিসোর্টে  গিয়ে দেখা যায় সেখানে বেশ জাঁকজমক ভাবেই পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। বিভিন্ন শেণি-পেশার অন্তত শতাধিক নারী-পুরুষ সেখানে উপস্থিত হয়েছেন। গভীর রাতে সেখানে গিয়ে দেখা যায় বিটের তালে তালে শরীর দুলিয়ে নাচছিলেন কয়েকজন তরুণী। উল্মাতাল নাচে গানে তারা বরণ করেন নতুন বছরকে।

Wednesday, November 14, 2018

যৌন আসক্তি ও একজন নীলার স্বীকারোক্তি- প্রথম পর্ব

মধ্য এশিয়ায় ১৫ বছর কাটিয়ে যুক্তরাজ্যে নীলার প্রথম চাকরি ছিল একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ট্রেডিং ফ্লোরে। তার ভাষায়, এই প্রতিষ্ঠানে পুরুষদের আধিপত্য বেশি, যারা কিনা বোনাসই কামান মিলিয়ন পাউন্ডের অঙ্কে। পুরো দলে মাত্র দু’ জন নারী ছিলেন। একজন নীলা। তাদের পুরুষ সহকর্মীরা প্রায়ই সভাকক্ষের বড় পর্দায় পর্নোগ্রাফি চালিয়ে তাদেরকে উত্তেজিত করার চেষ্টা করতেন। অথচ, এই বড় পর্দার কাজ হলো বাজারদরের তথ্য প্রদর্শন করা।
নীলা বলেন, ‘আমার এটা পছন্দ হয়নি। কিন্তু আমার ক্যারিয়ার সবে শুরু হয়েছে। শহরে মাত্র নিজের জায়গা করে নিচ্ছি।

https://www.youtube.com/watch?v=LUwj1-1-M1Q



বেতনও পেতাম ভালো। চাকরিটাও আকর্ষণীয়। আমি এই চাকরি হারাতে চাই নি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানতাম অফিসের পুরুষরা আমার কাছ থেকে প্রতিক্রিয়া আশা করতেন। তারা আমাকে বিস্মিত করে দিতে চাইতো। পর্নো দেখে যাতে হতভম্ব না হই, সেজন্য আমি বাসায় ফিরে নিজেই পর্নো ভিডিও দেখতে শুরু করলাম। যাতে করে অভ্যস্ত হয়ে উঠি। অফিসের প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারি।’
কিন্তু খুব দ্রুতই নীলা পটে গেলেন। সামাজিকভাবে রক্ষণশীল আবহে তার বড় হয়ে উঠা। তার পরিবারে যৌনতা নিয়ে কখনই আলোচনা হয় নি। ফলে ওই পরিস্থিতিতে ‘অসহায়’ হয়ে পড়েন তিনি।
প্রতিদিনই তিনি ভাবতে থাকেন বাসায় কত দ্রুত যাবেন। গিয়ে পর্নো ভিডিও দেখবেন আর সেক্স টয় নিয়ে স্বমেহন করবেন।
তার ভাষায় প্রক্রিয়াটা এমন: ‘প্রথমে বেশ ধীরে শুরু হয়। আপনি উত্তেজিত হয়ে উঠেন। এরপর আপনি দেখতে থাকবেন। পাশাপাশি নিজের সরঞ্জাম নেওয়া শুরু করবেন। এমন উত্তেজনাকর কিছু দেখে আপনার সকল অনুভূতি বেশ তীব্র হয়ে উঠবে। আপনার মন চলে গেল হাতের দিকে। ওই যন্ত্রের বাটন না চাপলে শান্তি হবে না। আপনি জানেন যে, আপনিই এটার নিয়ন্ত্রণে আছেন। আপনার সুখানুভূতির নিয়ন্ত্রণে। আর এটার মাধ্যমে যে ধরণের অরগাজম হবে, তা অন্য কোনো মানুষের কাছ থেকে পাওয়া যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘স্বমেহন শুরু ও শেষ হতে বড়জোর ৫ থেকে ১৫ মিনিট সময় লাগে। কিন্তু আপনি এরপর লেগে থাকবেন এতে। কারণ, এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থেকে আপনি বেরোতে চান না। এটা যেন নেশার মতো।’
এই পদ্ধতিতে তিনি সপ্তাহের প্রতিটি দিন গড়ে ২-৩ ঘণ্টা করে পর্নো দেখতেন। তার ব্যবহার ক্রমেই পীড়নকর হয়ে উঠলো। তিনি যদি পর্নো দেখতে না পারতেন, তাহলে মন আকুল হয়ে উঠতো। পুরো বিষয়টি তার জন্য যতই ক্ষতিকর হচ্ছিল, ততই তিনি বিষয়টির পক্ষে নিজের মনকে বোঝাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করতেন। তিনি নিজেকে নিজে বলতেন, ‘পুরো বিষয়টি নিরাপদ। পর্নো দেখে আপনার যৌন রোগ হওয়ার সম্ভাবনা নেই। আপনার এত কষ্ট করে মেইক আপ করতে হবে না। আপনার শর্তানুযায়ীই সব হবে, কিন্তু ফলাফল একেবারে শতভাগ নিশ্চিত।’
কিন্তু এই শতভাগ নিশ্চিত ফল পেতে তার পর্নো দেখার অভ্যাস ক্রমেই বাজে হয়ে উঠলো। তিনি ক্রমেই তীব্র থেকে তীব্রতর পর্নো দেখতে লাগলেন। তার ভাষ্য, ‘প্রথম প্রথম আপনি হয়তো সাধারণ পর্নো দেখবেন। কিন্তু কয়েকদিন পর এটাতে আর কাজ হবে না। আপনি এ ধরণের পর্নোতে অভ্যস্ত হয়ে যাবেন। এটা যেন মাদক সেবনের মতো। ডোজ বাড়াতে হবে আপনাকে। ফলে আপনি আরও কড়া ধাঁচের পর্নো দেখতে থাকবেন।’ 
নীলার কাছে এক পর্যায়ে বিষয়টি বেশ অস্বস্তিকর হয়ে উঠলো। তিনি নিজেই চিন্তিত হয়ে উঠলেন, তিনি কি তাহলে বিকৃত মস্তিষ্কের কেউ!
যারাই নিজেকে যৌন আসক্ত মনে করেন তাদের এই মনোভাবের পেছনে এই লজ্জা একটি বড় কারণ। এই লজ্জাবোধের কারণে নিজেদেরকে যেমন আড়াল করে ফেলতে ইচ্ছা করে, তেমনি ওই তাড়নাও আরও জাগ্রত হয়ে উঠে। নীলার ভাষায়, ‘এ যেন উত্তেজিত হওয়া ও লজ্জার সংমিশ্রণ।’
পর্নো দেখার ফলে পুরুষের প্রতিও নীলার আচরণ পরিবর্তিত হয়ে উঠলো। অর্থাৎ, তিনি যখন সম্ভাব্য সঙ্গী খুঁজতেন, তখন তাদের ব্যক্তিত্ব ও চরিত্র একেবারেই অপ্রাসঙ্গিক হয়ে উঠলো। তিনি বলেন, ‘আমি যেন লোকটার শার্টের ভেতর দিয়ে দেখার চেষ্টা করতাম তার শরীরটা সিক্স-প্যাক কিনা। যুক্তরাজ্যের পুরুষদের গোপনাঙ্গের যে গড় আকার, তা আমার জন্য যথেষ্ট ছিল না। কিন্তু এটা তো জীবনসঙ্গী বাছার ভালো কোনো উপায় নয়।’ এ কারণে বেশ কয়েকটি ব্যর্থ সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। 
একসময় নীলা আবিষ্কার করলেন, আগের কোনো ধরণেরই পর্নো ফিল্ম তাকে আকৃষ্ট করে না। তিনি এখন উত্তেজিত হওয়ার জন্য সেসব ছবি দেখতে বাধ্য হচ্ছেন যেখানে নারীদের প্রতি সহিংস আচরণ করা হয়। এই বিষয়টি ভেবে তিনি আতঙ্কিত হয়ে উঠেন।
তিনি বলেন, ‘আমি নিজেকে জিজ্ঞেস করতে বাধ্য হলাম, এরপর আমি আর কত নিচে নামবো? আমি কি এরপর মানুষ খুনের ভিডিও দেখবো আমার আসক্তি কাটানোর জন্য?’
নীলা এরপর লন্ডন ছেড়ে যান। তিনি নিজেকে একজন মানসিক পরামর্শদাতা হিসেবে প্রশিক্ষিত করে তোলেন। বর্তমানে তার বয়স চল্লিশের কোটায়। 
যেসব রোগী নিজেকে যৌন আসক্ত বলে মনে করেন তাদের চিকিৎসায় তিনি অভিজ্ঞ। মধ্য লন্ডনের লরেল সেন্টারে তিনি কাজ করেন। যুক্তরাজ্যে অল্প যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এ ধরণের বিশেষ চিকিৎসা সেবা দেয় তার মধ্যে এটি একটি।
কিন্তু এই চিকিৎসা পেতে হলে আপনাকে মোটা অঙ্কের অর্থ গুনতে হবে। কারণ, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা কর্তৃপক্ষ যৌন আসক্তিকে রোগ হিসেবে এখনও স্বীকৃতি দেয় না। তবে অনুমান করা হয় যে, যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর হাজার হাজার না হলেও শ’ শ’ রোগী এই চিকিৎসা নিচ্ছেন। এদের বড় অংশই পুরুষ।
(এই নিবন্ধটি বিবিসি থেকে নেওয়া হয়েছে। আগামী পর্বে সমাপ্য।)